আমঝুপিতে চাষে নতুনমাত্রা ‘সূর্যমুখী’
- আপলোড তারিখঃ
১৩-০২-২০২১
ইং
মাহাবুব আলম:
কৃষি সমৃদ্ধ জেলা মেহেরপুর। এ জেলায় প্রায় সব ধরণের ফসল উৎপন্ন হয়ে থাকে। এবার জেলায় রবিশষ্যের চাষাবাদে নতুন মাত্রা যোগ করেছে সূর্যমুখী ফুলের চাষ। এ অঞ্চলের মাটির গুনাগুন, আবহাওয়া ও জলবায়ু সূর্যমুখী চাষাবাদের জন্য উপযোগী। চাষিদের এ সূর্যমূখী ফুলের আবাদে আগ্রহী করে তুলতে বীজ উৎপাদনের লক্ষে জেলার একমাত্র তৈলবীজ খামার আমঝুপিতে এর চাষ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে পালন করা হয়েছে মাঠ দিবস।
বিএডিসির আওতাধীন আমঝুপি সবজি বীজ উৎপাদন খামার সূত্রে জানা গেছে, অনেকে বাড়ির আঙিনায় ও অফিসের সামনে সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য সূর্যমুখী ফুল চাষ করে থাকেন। কিন্তু সূর্যমুখী একটি তেল ফসল। এটি স্থানীয়ভাবে উচ্চমূল্যের ফসল হিসেবেও পরিচিত। ভোজ্য তেলের মধ্যে সূর্যমুখী তেল শরীরের জন্য অত্যন্ত ভালো। এটি শরীরের কোলস্টোরেল ঠিক রাখে। তাই সূর্যমুখীর চাষাবাদ কৃষকের কাছে জনপ্রিয় করে তুলতে তৈলবীজ খামারে বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যে এবার এ মেহেরপুর উপজেলার আমঝুপি খামারে ১৮ বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলক চাষ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে জেলায় আরও ২৭ বিঘা জমিতে এর চাষ করা হয়। মাঠজুড়ে হলুদ ফুলের সমারোহ। ফুলের সৌন্দর্য দেখতে আসছেন দর্শনার্থীরাও। অনেকেই আসছেন ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি এটি চাষ করার পরামর্শও নিচ্ছেন।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার বিডি দাস জানান, চিকিৎসকদের মতে সূর্যমুখীর তেল অন্যান্য সাধারণ তেলের চাইতে একটু আলাদা। কোলেস্টেরল মুক্ত প্রচুর পরিমাণে প্রাণশক্তি থাকায় সূর্যমুখী তেল আমাদের শরীরের দুর্বলতা দূর করে কার্যক্ষমতা বাড়ায়। রান্নার জন্য সয়াবিন তেলের চাইতে সূর্যমুখী তেল ১০ গুণ বেশি পুষ্টি সমৃদ্ধ। শরীরের হাড় সুস্থ ও মজবুত করে। সূর্যমুখী তেলে থাকা ম্যাগনেসিয়াম আমাদের মানসিক চাপ দূর করে। এককথায় সূর্যমুখী তেলে মানবদেহের মহাওষুধ হিসেবে ভূমিকা পালন করছে।
আমঝুপি বিএডিসি’র সূর্যমুখী ফুলের খামার দেখতে আসা আগ্রহী কৃষকরা জানান, দৃষ্টি নন্দন এই ফুল প্রকৃতিকে করেছে মনোমুগ্ধকর। অনেকেই ক্যামেরা বন্দী হচ্ছেন সুর্যমূখীর সঙ্গে। তাঁরা নিজের জমিতে এই ফুল চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং এখান থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন।
মেহেরপুর সদর উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের আবু বক্কর সূর্যমূখী এ ফুলের খামার দেখতে এসে বলেন, ‘একদিকে সৌন্দর্য বর্ধণ বাগানের মতো অন্যদিকে লাভজনক ফসল। এর বিস্তারিত জানার পর আমি নিজে আগামীতে তিন বিঘা আবাদ করার পরিকল্পা করেছি।’
মেহেরপুর বিএডিসির উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, অন্য ফসলের চেয়ে সূর্যসুখী ফুল চাষে খরচ কম। এতে সার ও ওষুধ কম লাগে। তেমন পরিচর্যাও করতে হয় না। তাছাড়া অন্যান্য তৈল বীজ যেমন সরিষার তৈলের চেয়েও তৈল বেশী পাওয়া যায়। পুষ্টি চাহিদা পূরুণে সুর্যমূখী তেলের জন্য বিদেশ থেকে এর বীজ আমদানী করতে হয়। দেশে এর আবাদ করা গেলে বিদেশ থেকে এর আমদানী কমে যাবে। এটি নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহের দিকে সারিবদ্ধভাবে বীজ বপন করা হয়। বীজ বপনের ৯০ থেকে ১০০ দিনের মধ্যে ফসল তুলা যায়। সামান্য পরিমাণ রাসায়নিক সার ও দু’বার সেচ দিতে হয় এ ফসলে। প্রতি একর জমিতে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা খরচ হয়। আর এক একর জমির উৎপাদিত বীজ থেকে ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা লাভ করা সম্ভব। সূর্যমুখী গাছ জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।
কমেন্ট বক্স