রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

গরু নিয়ে কাণ্ড, ভোগান্তিতে প্রকৃত মালিকরা

  • আপলোড তারিখঃ ৩১-০৮-২০২১ ইং
গরু নিয়ে কাণ্ড, ভোগান্তিতে প্রকৃত মালিকরা
প্রতিবেদক, কালীগঞ্জ: গরু ফেরত পেতে এবার আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের চারজন গরু মালিক। চোরেদের ফেলে যাওয়া ছয়টি গরু পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছিল পুলিশ। এরপর চার ব্যক্তি সেই গরুর মালিকানা দাবি করলেও পুলিশ গরু না দিয়ে সঠিক মালিকানা নিশ্চিত করতে আদালতের আশ্রয় নেয়। এতে আইনের জটিলতায় পড়ে যান মালিকগণ। শেষে বাধ্য হয়ে মালিকগন গত ২৩ আগস্ট আদালতের দ্বারস্থ হলে ২৬ আগস্ট পুলিশ তার তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেছে। এ নিয়ে পুলিশের ভাষ্য, চারজন ছাড়াও একাধিক ব্যক্তি গরুর মালিকানা দাবি করায় তারা আদালতের দ্বারস্ত হয়েছে। আর মালিকানা দাবিকৃতদের ভাষ্য তারা ৪জন ছাড়া অন্য কেউ গরুর দাবি করেনি। তারপরও পুলিশ তাঁদেরকে গরু ফেরত না দিয়ে আদালতে পাঠিয়ে নাজেহাল করেছে। বর্তমানে ওই গরুগুলি ঝিনাইদহ কোর্টের হেফাজতে রয়েছে। গরুর মালিকানা দাবি করে আদালতের দ্বারস্থ চার ব্যক্তি হলেন- কালীগঞ্জ পৌর এলাকার মধুগঞ্জ বাজারের এনামুল হক ঈমানের তিনটি, মুন্নার একটি, ঢাকালে পাড়ার পারভেজ রহমান রচির একটি ও পৌরসভার পানির লাইনের কর্মচারী নুর ইসলামের একটি গরু। উল্লেখ্য, গত ১৮ আগস্ট কালীগঞ্জ উপজেলার দুলালমুন্দিয়া গ্রামের একটি বাঁশ বাগান থেকে পুলিশ পরিত্যক্ত অবস্থায় ছয়টি গরু উদ্ধার করে। যার মূল্য প্রায় ৪ লাখ টাকা। আদালতে প্রতিবেদন দাখিলকারী কালীগঞ্জ থানার এসআই সুজাত হোসেন জানান, ১৮ আগস্ট উদ্ধারকৃত ৬টি গরু থানায় আনার পর জিডি ও পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন থানায় বেতার বার্তা প্রেরণ করা হয়। সেই সাথে প্রকৃত গরুর মালিকদের প্রমাণাদিসহ থানায় যোগাযোগের আহ্বান জানান। তিনি জানান, এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন এলাকা থেকে একাধিক মানুষ গরুগুলো দেখতে আসেন। এসময় স্থানীয় চারজন ছাড়াও একাধিক ব্যক্তি মৌখিকভাবে গরুগুলোর মালিকানা দাবি করছিল। এতে দ্বিধা-দ্বন্দে পড়ে পুলিশ বাধ্য হয়েই পরদিন গরুর মালিকানা নিশ্চিত করতে একটি জব্দ তালিকা করে ঝিনাইদহে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। এ ঘটনায় দাবিকৃত মালিকগণের আদালতে দায়ের করা অভিযোগের প্রতিবেদনটির তদন্তের জন্য গত ২৫ আগস্ট থানাতে আসে। তিনি পুনরায় তদন্ত শেষে পরদিনই ওই প্রতিবেদনের জবাব আদালতে দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনে পুলিশ উল্লেখ করেছে, গরুর দাবিকৃত মালিকগন উপযুক্ত প্রমাণদি দেখাতে পারেনি। তাই উপযুক্ত প্রমাণাদি দিয়েই প্রকৃত মালিকগণ আদালত থেকে গরুগুলি গ্রহণ করবেন। গরু ফেরত পেতে আদালতের আশ্রয় নেওয়া গরু মালিকদের মধ্যে মধুগঞ্জ বাজারের এনামুল হক ঈমান জানান, পুলিশের উদ্ধারকৃত গরুগুলির মালিক তাঁরা চারজনই। উদ্ধারের পর থেকেই তারা বারবার থানাতে গেলেও গরু ফেরত দেয়নি পুলিশ। উল্টো দু’দিন পর থানা থেকে তাদেরকে জানিয়ে দেওয়া হয় আদালত থেকেই গরু নিতে হবে। তাই বাধ্য হয়েই তাঁরাও আদালতের দারস্ত হয়েছেন। পরবর্তীতে পুলিশের আদালতে পাঠানো তদন্ত প্রতিবেদনেরও পাল্টা নারাজি পিটিশন দিয়েছেন মালিকগণ। ক্ষতিগ্রস্ত গরু মালিকেরা আরও জানান, গরুর মালিক নির্ধারণে কী কী প্রমাণপত্র দিতে হবে, তা তারা বুঝে উঠতে পারছেন না। অথচ ভাগ্যক্রমে চোরেদের কবল থেকে গরুগুলি রক্ষা পেলেও এখন আইনি জটিলতায় থানা পুলিশের ভোগান্তিতে নাজেহাল হচ্ছেন। কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহফুজুর রহমান মিয়া জানান, গরু পাওয়ার পর থেকে অনেকেই মালিকানা দাবি করে আসছেন। এমন পরিস্থিতিতে পড়ায় গরুগুলোর জব্দ তালিকা করে কোর্টে পাঠানো হয়েছে। প্রকৃত মালিকগণ সেখানে প্রমাণ দিয়ে গরু নিয়ে যাবেন।


কমেন্ট বক্স
notebook

জীবননগরের কৃতি সন্তান এসআই আশরাফুল আলম পেলেন পিপিএম পদক