নারীসহ ৯ জন আহত, আটক ৩
- আপলোড তারিখঃ
১৮-০৩-২০২১
ইং
চুয়াডাঙ্গার পৃথকস্থানে জমি নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় পৃথক স্থানে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চাইনিজ কুড়াল, হাসুয়া ও হাতুড়ি নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নারীসহ ৯ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার সকাল ১০টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলার কোমরপুর গ্রামে ও সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দর্শনা বৈচিতলা গ্রামে এ দুটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় ব্যক্তিরা রক্তাক্ত জখম অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। এসময় জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আহতদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি রাখেন। আহতরা হলেন- দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের কোমরপুর গ্রামের স্কুলপাড়ার মৃত রবগুল আলীর ছেলে শওকত মালিথা (৫০), তার দুই ছেলে সুমন মালিথা (২৫) ও শাহীন মালিথা (২২), শওকত মালিথার আপন ভাই আব্দুল্লাহ (৫৫), আব্দুল্লাহর দুই ছেলে হাসান (২৮) ও মাজেদুল (১৭), একই পরিবারের আলম হোসেনের ছেলে আবু হুরাইরা (২২) এবং দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা থানার বৈচিতলা গ্রামের মাঝেরপাড়ার আব্দুল হাকিমের স্ত্রী আশানূর (৪৫) ও তাঁদের ছেলের স্ত্রী আফসানা খাতুন (২০)।
এদিকে, খবর পেয়ে দামুড়হুদা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং কোমরপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে আব্দুল্লাহর দুই ছেলে সানু হোসেন (৩৮) ও হাসান আলি (২৮) এবং রবগুলের ছেলে মোহাম্মদ আলীকে (৩০) আটক করে থানা হেফাজতে নেয়।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে দামুড়হুদা উপজেলার কোমরপুর গ্রামের মৃত রবগুল মালিথার দুই ছেলে শওকত মালিথা ও আব্দুল্লাহ্ মালিথার মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। গতকাল সকালে কোমরপুর গ্রামের ঈদগাহতলা মাঠের বিরোধপূর্ণ কৃষি জমিতে কাজ করছিলেন শওকত মালিথা, তাঁর দুই ছেলে সুমন মালিথা ও শাহীন মালিথা। এসময় শওকত মালিথার ভাই আব্দুল্লাহ ও তাঁর ছেলে হাসান, মাজেদুল ও একই পরিবারের আলম হোসেনের ছেলে আবু হুরাইরা ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে শওকত মালিথা ও তাঁর ছেলেদের ওপর অর্তকিত হামলা করে। এসময় হাসুয়া ও কুড়ালের আঘাতে গুরুতর জখম হন শওকত মালিথা ও তাঁর দুই ছেলে সুমন মালিথা ও শাহীন মালিথা। এসময় হামলাকারী আব্দুল্লাহ ও তাঁর ছেলে হাসান, মাজেদুল ও একই পরিবারের আলম হোসেনের ছেলে আবু হুরাইরা আহত হন।
আহত সুমন মালিথা বলেন, ‘দীর্ঘদিন যাবত দাদার রেখে যাওয়া সম্পত্তি নিয়ে আমার পিতা ও আপন চাচা আব্দুল্লাহর মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। সকালে আমি, আমার বাবা ও ভাই তিনজন মিলে মাঠের জমিতে কাজ করছিলাম। এসময় হঠাৎ করেই চাচা আব্দুল্লাহ, তার দুই ছেলে হাসান, আবু হুরাইরাসহ কয়েকজন আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাঁদের প্রত্যেকের হাতে থাকা হাসুয়া, চাইনিজ কুড়াল ও হাতুড়ি দিয়ে আমাদের এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। আমার ভাই ও পিতার মাথায় কুড়ালের কোপে গুরুতর জখম হয়েছে। আমার হাতে একটি কোপ লেগেছে। পরে স্থানীয় ব্যক্তিরা আমাদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সোহানা আহমেদ বলেন, শওকত মালিথা ও সুমন মালিথার মাথাসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম রয়েছেন। এছাড়াও একই ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়ে হাসপাতালে এসেছেন। তাঁদের প্রত্যেককে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি রাখা হয়েছে। সকলের অবস্থায় আশঙ্কামুক্ত। তবে শওকত মালিথা ও সুমন মালিথার জখম গুরুতর হওয়ায় তাঁদেরকে অবজারভেশনে রাখা হয়েছে। অবস্থার অবনতি হলে তাঁদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হতে পারে।
এ বিষয়ে ডামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল খালেক বলেন, ‘পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে দুই ভাই ও তাঁদের ছেলেদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। আহত সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় আমরা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় তিনজন আটক করেছি। আহতরা হাসপাতালে থাকায় এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এদিকে, দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা থানার বৈচিতলা গ্রামে জমি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষে একই পরিবারের আব্দুল হাকিমের স্ত্রী আশানূর ও তাঁদের ছেলের বউ আফসানা খাতুন আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার সকালে দর্শনার বৈচিতলা গ্রামের মাঝেরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, বাড়ির জমি নিয়ে আব্দুল হাকিম ও তাঁর ভাই খাইরুল ইসলামের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। আব্দুল হাকিম তাঁদের বাড়ির ছাদ করার জন্য মিস্ত্রিদের কাজে লাগিয়েছেন। এসময় জমি নিয়ে চলে আসা বিরোধ নিয়ে খাইরুল ইসলাম বাড়ির ছাদ নির্মাণকাজে বাঁধা দিতে গেলে দুই পরিবারের মধ্যে বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। এর একপর্যায়ে খাইরুল তাঁর হাতে থাকা চেয়ারের একটি কাঁঠ দিয়ে আফসানা খাতুনের মাথায় আঘাত করে। ঠেকাতে গেলে আশানুরও আঘাতপ্রাপ্ত হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা আহত দুজনকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আহতদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা প্রদান করেন।
এবিষয়ে দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাবুবুর রহমান বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একই পরিবারের দুজন নারী আহত হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কমেন্ট বক্স