নেই খাবার-আবাসস্থল, রোগে-শোকে কাহিল
- আপলোড তারিখঃ
১১-০৩-২০২১
ইং
মহেশপুরে নির্যাতনের শিকার প্রায় দুই শতাধিক কালোমুখো হনুমান
ঝিনাইদহ অফিস:
ভারতে যেখানে দেবতার সম্মান সেখানে বাংলাদেশে ওরা অত্যাচারী। পদে পদে মারধর আর নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রায় দুই শতাধিক কালোমুখো হনুমান এখন কাহিল। অনেকে রোগাক্রান্ত শরীর বয়ে বেড়াচ্ছে। খেয়ে না খেয়ে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন যেখানে পেট পুরে খাওয়ার কথা, সেখানে সরকারিভাবে তারা কিছুই খেতে পায় না। সারাদিন দল বেঁধে কৃষকের খেত তছরুপ করে সন্ধায় ফিরে আসে আবাসস্থলে। ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের ভবনগর গ্রামে বছরের পর ধরে বসবাস করছে দুই শ কালোমুখো হনুমান। একেবারেই ভারত ঘেষা ভবনগর গ্রামের বিভিন্ন বাগানে তাদের আবাস গড়ে উঠেছে। শ্যামকুড়, শ্রীনাথপুর ও মাঠপাড়াতেও এসব কালোমুখো হনুমান চোখে পড়ে।
স্থানীয় শ্যামকুড় ইউনিয়নের ইউপি মেম্বার হারুন অর রশিদের ভাষ্যমতে, বৃটিশ আমল থেকে কালোমুখো হনুমানগুলো ভবনগর গ্রামে বসবাস করছে। সম্ভবত এই দলটি প্রথমে ভারত থেকে এসে বংশ বিস্তার করেছিল। এখন দুই শতাধিক হনুমান বসবাস করছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান আমানুল্লাহ হক জানান, কালোমুখো হনুমান ঠিক মতো খবার পায় না। তাই খাবারের সন্ধানে কৃষকের খেত ও মানুষের ঘর-বাড়িতে হামলা করে। দীর্ঘদিন জীববৈচিত্র নিয়ে কাজ করা মহেশপুরের ভবনগর গ্রামের নাজমুল হোসেন জানান, বছরের পর বছর হনুমানগুলো সরকারিভাবে কোনো খাবার পায় না। মানুষ যা দেয়, তাই খায়। ক্ষুধার যন্ত্রণায় তারা দলবেধে ফসলের খেত তছরুপ করে। ফলে কৃষকরা প্রতিহত করতে গিয়ে মারধর করে। খেতে বিষ দেয়। নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়। নাজমুল হোসেন আরও জানান, প্রতিবছর চৈত্র মাসে ভারত থেকে দল বেঁধে কালোমুখো হনুমান এসে আমাদের দুর্বল হুনুমানদের আক্রমণ করে। তখন গ্রামবাসী সেই হামলা প্রতিহত করে ভারতীয় হুনুমান তাড়িয়ে দেয়। কারণ আমাদের হুনুমানগুলো অভুক্ত থেকে থেকে ভারতীয় সবল হুনুমান থেকে দুর্বল হয়ে আছে। ভবনগরের হনুমানদের চলাফেরা ও বসবাস বৈচিত্রময়। তারা একেক দিন একেক স্থানে বসবাস করে। কোনো স্থানে স্থির নয় বলেও পশুপ্রেমী নাজমুল জানান।
এলাকাবাসী জানান, গত ১৯ ফেব্রয়ারি দেশেল প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসেন চৌধুরী ভবনগর গ্রামে এসেছিলেন। মহেশপুরের সন্তান হিসেবে তিনি এসব হনুমানদের খাবারের সুব্যবস্থা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। ঝিনাইদহ জেলা বন কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দীন মুকুল জানান, মহেশপুরের ভবনগরের কালো কালোমুখো হনুমানগুলো সরকারিভাবে কোনো খাবার পায় না। কোনো বরাদ্দ নেই। তবে প্রধান বণ সংরক্ষক আমির হোসেন চৌধুরী সরেজমিন দেখতে এসেছিলেন। তিনি এদের খাবারের ব্যবস্থা করবেন বলে জানান।
গিয়াস উদ্দীন মুকুল আরও জানান, যশোরের কেশবপুরের হনুমানদের বাজেটের সঙ্গে ভবনগরের হনুমানুদের আপাতত একটি খাবারের ব্যবস্থা হয়েছে। টেন্ডার হয়েছে। আগামী এপ্রিল মাস থেকে ভবনগরের এসব কালোমুখো হনুমানের জন্য প্রতিদিন কলা, রুটি ও বাদাম বরাদ্দ থাকবে। এ জন্য ঝিনাইদহ বন বিভাগের পক্ষ থেকে কয়েকটি স্পট তৈরী করা হবে। দিনের নিদ্দিষ্ট সময়ে সেখানে খাবার দেওয়া হবে। ফলে এলাকার কৃষকদের আর ফসল তছরুপ করবে না বলে তিনি আশা করেন।
কমেন্ট বক্স