চুয়াডাঙ্গায় অপহরণের ৩ ঘণ্টার মধ্যে স্কুলছাত্রী উদ্ধার
- আপলোড তারিখঃ
২৮-০৭-২০২০
ইং
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রেমের ফাঁদে পড়ে অপহরণের শিকার নুপুর (১৪) নামের এক স্কুলছাত্রীকে তিন ঘণ্টার মধ্যে ঝিনাইদহ থেকে উদ্ধার করেছে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পুলিশ। গতকাল সোমবার বেলা একটার দিকে ঝিনাইদহ জেলা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। অপহরণের শিকার ডিঙ্গেদাহ হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী নুপুর চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার হায়দারপুর গ্রামের আরশেদ আলীর ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে ডিঙ্গেদাহ হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী নুপুরকে অপহরণের বিষয়ে একটি অভিযোগ পায় সদর থানার পুলিশ। অভিযোগে বলা হয়, গত রোববার সকালে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে আর বাড়ি ফিরে আসেনি নুপুর। পরে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি নুপুরের পরিবারের কাছে ফোন করে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। ৩০ হাজার টাকা দিলেই নুপুরকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান ওই অজ্ঞাত ব্যক্তি। পরদিন গতকাল সোমবার সকালে স্কুলছাত্রী অপহরণের ঘটনায় অভিযোগের বিষয়টি পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম জানতে পেরে দ্রুত ভিকটিমকে উদ্ধারের বিষয়ে নির্দেশনা দেন সদর থানাকে। পরে সদর থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আহসানুর রহমান ভিকটিম উদ্ধারের দায়িত্ব পেয়ে পুলিশের আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ওই স্কুলছাত্রীকে উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করেন। একপর্যায়ে নুপুরকে উদ্ধারের বিসয়ে পুলিশের তৎপরতার বিষয়টি জানতে পারে অপহরণকারীরা। পুলিশ অপহরণকারীদের কাছে পৌঁছানোর আগেই নুপুরকে ঝিনাইদাহ জেলার চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে রেখে পালিয়ে যায় অপহরণকারীরা।
ঝিনাইদহ থেকে নুপুরকে উদ্ধারের পর পুলিশ জানতে পারে তাকে অপহরণ করে ঝিনাইদহ শৈলকুপা এলাকায় নিয়ে যায় অপহরণকারীরা। পুলিশ আরও জানায়, বাড়িতে মায়ের ফোন ব্যবহার করত কিশোরী নুপুর। প্রথমে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ওই অপহরণকারীদের ফাঁদে পড়ে সে। প্রেমের ফাঁদে ফেলে কৌশলে অপহারণ করা হয় তাকে। উদ্ধারের পর থেকেই ওই কিশোরীকে কাউন্সিলিং করা হয়। এদিকে অল্প সময়ের মধ্যে কিশোরীকে উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে চুয়াডাঙ্গা পুলিশকে সাদুবাদ জনিয়েছে অনেকেই।
এ ধরণের অল্প বয়সী কিশোরীদের অভিভাবকদের আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়ে সদর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) আবু জিহাদ খান বলেন, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ ও শৈলকুপা এলাকার এ ধরনের একটি চক্র গড়ে উঠেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সের ওই চক্রটির সকলেই প্রাই ভালো ঘরের সন্তান বলে তথ্য পাচ্ছে পুলিশ। তিনি আরও জানান, বিভিন্ন এলাকাতে ছড়িয়ে আছে ওই চক্রের সদস্যরা। তাদের প্রত্যেককেই আটক করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের চেষ্টা অব্যহত আছে বলে জানান তিনি।
কমেন্ট বক্স