দেশে আরও ২৪ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৯১০
- আপলোড তারিখঃ
০৫-০১-২০২১
ইং
চুয়াডাঙ্গায় উপসর্গে মৃত নারীর করোনা শনাক্ত, নতুন আক্রান্ত ৩
সমীকরণ প্রতিবেদন:
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে সংক্রমিত আরও ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময় নতুন করে আরও ৯১০ রোগী শনাক্ত হয়েছেন। দেশে এখন পর্যন্ত ৫ লাখ ১৬ হাজার ৯২৯ জনের দেহে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৭ হাজার ৬৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সুস্থ হয়েছেন ৪ লাখ ৬১ হাজার ৫১৫ জন। গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। গতকাল নতুন রোগী হাজারের কম ছিলো। অবশ্য গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষাও তুলনামূলক কম হয়েছে। অ্যান্টিজেনভিত্তিক পরীক্ষাসহ গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১২ হাজার ৯৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার সংখ্যা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ৭ দশমিক শূন্য ৫২ শতাংশ। গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। ক্রমেই মহামারি আকারে সংক্রমণ বিশ্বের প্রায় সব দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম সংক্রমণ শনাক্তের কথা জানায় সরকার। শুরুর দিকে রোগী শনাক্তের হার কম ছিল। গত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। ওই মাসের শেষের দিক থেকে রোগী শনাক্তের হার ২০ শতাংশের ওপরে চলে যায়। আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত সেটি ২০ শতাংশের ওপরে ছিল। এরপর থেকে নতুন রোগীর পাশাপাশি শনাক্তের হারও কমতে শুরু করেছিল। একপর্যায়ে দৈনিক রোগী শনাক্তের হার ১০ শতাংশ পর্যন্ত নেমেছিল। মাস দুয়েক সংক্রমণ নিম্নমুখী থাকার পর গত নভেম্বরের শুরুর দিক থেকে নতুন রোগী ও শনাক্তের হারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয়। নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে দৈনিক নতুন রোগী শনাক্তের গড় দুই হাজার ছাড়ায়। অবশ্য কিছুদিন ধরে নতুন রোগী শনাক্ত দুই হাজারের কম। তিন সপ্তাহ ধরে পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ১০ শতাংশের নিচে। জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, টিকা না আসা পর্যন্ত সংক্রমণ প্রতিরোধের মূল উপায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। বিশেষ করে বাইরে বের হলে মুখে মাস্ক পরা শতভাগ নিশ্চিত করা, কিছু সময় পরপর সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়ার বিধি মেনে চলতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চললে সংক্রমণ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত নিলুফা বেগম (৪০) নামের এক নারীর নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। ৩১ ডিসেম্বর করোনা উপসর্গ নিয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসনপাতালের ইয়োলো জোনে ভর্তি হন নিলুফা বেগম। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা রেফার্ড করা হয়। ঢাকা নেওয়ার পথিমধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়। নিলুফা বেগম চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার মহিলা কলেজ পাড়ার বাসিন্দ। এ নিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ৪৪ জনে। এর মধ্যে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে। গতককাল জেলায় নতুন করে আরও তিনজন করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৬৫০ জন। গতকাল সোমবার রাত আটটায় জেলা সিভিল সার্জন অফিস এ তথ্য নিশ্চিত করে। গতকাল জেলায় নতুন কেউ সুস্থ হয়নি। জেলায় এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৫৫৫ জন। নতুন আক্রান্ত তিন জনের মধ্যে সদর উপজেলার দুইজন ও আলমডাঙ্গা উপজেলার এক জন রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে দুজন পুরুষ ও একজন মহিলা, বয়স ৩৫ থেকে ৬৫ বছর পর্যন্ত।
জানা যায়, গত রোববার জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা থেকে ২২টি নমুনা প্রেরণ করে। গতকাল ২১টি নমুনার ফলাফল সিভিল সার্জন অফিসে এসে পৌঁছায়। এর মধ্যে তিনজনের নমুনার ফলাফল পজিটিভ ও বাকী ১৮ জনের নমুনার ফলাপল নেগিটিভ আসে। গতকাল জেলা স্থাস্থ্য বিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য সদর উপজেলা থেকে ১০টি ও আলমডাঙ্গা থেকে ৩টি নমুনাসহ মোট ১৩টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে প্রেরণ করেছে।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ৭ হাজার ৪১৫টি, প্রাপ্ত ফলাফল ৭ হাজার ২২৭টি, পজিটিভ ১ হাজার ৬৫০টি, নেগেটিভ ৫ হাজার ৫৬৫টি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জেলায় হোম আইসোলেশনে ছিল ২১ জন ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে ছিল ৫ জন।
কমেন্ট বক্স