আগাম ফুলকপি চাষে ঝুঁকছেন কৃষকেরা
- আপলোড তারিখঃ
০১-০৭-২০২১
ইং
হেলাল উদ্দীন, জয়রামপুর:
ফুলকপি শীতকালীন একটি জনপ্রিয় সবজি। কিন্তু ফুলকপি শীতকালীন সবজি হলেও এখন গ্রীষ্মকালেও তথা আগাম ফুলকপি চাষ করছেন দামুড়হুদা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের চাষিরা। সেসব গ্রামের চাষিদের দেখা-দেখি তথা তারই ধারাবাহিকতায় ফুলকপি চাষের দিকে ঝুঁকছেন দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের বিভিন্ন মাঠের চাষিরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, জয়রামপুর গ্রামের কুমারীদহ মাঠে কৃষক মতি মিয়া (৩৫) শ্রমিক নিয়ে আগাম ফুলকপির বেড তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। মতি মিয়া বলেন, ‘আমার বিভিন্ন ফসলে দীর্ঘদিন ধরে লস হচ্ছে। আমার পাশের গ্রামের এক কৃষক ভাই আগাম ফুলকপি চাষের কথা বলে। আমি তার কথায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এবং বীজ কোম্পানির কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী হাইব্রিড আইস বল এফ-১ ফুলকপির বেড তৈরি করছি আশা করা যায় চারা ভালো হলে ভালো ফুলকপি হবে।’
জয়রামপুর কুমারীদহ মাঠের আরেক ফুলকপি চাষি মো. হাফিজুর রহমান (৪০) বলেন, ‘আমি গত বছর থেকে ফুলকপি চাষ শুরু করেছি। অল্প সময় তথা ৪ মাসে এই আগাম সবজিটি বাজারজাত করা সম্ভব, বেশ ভালো দামও পাওয়া যায়। এবারও যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে তবে ভালো লাভ হবে আশা রাখি।’
জয়রামপুর আমতলা মাঠের আগাম ফুলকপি চাষ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে ফুলকপি চাষি আক্কাস আলী (৩৫) বলেন, ‘ফুলকপি চাষে বিঘা প্রতি মোট খরচ হয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। আমি কৃষি কর্মকর্তা ও বীজ কোম্পানির কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী ফুল কপি চাষ করে থাকি। প্রতিবছর খরচ-খরচা বাদ দিয়ে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা লাভ হয়। আশা রাখি যদি রোগ-বালাই এবং আবহাওয়া ভালো থাকে তবে এবারও লাভের আশা করে বীজতলা তৈরি করছি।’
দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, দামুড়হুদা উপজেলার প্রত্যেক মাঠ সবজি তৈরির উর্বর ভূমি। আগাম ফুলকপি চাষে আমরা কৃষককে গত কয়েক বছর ধরেই উদ্বুদ্ধ করছি। এবং এ বছর ফুলকপি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৬৭ হেক্টর জমি। সে অনুযায়ী এ বছর আগাম ফুলকপি চাষের জন্য কৃষককে বিভিন্ন মাঠে যেয়ে কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং বীজতলা কীভাবে তৈরি করতে হবে, সে বিষয়ে মরামর্শ দিয়ে আসছি। আশা করা যায়, সে অনুযায়ী তারা যদি পরিচর্যা করে, তবে ভালো ফলন পাবে। এবং প্রত্যেক বীজ ভান্ডারে আমাদের সহকারী কৃষি অফিসারের নম্বর দেওয়া আছে, যেকোনো পরামর্শ নেওয়ার জন্য এবং কৃষক যদি উপজেলা কৃষি অফিসে আসে, আমরা যেকোনো মরামর্শ দিতে বাধ্য। প্রয়োজনে আমরা কৃষি জমিতে যেয়ে পরামর্শ দিয়ে আসব।’
তিনি আরও বলেন, কৃষকের বিশেষ করে ফুলকপি বা বাঁধাকপি চাষে আগ্রহী বাড়াতে সরকারি দপ্তরের কোনো প্রণোদনা বা সাহায্য-সহযোগিতা নেই। এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজী আলী আজগর টগর মহোদয়ের সাথে কথা বলেছি, তিনি যেন দামুড়হুদার সবজি চাষি কৃষকদের জন্য সরকারি সাহায্য-সহযোগিতার বিষয়টি জাতীয় সংসদে তুলে ধরেন।
কমেন্ট বক্স