স্বামীকে কিডনি দান করে ভালোবাসার অনন্য দৃষ্টি স্থাপন করলেন স্ত্রী
- আপলোড তারিখঃ
১৮-১১-২০২০
ইং
ঝিনাইদহ অফিস:
ভালোবাসা অমর। যুগে যুগে এ কথাটিই প্রমাণিত হয়ে আসছে। ভালোবাসার নিদর্শনস্বরুপ সম্রাট শাহজাহান তাঁর স্ত্রী মমতাজের জন্য গড়েছেন তাজমহল। এমনই এক ভালোবাসার নিদর্শন দেখালেন ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার হরিশপুর গ্রামের গৃহবধূ সেতু খাতুন। বিয়ের পর স্বামীকে ভালোবেসে কথা দিয়েছিলেন বাঁচলে একসাথে বাঁচব, মরলে একসাথে মরব। তার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। মৃত্যু পথযাত্রী স্বামীকে একটি কিডনি দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে তারা ঢাকার শ্যামলী সিকেডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
গ্রামবাসী জানান, হরিশপুর গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে আনসার সদস্য রাশিদুল ইসলাম ৩ মাস আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হলে তাঁর কিডনি সমস্যা ধরা পরে। পরে খুলনার একটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে পরীক্ষার পর তাঁর ২টি কিডনি বিকল হয়ে পড়ে বলে চিকিৎসকেরা জানায়। মধ্যবিত্র পরিবার কিডনি কিনে তা প্রতিস্থাপন করতে প্রয়োজন লাখ লাখ টাকা। যা কখনো রাশিদুলেল পরিবারের পক্ষে জোগানো সম্ভব নয়। ফলে হতাশায় পড়েন তাঁর পরিবার। ভাগ্যক্রমে রাশিদুলের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর কিডনি মিলে যায়। ভালোবাসার মানুষটিকে বাঁচাতে কিডনি দিতে রাজি হন স্ত্রী সেতু খাতুন। গত ১২ নভেম্বর রাজধানীর শ্যামলী ৩ নম্বর সড়কের সিকেডি কিডনি হাসপাতালে তাঁদের অপারেশন করা হয়। ওই দিন বিকেল চারটার দিকে অপারেশন শুরু হয়। বর্তমানে স্বামী ও স্ত্রী দুজনই সুস্থ আছেন।
মোবাইলে স্ত্রী সেতু খাতুনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘পরিবার থেকে বিয়ে দিয়েছেন। আমি স্বামীকে জীবনের চেয়ে বেশি ভালোবাসি। আমাদের ঘরে ২ বছরের ছেলে সন্তান রয়েছে। তাঁর মুখের দিকে চেয়ে আমি রাশিদুলকে কিডনি দিয়েছি। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’ জানা গেছে, সাড়ে ৩ বছর আগে পারিবারিকভাবে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার হরিশপুর গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে রাশিদুরের সাথে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাতিভাঙ্গা গ্রামের হবিরর রহমানের মেয়ে সেতু খাতুনের বিয়ে হয়।
কমেন্ট বক্স