দুর্ঘটনা ঘটালো এসপি পরিবহন, গ্রেপ্তার লস্কার পরিবহনের হেলপার!
- আপলোড তারিখঃ
০৯-০৬-২০২১
ইং
ঝিনাইদহ অফিস:
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে একটি সড়ক দুর্ঘটনা মামলায় অন্য বাসের হেলপারকে গ্রেপ্তার করে জামিন অযোগ্য ধারায় আদালতে সোপর্দ করায় ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে ঝিনাইদহ বাস মালিক সমিতি। তাঁরা ঝিনাইদহ পুলিশ সুপারের কাছে এ নিয়ে নালিশ দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার জরুরি সভা ডেকে নিরাপরাধ হেলপার গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়েছেন। অন্যদিকে অজ্ঞাত কারণে ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শামিমকে পুলিশ লাইনসে ক্লোজড করা হয়েছে। অনেকের ধারণা নিরীহ হেলপার গ্রেপ্তার ও আব্দুল মান্নান নামে এক বাস চালকের কাছ থেকে তদন্ত কর্মকর্তা আর্থিক সুবিধা নেওয়ার কারণে তাঁকে ক্লোজড করা হয়েছে।
ঝিনাইদহ জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ মে রাত ৮টার দিকে হরিণাকুণ্ডু উপজেলার চাঁদপুর জামতলা নামক স্থানে এসপি পরিবহনের একটি বাসের (যার নম্বর পাবনা-জ-১১-০০২২) চাকায় পিষ্ট হয়ে একই উপজেলার হামিরহাটি গ্রামের মনছের আলীর ছেলে আক্তার হোসেন (৪৪) ও চাঁদপুর গ্রামের গফুর মোল্লার ছেলে তালেব আলী (৩৮) নিহত হন। এ ঘটনায় ২০১৮ সালের সংশোধিত সড়ক আইনে অজ্ঞাত গাড়ি, অজ্ঞাত চালক ও অজ্ঞাত হেলপারকে আসামি করে মামলা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান হরিণাকুণ্ডু থানার এসআই শামীম।
ঝিনাইদহ জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি ওলিয়ার রহমানের ভাষ্যমতে, এই দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত এসপি পরিবহনের বাস। অথচ সেই বাসের চালক ও হেলপারকে গ্রেপ্তার না করে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শামীম লস্কার পরিবহনের হেলপার চান্নু মিয়াকে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছেন। মালিক সমিতির নেতারা বলছেন, যাঁরা এই দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে, তাঁদেরকে আইনের আওতায় আনা হোক। নিরাপরাধ ব্যক্তিকে কেন হয়রানি করা হচ্ছে, এমন প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। এ বিষয়ে পুলিশ সুপারের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে অভিযোগ দিয়েছে ঝিনাইদহ বাস মালিক সমিতি।
মালিক সমিতির কার্যকরি সভাপতি আবু সাইদ অভিযোগ করেন, টাকার বিনিময়ে মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হচ্ছে। এতে প্রকৃত দোষীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। এদিকে আব্দুল মান্নান নামে এক বাস চালক জানান, ‘আমি দুই দিন বদলি ড্রাইভার হিসেবে কাজ করেছিলাম। এই দুর্ঘটনা যখন ঘটে, তখন আমি ছিলাম না। অন্য ড্রাইভার গাড়ি চালাচ্ছিল। কিন্তু তাঁদেরকে না ধরে তদন্তকারী কর্মকর্তা আমাকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে ৭ হাজার টাকা নিয়েছে। আরও টাকা দাবি করে তিনি আমার কাছে আমার ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফটোকপিসহ বিভিন্ন কাগজপত্র চাচ্ছেন।
পুলিশ লাইনসে ক্লোজড হওয়া এসআই শামীম বলেন, ‘টাকা লেনদেনের বিষয়টি সঠিক নয়। মামলাটিতে অজ্ঞাত বাস, অজ্ঞাত ড্রাইভার ও অজ্ঞাত হেলপারকে আসামি করা হয়েছে। আমি তদন্তের স্বার্থে ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ অন্যান্য কাগজপত্র চেয়েছিলাম।’ বিষয়টি নিয়ে হরিণাকুণ্ডু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রহিম মোল্লা জানান, তদন্ত কর্মকর্তার ক্লোজ হওয়ার সাথে মামলার কোনো সম্পর্ক নেই। অজ্ঞাত বাস ও আসামি উল্লেখ হওয়ায় হয়ত ভুল বোঝাবুঝিও হতে পারে। তবে পুলিশ দায়ী বাস ও আসামিকে শনাক্ত করার জন্য খুবই আন্তরিক।
কমেন্ট বক্স