বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

বৃক্ষ প্রেমিক ওয়াহেদ সর্দার এখন চুয়াডাঙ্গায়

  • আপলোড তারিখঃ ১২-১১-২০২০ ইং
বৃক্ষ প্রেমিক ওয়াহেদ সর্দার এখন চুয়াডাঙ্গায়
রুদ্র রাসেল: বৃক্ষ প্রেমিক ওয়াহিদ সর্দার এখন চুয়াডাঙ্গা জেলার বৃক্ষদের দ্বারে। গত মঙ্গলবার সকাল থেকে তিনি চুয়াডাঙ্গা দৌলাতদিয়াড় থেকে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সড়কের বৃক্ষের গায়ে বিধানো পেরেক তুলতে শুরু করেছেন। সোমবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া থেকে আলমডাঙ্গা হয়ে চুয়াডাঙ্গা শহরে প্রবেশ করেন তিনি। রাতটা কোনো মতে একটি চায়ের দোকানে কাটিয়ে পরদিন সকাল মঙ্গলবার থেকে লেগে পড়ের বৃক্ষের ব্যাথা কমাতে। তিনি যে বৃক্ষ প্রেমিক তা প্রমাণ করে তাঁর কর্ম ও বুকে ঝুলানো পরিচয়পত্র। এই বৃক্ষ প্রেমিকের বর্তমান সঙ্গী একটি পুরোনো বাইসাইকেল ও তাতে ঝোলানো পেরেক তোলার লোহার পাইপ ও শাবল। সাইকেলের সামনে লাগানো একটি সচেতনামূলক প্রচারপত্র। তাতে লেখা আছে `গাছ বাঁচলে আমরা সবাই বাঁচব`। সেই সাইকেল নিয়ে তিনি ছুটে চলেছেন বিভিন্ন জেলার ব্যথিত গাছেদের নিকট। যশোরের কোতোয়ালী থানার সাড়াপোল গ্রামে ১৯৬৭ সালের জুন মাসের ৮ তারিখে তাঁর জন্ম। ছোট বেলা থেকে গাছের প্রতি ভালোবাসা ছিলো তাঁর মনে। গাছের যত্ন নেওয়ায় যেন ছিলো তাঁর প্রধান শখ। স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির গণ্ডিতেই লেখাপড়ার শেষ হলেও গাছ যে পৃথিবী ও পৃথিবীর মানুষকে বাঁচিয়ে রেখেছেন তা তিনি শিখে ফেলেন। ২০১৮ সালের জুলাই মাসের ৪ তারিখ তিনি প্রথম সাইকেল নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন গাছে বিধানো পেরেক তুলতে। সেই থেকে এ পর্যন্ত বৃক্ষ প্রেমিক খুলনা বিভাগের ৮টি জেলার হাজার হাজার গাছ থেকে ৯ মণ ১৫ কেজির বেশী লোহার পেরেক অপসরণ করেছেন। ২০১৯ সালের বর্ষা মৌসুমে তিনি হনুমানের জেলা কেশবপুরে ২৭০টির বেশী জগ-ডুমুর গাছ রোপণ করেন। যশোরে রাস্তার পাশের একটি মৃত বৃক্ষের পোর্টমর্টেম দাবি করেন, বৃক্ষের মৃত্যুর কারণ প্রাকৃতিক বিপর্যয় না মানুষের তা সকলকে বোঝানোর জন্য। চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসের ১৪ তারিখ ভালোবাসা দিবসে ফুলের বদলে মানুষকে বৃক্ষের চারা বিনিময়ের মধ্যদিয়ে ভালোবাসা প্রকাশে অনুপ্রাণিত করতে যশোর পৌর পার্কের বেড়াতে আসা ২০০ জনের বেশি মানুষের হাতে তুলে দেন ভালোবাসা উপহার বিভিন্ন ফলজ বৃক্ষের চারা। আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে তিনি মাঝেমধ্যেই বৃক্ষের পেরেক অপসারণ যাত্রা থেকে পিছিয়ে পড়লেও এই অস্বচ্ছলতা তাঁকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। পকেটে মাত্র ১৩০ টাকা নিয়ে পুরোনো সাইকেলে চড়ে দিনে রাস্তার ধারের গাছের পেরেক তুলে ও রাত কাটিয়েছেন গাছের নিচে বা চায়ের দোকানে বেঞ্চে। দেশের প্রতিটা জেলার সড়কের ধারে পেরেক বিদ্ধ দাঁড়িয়ে থাকা বৃক্ষের কাছে তিনি পৌঁছাতে চান। সেই সাথে সহযোগিতা চান দেশের সকল মানুষের কাছে। তিনি মনে করেন, প্রত্যেককে যদি তাঁর নিজ এলাকার গাছের ব্যথা বোঝে তাহলে যশোর থেকে নয় প্রতিটি মানুষের মধ্যে থেকে ব্যথিত গাছের কাছে পৌঁছে যাবে বৃক্ষ প্রেমিক। স্বার্থের জন্য মানুষ পেরেক বিদ্ধ করে লাগিয়ে রাখে প্রচার-প্রচারণার ব্যানার, সাইনবোর্ড। সমাজের বিবেকহীনদেরকে শিক্ষা দেওয়ার জন্যই তার এ অভিনব প্রতিবাদ। ইতোমধ্যে সে যশোর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহসহ খুলনা বিভাগের ৮টি জেলায় সাইকেল চড়ে সড়কের ধারে দাঁড়িয়ে থাকা গাছের পেরেক অপসারণ করেছেন। এবিষয়ে কথা হয় বৃক্ষ প্রেমিক ওয়াহেদ সর্দারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি গাছকে ভালবাসি। আমাদের দেশে খুব নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে গাছ, গাছ মারা যাচ্ছে তারকাঁটার (পেরেক) আঘাতে। আমি এটা সইতে পারি না। গাছেরও জীবন আছে, তার শরীরে পেরেক ফুঁটালে সে যন্ত্রণা পায়। তাই গাছের গায়ে বিদ্ধ পেরেক অপসারণ করতে শুরু করি নিজ জেল যশোর থেকে। অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি ব্যানার ও বিলবোর্ড তুলতে বাধা দেয় কিন্তু কারো কোনো কথার তোয়াক্কা করি না। পেরেক, ব্যানার এসব গাছের শরীর থেকে অপসারণ করে তাঁদের ব্যথা কমানোর চেষ্টা করছি। তিনি দেশের মানুষের উদ্দেশ্যে বলেন, গাছ আমাদেরকে নিঃশ্বাস দেয়, খাবার দেয়, ছায়া দেয়, কাঠ দেয়, সে শুধু দিয়েই চলেছে। এই দানের বিনিময়ে হলেও আপনারা কেউ গাছকে ব্যথা দেবেন না। গাছে পেরেক ফুটাবেন না। গাছকে যত ভালোবাসবেন, গাছ আপনাদের চারপাশকে আরও বেশি সুন্দর করে দেবে।


কমেন্ট বক্স
notebook

সীমান্তে চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পৃথক অভিযানে ১৬ লক্ষাধিক টাকার মালামাল জব্দ