কালীগঞ্জে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সেশন ফি আদায়ের অভিযোগ
- আপলোড তারিখঃ
২০-১১-২০২০
ইং
প্রতিবেদক, কালীগঞ্জ:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার রোস্তম আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের থেকে সেশন ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। গত কয়েকদিনে ২৪০ টাকা করে ৪ শতাধিক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এসব ফি আদায় করেন তিনি। এদিকে, গত ১৮ নভেম্বর টিউশন ফি বাদে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আর অন্য কোনো ফি নেওয়া যাবে না, উল্লেখ করে চিঠি দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তর।
সম্প্রতি স্কুলের প্রধান শিক্ষক আতিয়ার রহমান শ্রেণি শিক্ষকদের নির্দেশ দেন সেশন ফি আদায় করতে। তিনি শিক্ষকদের বলেন একটি আলাদা খাতা করে সেখানে শিক্ষার্থীর নাম ও টাকার পরিমাণ লিখে রাখতে। এছাড়া আদায়কৃত সব টাকা তাঁর কাছে জমা দিতে। যে সব টাকার হিসাব স্কুলের আর কেউ জানেন না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রোস্তম আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতিয়ার রহমান সেশন ফি আদায়ের বিষয়টি প্রথমে অস্বীকার করে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে বলেন, ‘আমি সেশন ফি আদায় করেছি, এমন কোনো রশিদ কেউ দেখাতে পারবে না। তা ছাড়া আমি ব্যক্তিগত কাজে ঢাকায় আছি। কেউ সেশন ফি আদায় করেছে কি না, আমার জানা নেই। যদি আদায় করে থাকে, তাহলে টিউশন ফি’র সাথে সমন্বয় করা হবে।’
এর আগে প্রধান শিক্ষক আতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে ৭ জন সহকারী শিক্ষককে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্কুলটির শিক্ষক প্যাটার্নে যে ক’জন শিক্ষক কর্মচারী থাকার কথা, তা ছাড়াও অতিরিক্ত এই সাত সহকারী শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া হয়। পত্রিকার ভুয়া বিজ্ঞাপন তৈরি করে ও জাল-জালিয়াতি মাধ্যমে সব কাগজপত্র দাখিল করে তাঁদের মাসিক পে-অর্ডার (এমপিও ভুক্ত) করে এনেছেন। এছাড়া শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের বেতনসহ বিভিন্ন খাত থেকে আসা প্রায় কোটি টাকা আত্মসাৎ করারও অভিযোগ উঠে এই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এসব ঘটনা প্রকাশ হয়ে গেলে ২০১৯ সালের ১ আগস্ট ম্যানেজিং কমিটির এক জরুরি সভা করে প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে স্কুলের আয়-ব্যয়ের সব হিসাব সরিয়ে নেয়। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ম্যানেজিং কমিটির ওই সভায় স্কুলের পাঁচ শিক্ষকের একটি অর্থ কমিটি করে আয়-ব্যয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সম্প্রতি প্রধান শিক্ষক আয়-ব্যয়ের হিসাব কমিটির কাছ থেকে পুনরায় প্রধান শিক্ষক তাঁর নিজের কব্জায় নিয়েছেন।
এছাড়া ২০১১ সাল থেকে তিনি রশিদ বাদেই শ্রেণি শিক্ষকদের দিয়ে জোরপূর্বক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায় শুরু করেন। এসব টাকা নিয়ম-নীতি ছাড়াই নিজের ইচ্ছা মতো খরচ করতে থাকেন। যার কোনো বৈধ ভাউচার বা ক্যাশ কলামনারে উল্লেখ নেই। স্কুলে পুকুর, মার্কেট ও জমি লীজের টাকার কোন আয়-ব্যয়ের হিসাব দাখিল বাদেই নিজের ইচ্ছা মতো খরচ করতে থাকেন।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মধূসুদন সাহা বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। তবে আপনার মাধ্যমে জানলাম। আগামী সপ্তাহে স্কুলটি পরিদর্শন করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশব্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কমেন্ট বক্স