চুয়াডাঙ্গায় পরকীয়ার কারণে স্ত্রী পপিকে মারধর
- আপলোড তারিখঃ
১৭-১১-২০২০
ইং
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় দীর্ঘদিন যাবত পরকীয়া সম্পর্কে যুক্ত থাকা এবং নিষেধ করার পরেও পরকীয়া সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে না আসায় পপি খাতুনকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার দিবাগত রাতে চুয়াডাঙ্গার কোর্টপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পরিবারের সদস্যরা রাতেই পপিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার কোর্টপাড়ার মৃত খোকনের ছেলে শুকুর আলীর সঙ্গে ১৫ বছর পূর্বে ভালোবেসে বিয়ে করেন দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ার রাজ্জাক ভাণ্ডারীর মেয়ে পপি খাতুন। বর্তমানে তাঁদের ১৩ বছর বয়সের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পপির লেখাপড়ার ইচ্ছা পূরণ করার জন্য ২ বছর পূর্বে পপিকে চুয়াডাঙ্গা আইডিয়াল ম্যাটস-এ ভর্তি করেন স্বামী শুকুর আলী। এ সময় পপি পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বেশ কয়েকবার বিষয়টি ধরে ফেলেন শুকুর আলী। এরপর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন সময় অশান্তির সৃষ্টি হয়। বেশ কয়েকবার পপি তাঁর পিতার গৃহে চলে যান। একমাত্র মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে পপিকে প্রতিবার ফিরিয়ে আনেন শুকুর আলী। তবে পপির পরকীয়া সম্পর্ক থেমে থাকে না। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অজুহাতে পপি বাড়ি থেকে বেরিয়ে পরকীয়া প্রেমিক বিজিবি সদস্য সোহেল রানার সঙ্গে দেখা করেন।
চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে পপির মোবাইল থেকে পপি ও তাঁর পরকীয়া প্রেমিক সোহেল রানার একসঙ্গে ছবি এবং মোবাইল ফোনে কথোপকথনের ৫০টির বেশি রেকর্ড হাতে পায় পপির স্বামী শুকুর আলী। এ বিষয়ে পপির কাছে জানতে চাইলে স্বামীর প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি পপি। বরং শুকুর আলীকে বিভিন্ন কটু কথা বলেন। এ সময় পপি রাগারাগি করে চলে যান পিতার বাড়িতে। কয়েকদিন পর আবার ফিরেও আসেন তিনি।
এ ধরণের ঘটনা বারবার ঘটতে থাকে। এরই জের ধরে গত শনিবার রাতে শুকুর আলী ও স্ত্রী পপির মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে স্ত্রীর কথায় রাগন্বিত তাঁকে মারধর করে শুকুর আলী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শুকুর আলী বলেন, ১৫ বছর পূর্বে ভালোবেসে তাঁরা বিবাহ করেন। বছর দুই পরে তাঁদের সংসারে একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়। বেশ সুখেই দিন অতিবাহিত হচ্ছিল তাঁদের। স্ত্রীর লেখাপড়ার ইচ্ছা পূরণে তাঁকে আইডিয়াল ম্যাটস-এ ভর্তি করেন শুকুর আলী। এরপর থেকে পপি তাঁর সঙ্গে বিরক্তিকর আচরণ শুরু করে। জানতে পারেন তাঁর স্ত্রী পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়েছে। অনেকবার তাঁকে বুঝিয়েছেন, মেয়ের ভবিষ্যতের কথা বলেছেন। তাঁকে ও তাঁর মেয়েকে পপি ছেড়ে দিতে পারবে কিন্তু প্রেমিককে ছেড়ে দিতে পারবে না।
পপির পিতা-মাতা তাঁকে অনেক বুঝিয়েছেন, পপি আর ওই ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে না বলে জানায়। কিন্তু গোপণে তাঁদের সম্পর্ক থেকেই যায়। প্রেমিক বিজিবি সদস্যের চাকরির ক্ষতি হবে ভেবে তাঁর সম্পূর্ণ পরিচয় কখনই জানায়নি পপি।
কমেন্ট বক্স