জীবননগরে কিশোরীকে ধর্ষণ ও মৃত বাচ্চা প্রসবের বিষয়টি ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা
- আপলোড তারিখঃ
১৫-১০-২০২০
ইং
জীবননগর অফিস:
জীবননগরে এক কিশোরীকে ধর্ষণের পর ৬ মাসের গর্ভবতী হয়ে পড়ে ছয় মাসের মৃত বাচ্চা প্রসবের ঘটনার এক সপ্তাহ পার হতে না হতেই ওই কিশোরী মেয়েটি উধাও। এদিকে ৬ মাসের শিশু হত্যাকারি হাতুড়ে ডাক্তার সামসুল বিষয়টি অন্য দিকে প্রবাহিত করার জন্য বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাপ শুরু করেছে। গত ১০ই সেপ্টম্বর জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামে কিশোরীর মামাতো ভাই আলামিন কর্তৃক এ ধর্ষণের অভিযোগ তোলেন স্থানীয়রা। অভিযুক্ত আলামিনের মা এবং কিশোরীর স্বজনরা জোর করে গ্রাম্য ডাক্তার সামসুলের কাছে নিয়ে ওষুধ খাইয়ে গর্ভপাত ঘটায় বলে জানা গেছে। গত শনিবার দুপুরে পুলিশ ভূমিষ্ঠ হওয়া মৃত ছেলে নবজাতকটিকেক উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
জানা গেছ, জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়ানের গোয়ালপাড়া গ্রামের এক কিশোরী (১৭) বেশ কয়েক বছর ধরে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মিনাপাড়ার দিপুর বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে। কিশোরীর বাবা মারা যাওয়ার পর মা ও তিন বোন মামার বাড়ি গোয়ালপাড়াতে থাকত। গত রোজার ঈদে কিশোরী ঈদে বেড়াতে আসে মায়ের কাছে। এ সময় মামাতো ভাই আলামিন ঈদের পরের দিন রাতে তাকে বাড়ির পাশের একটি আমবাগানে তুলে নিয়ে যায়। সেখানে কিশোরীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে। এরপর কয়েকবার ওই কিশোরীকে ঘরে একা পেয়ে ধর্ষণ করে আলামিন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এরপর ওই কিশোরী আবার কুষ্টিয়ায় চলে যায়। পরে সেখানে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তার মা গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে গোয়ালপাড়া গ্রামে নিয়ে আসে। পরে গ্রাম্য ডাক্তার সামসুল হুদার কাছে নিলে সে ওষুধের মাধ্যমে ওই কিশোরীর গর্ভপাত ঘটায়। পরেদিন বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। এসময় ভূমিষ্ঠ হওয়া মৃত নবজাতকটিকে পরিবারের সদস্যরা সরিয়ে ফেলতে চাইলে স্থানীদের বাধার মুখে পড়ে। কিশোরির মা, মামা-মামী গ্রামে প্রচার করতে থাকে কুষ্টিয়া থেকে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আলামিন গাঢাকা দেয়। স্থানীয়রা বলছেন, ঘটনার সাথে জড়িতেদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। এদিকে ঘটনার একদিন পর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হলে হাতুড়ে ডাক্তার সামসুল হুদার যোগসাজসে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য মেয়েটিকে সুষ্ঠু বিচার পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে কুষ্টিয়াতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
এবিষয়ে সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জহুরুল ইসলাম বলেন, গোয়ালপাড়া গ্রামে কুমারী মেয়ের পেটে বাচ্ছার বিষয়টি শুনে আমি ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে যেয়ে দেখি বাচ্ছাটি মারা গেছে। আমি বিষয়টি জীবননগর থানা পুলিশকে বললে ঘটনাস্থলে পুলিশ ছুটে আসে। তবে এ ঘটনার বিষয়ে ওই মেয়েটি কুষ্টিয়ার যেই বাড়িতে থাকত ওই বাড়ির মালিক মেয়েটিকে নিয়ে কুষ্টিয়া সদর থানায় একটি মামলা করেছে বলে শুনেছি। তবে এই ঘটনার সাথে যেই জড়িত থাকুক না কেন আমি তার শাস্তি চাই।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, গোয়ালপাড়া গ্রামে কুমারী মেয়ের বাচ্ছা জন্ম দেওয়া এবং তাকে হত্যার বিষয়টি শুনেছি। এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে যেয়ে বাচ্ছাটির মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে ঘটনাটি যেহেতু কুষ্টিয়াতে হয়েছিল যার কারনে জীবননগর থানায় এখনও কোনো অভিযোগ হয়নি।
কুষ্টিয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে মুঠো ফোনে কথা বললে তিনি বলেন, কিশোরীকে ধর্ষণ এবং গর্ভবতী বাচ্ছা হত্যার বিষয়ে থানায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।
কমেন্ট বক্স