সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

জীবননগরে মিথ্যা মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ

  • আপলোড তারিখঃ ১২-০৪-২০২১ ইং
জীবননগরে মিথ্যা মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ
সমীকরণ প্রতিবেদক: দখলদারদের কবলে জীবননগর উপজেলার নদী-খাল ও রাস্তার জমি। দখলদারদের অবৈধ প্রভাবের কারণে বারবার তালিকা হলেও উদ্ধার কিংবা দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সম্প্রতি চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যলয় থেকে প্রকাশিত অবৈধভাবে নদী-খাল দখলদারের তালিকায় জীবননগর উপজেলায় ২৪১ দখলদারের নাম উঠে আসে। এর মধ্যে বেশির ভাগ দিনমজুর হতদরিদ্র ব্যক্তি এবং যাদের নাম প্রকাশ হয়েছে তার মধ্যে অনেকেই ওই নদীর আশপাশে থাকেন না। নদী থেকে অনেক দূরে নিজের রেকোটিয়ো জমিতে বসবাস করেন। অথচ প্রকৃতপক্ষে যারা অবৈধভাবে নদী দখল, রাস্তার জমি দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে সেসব দখলদারদের নাম ওই তালিকায় নেই। জীবননগর উপজেলার একাধিক নদী ও ১০টি বিল বাওড় রয়েছে যার বেশির ভাগই বিভিন্ন দখলদারদের কবলে রয়েছে। সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার জন্য কোর্টে মিথ্যা মামলা করে দখলদাররা ওই জমি নিজেদের দখলে রেখে ভোগ করছেন। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, আমরা আমাদের বাপ-দাদার সম্পতিতে বসবাস করে আসছি। যার সমস্থ কাগজপত্র আমাদের কাছে আছে। তাছাড়া নদীর ধারে কাছেও আমরা কোনো দিন যায়নি। অথচ আমাদের নামে মিথ্যা দখলদারের তালিকায় দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, নদীর জমি দখলে যাদের নাম এসেছে এর মধ্যে বেশির ভাগ মানুষ অসহায় দিনমজুর। তাঁদের নাম দখলদারদের তালিকায় কিভাবে যায় বুঝতে পারছি না। যারা প্রকৃত দখলদার তাদের নাম ওই তালিকায় দেওয়া হয়নি। দখলদারদের তালিকা যারা তৈরি করেছে তারা সরেজমিনে না এসেই তালিকা তৈরি করেছে। গতকাল রোববার সরেজমিনে দেখা গেছে, সীমান্ত ইউনিয়নের করতোয়া নদীঃখনন কাজের সময় যে সমস্থ ব্যক্তি করতোয়া নদীর জমি দখল করে বসত ঘর নির্মাণ করেছিল তাদের ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু জীবননগর শহরের লক্ষ্মীপুর পুরাতন ব্রিজে সড়কের জমি দখল করে রিয়া এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু তাদের বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যার ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জীবননগর উপজেলা সার্ভেয়ার ইখতিয়ার হোসেন বলেন, ২৪১ জনের যে ভূমি দখলের তালিকা হয়েছে এ তালিকা সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। তবে রিয়া এন্টারপ্রাইজ নামের যে প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়েছে তার দুটি দোকান সড়কের জমিতে। আমি ওই প্রতিষ্ঠান ভবন নির্মাণ করতে বাঁধা দিয়েছিলাম। তারপরও তিনি সড়কের উপর ভবন নির্মাণ করেছেন। জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এসএম মুনিম লিংকন বলেন, সরকারি জমি কেউ অবৈধভাবে দখল করতে পারবে না। যারা দখল করেছে তদন্তপূর্বক তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘সরকারি নদী, নালা, খাল বিল অবৈধভাবে যারা দখল করেছে সে সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে দখলমুক্ত করা হবে। নদী ও খালগুলো খননের মাধ্যমে সেগুলোতে যেন সকল সময় পানি থাকে সে ব্যবস্থা করা যায়। এতে কৃষকরা কৃষি কাজে নদী থেকে পানি ব্যবহার করতে পারবে। সুষ্ঠু তদন্ত করে দখলদারদের তালিকায় প্রকৃত দখলদারদের নাম রেখে অন্য সকলের নাম কেঁটে দেওয়া হবে। অযথা কোনো সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হবে না।’


কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড