কালীগঞ্জে বেড়েছে পাট চাষ
- আপলোড তারিখঃ
২৭-০৫-২০২১
ইং
প্রতিবেদক, কালীগঞ্জ:
মাঠের দিকে তাকালেই চোখ জুড়িয়ে যায় সবুজের সমারহে। গ্রামের পিচ ঢালা পথ আর পাট গাছের সবুজ খেত যেন মন কেড়ে নেয়। দাম বেড়ে যাওয়ায় গত দুই বছরে তুলনায় পাটচাষ বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েক গুন। আগামীতে পাটচাষ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় এবার ১৮ শ থেকে ২ হাজার টাকা মণের পাটের দাম বেড়ে ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। এ ছাড়া পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০ বাস্তবায়নে ফলে ধান, চাল, গম, ভুট্টা, সার ও চিনির বস্তা হিসেবে বাধ্যতামূলক পাটের বস্তা ব্যবহারে তৎপর হয় সরকার। এতে করে পাটের দাম আরও বেড়ে যায়।
খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, এভাবে পাটের দাম বেড়ে যাওয়ায় দুই বছরে বেড়েছে পাট চাষও। এখন কৃষকরা চলতি মৌসুমের পাটের জমি পরিচর্যার ব্যস্ত সময় পার করছেন। জমিতে সেচ দেওয়া, জমিকে আগাছা মুক্ত করা, সময় মতো সার প্রয়োগ প্রভৃতি পরিচর্যা করছেন।
উপজেলার নগর চাপরাইল গ্রামের পাটচাষি জাবের মণ্ডল জানান, গত বছর মাত্র ১৮ কাঠা জমিতে পাট চাষ করেছিলেন। এবার পাটের দাম ভালো হওয়াতে দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। তিনি ক্ষোভের সাথে জানান, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পাট চাষের জন্য কোনো সহযোগিতা তিনি পাননি। তবে অন্য ফসল চাষে তিনি সহযোগিতা পেয়েছেন বলে জানান ওই কৃষক।
একই গ্রামের কৃষক নওশের আলী জানান, তিনি এবার ১ বিঘা ১১ কাঠা জমিতে পাট চাষ করেছেন। আশা করছেন দাম ভালো পাবেন। ষাটবাড়িয়া গ্রামের পাটচাষি কবিরুল ইসলাম নান্নু জানান, ‘গতবছর আমি পাট চাষ করিনি, কিন্তু এবার পাটের দাম বেশি হওয়াতে ২ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। আশা করি ফলন ও ভালো হবে।
উপজেলা কৃষি স¤প্রসারণ কর্মকর্তা আকতারুজ্জামান জানান, ‘রাজস্ব প্রকল্পের আওতায় আমরা ২৫ জন কৃষকের প্রদর্শনী দিয়েছি। প্রত্যেক কৃষককে সার, বীজ ও খেত পরিচর্যার জন্য ২৫ শ করে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’
কৃষকদের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘আমাদের প্রয়োজন ৩৪ জন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সেখানে মাত্র ১২ জন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আছেন। জনবল কম থাকার কারণে আমরা সবার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করতে পারি না। তবে কৃষক মাঠ স্কুল থেকে আমরা কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ ও ফসলের রোগ বালাই সম্পর্কে সচেতন করে থাকি। মাঠ দিবসেও আমরা কৃষকদের সাথে তাঁদের সুবিধা-অসুবিধার কথা আলোচনা করে থাকি। কোনো কৃষক যদি তার কোনো অসুবিধার কথা আমাদের জানান, ‘তাহলে আমরা সাথে সাথে তার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে থাকি।’
কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিকদার মো. মোহায়মেন আক্তার জানান, গত দুই বছরের তুলনায় এবার পাটের চাষ অনেক বেশি হয়েছে। ১৮-১৯ অর্থবছরে পাট চাষ হয়েছিল ১৩৪০ হেক্টর, ১৯-২০ অর্থবছরে পাট চাষ হয় ১৫ শ হেক্টর, সে তুলনায় ২০-২১ অর্থবছরে পাট চাষ বেড়ে দাড়ায় ১৮ শ ১৯ হেক্টর। পাটের দাম ভালো পাওয়াতে কৃষকদের পাট চাষের দিকে আগ্রহ বাড়ছে বেশি।
কমেন্ট বক্স