কালীগঞ্জে গ্রীষ্মকালীন শিম চাষে বাজিমাত কৃষকের
- আপলোড তারিখঃ
০৭-০৮-২০২১
ইং
প্রতিবেদক, কালীগঞ্জ:
মাঠে কাজ করছেন কৃষক। কখনো রৌদ আবার কখনও বৃষ্টি। এরই মধ্যে চলছে বেসুরে গলায় বিভিন্ন সুরের গান। এবার খেতে গ্রীষ্মকালীন শিম চাষে ভালো মুনাফা পাওযায় বেশ আনন্দে কাজ করছেন তাঁরা। বর্তমানে খেতেই সদ্য ফোটা রুপভান শিম ফুলে যেন এক অপরুপ সৌন্দর্য্যরে সৃষ্টি হয়েছে। সাথে ছড়ায় ছড়ায় ঝুলছে শিম। সেই খেতে কাজ করছেন কৃষকরা।
মহামারি করোনার ভয়াবহতার মধ্যেও তাদের কণ্ঠে যেন বইছে আনন্দের সুর। চোখে পড়ার মতো এমন দৃশ্যটি এখন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সুবিতপুর গ্রামের মাঠে। খেতে কাজে এসে প্রচণ্ড রোদে পুড়লেও নেই তাঁদের কোনো ক্লান্তি। কারণ, এবারের অসময়ের শিম চাষে বাম্পার মূল্য পাচ্ছেন কৃষকেরা। কৃষকদের ভাষ্য, এ শিমগাছ বৃষ্টি সহিঞ্চু। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি শিম ১ শ থেকে ১২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ হিসাবে এবার প্রতি বিঘায় খরচ বাদে প্রায় লাখ টাকা আয় করবেন বলে তাঁরা আশাবাদী।
সরেজমিনে উপজেলার রাখালগাছী ইউনিয়নের সুবিতপুর গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, অনেক কৃষকই তাঁদের খেতে অসময়ের রুপভান শিমের চাষ করেছেন। ওই গ্রামের সবজি চাষি বাপ্পারাজ জানান, শিম সাধারণত শীতকালীন সবজি। এর আগে বর্ষাকালে চাষ হতো না। কিন্তু ভিন্ন জাতের এ শিম এখন বারোমাস চাষ করা যায়। সেই গ্রামের কৃষক রফিউদ্দিন, শহিদুল ইসলাম, হাসেম আলী, ইমরান হোসেন, হারুন অর রশিদ, রহমত, পান্নু রহমান, আব্দুল সাত্তারসহ অনেক কৃষক প্রায় অর্ধশত বিঘা জমিতে গ্রীস্মকালীন এ জাতের শিম চাষ করছেন।
ওই গ্রামের শহিদুল ইসলামসহ শিম আবাদ করা কৃষকরা জানান, অসময়ের আবাদ করা এ শিম নতুন সবজি হিসেবে বাজারে বেশ চাহিদা। দামও বেশি থাকে। খেতেও ভালো ফলন হচ্ছে। তাঁরা জানান, রুপভান জাতের এই শিম চাষ করতে প্রতি বিঘা জমিতে বীজ, সার, কীটনাশক ও মাঁচার টাল দেওয়া বাবদ প্রায় ১৮-২০ হাজার টাকা খরচ হয়ে থাকে। আষাড় মাসের প্রথম দিকে এ শিমের বীজ বপন করতে হয়। পরবর্তীতে চারা গজানোর ২৫ থেকে ৩০ দিনের মাথায় ফুল আসে। এরপর দেড় মাস পর থেকেই শিম তোলা শুরু হয়। প্রতি তিন থেকে ৪ দিন পরপর শিম তুলে বাজারে বিক্রি করা হয়। একটানা ৬ মাস পর্যন্ত খেত থেকে শিম উঠানো যায়।
কৃষকরা আরও জানান, বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি শিম ১ শ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে শীত মৌসুম শুরু হলেই এ শিমের বাজার মূল্য কমে যাবে। তারপরও সব মিলিয়ে তাঁদের জমিতে অসময়ের এ শিম চাষে বিঘা প্রতি প্রায় লাখ টাকা মুনাফা পাবেন বলে আশাবাদী।
কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিকদার মোহায়মেন আক্তার জানান, এ বছর উপজেলার বেশ কিছু এলাকার কৃষকেরা জমিতে শিমের চাষ করেছেন। অসময়ের শিম হওয়ায় দামও ভালো পাচ্ছেন। ফলে কৃষকেরা দিন দিন শিম চাষে ঝুঁকছেন।
কমেন্ট বক্স