আলমডাঙ্গার অনাহারী আফু-রেশপতি দম্পতির দায়িত্ব¡ নিলেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম
- আপলোড তারিখঃ
০৬-১০-২০২১
ইং
সমীকরণ প্রতিবেদন:
আলমডাঙ্গায় অনহারি আফু-রেশপতি দম্পত্তির দায়িত্ব নিলেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে পুলিশ সুপার দুই মাসের জীবনযাপন সামগ্রী নিয়ে ওই দম্পত্তির বাড়িতে যান।
জানা গেছে, আফাজ উদ্দিন ওরফে আফুর প্রথম স্ত্রীর ২ ছেলে ও দ্বিতীয় স্ত্রীর ৩ ছেলে, ৪ মেয়ে। ২য় পক্ষের ছেলেরা কৌশলে আফুর সমস্ত সম্পত্তি লিখে নেয়। এতে অন্য সন্তানরা ক্ষুদ্ধ হয়ে বাবা-মায়ের খোঁজখবর নেওয়া বন্ধ করে দেয়। যার ফলে আফাজ উদ্দিন ওরফে আফু ও তার স্ত্রী রেশপতি বেগম আলমডাঙ্গা থানাধীন জেহালা ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের রাস্তার পাশে একটি টিনশেড ঘরে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন। বছর তিনেক আগে রেশপতি বেগম প্যারালাইজড হয়ে শয্যাশায়ী অবস্থায় আছেন। বর্তমানে কোনো পক্ষের সন্তানই আফু-রেশপতির খোঁজখবর নেয় না।
খবর পেয়ে পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম গতকাল মঙ্গলবার দুই মাসের জীবনযাপন সামগ্রী নিয়ে ছুটে যান আলমডাঙ্গা থানার কৃষ্ণপুর গ্রামের অসহায় আফু- রেশপতি দম্পতির কাছে। পুলিশ সুপারকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন আফু-রেশপতি দম্পতি। পুলিশ সুপার তাদেরকে পিতা-মাতার মর্যাদায় জীবনযাপনের দায়িত্ব গ্রহণ করে নতুন পোশাক, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য, চিকিৎসার ওষুধসহ নগদ অর্থ প্রদান করেন। সেখানে আফু-রেশপতি দম্পতির সাথে পুলিশ সুপার আবেগঘন কিছু সময় কাটান এবং তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যেকের উচিত পিতা-মাতাকে সর্বোচ্চ সম্মান দিয়ে খেদমত করা।’
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আনিসুজ্জামান, আলমডাঙ্গা থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম, জেহালা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হান্নানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এসময় পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম বলেন, চুয়াডাঙ্গাবাসীর যেকোনো প্রয়োজনে তাঁর দুয়ার ২৪ ঘণ্টা খোলা। তিনি সমাজের সর্বস্তরের সামর্থ্যবান মানুষকে অসহায় সুবিধাবঞ্চিতদের দিকে একটু সুদৃষ্টি দেওয়ার আহবান জানান। এসময় তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ সকল বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।
কমেন্ট বক্স