শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

পানির নিচে ৩ হাজার বিঘা জমি!

  • আপলোড তারিখঃ ০৭-০৭-২০২০ ইং
পানির নিচে ৩ হাজার বিঘা জমি!
ঝিনাইদহ অফিস: হরিণাকুণ্ডু উপজেলার পায়রাডাঙ্গা গ্রামের মুক্তার হোসেনের মাত্র ২৬ কাঠা জমি ছিল একমাত্র সম্বল। জমিতে যে ধান হত, তাই দিয়ে চলত সারা বছরের খাবার। কিন্তু অবৈধভাবে পুকুর কাটার ফলে তাঁর দুমুঠো খেয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্নভঙ্গ হয়ে গেছে। মুক্তার হোসেনের মতো হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ভালকী ও পায়রাডাঙ্গা গ্রামের প্রায় দেড় হাজার পরিবারের স্বপ্নভঙ্গ হয়ে গেছে। এক সময়ের ধানী জমি এখন পানিতে থৈ থৈ করছে। পুকুর কাটার ফলে তিন হাজার বিঘা জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। উপায়হীন কৃষক পরিবারগুলো প্রতিকার পেতে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও তড়িৎ কোনো পদক্ষেপ পাননি। প্রশাসনের এই নীরবতায় পুকুর মালিকেরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, অবৈধভাবে জমির শ্রেণির পরিবর্তন করলেও প্রশাসনের কর্মকর্তারা একরকম নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছেন। পায়রাডাঙ্গা গ্রামের আক্তারুজ্জামান জানান, তাঁদের গ্রামে ৮-১০টি বিল রয়েছে। দুই মৌসুমে এই বিলে বিপুল পরিমাণ ধান উৎপন্ন হতো। কিন্তু পায়রাডাঙ্গা গ্রামের আইয়ূব মণ্ডলের ছেলে ডালিম মণ্ডল ও জব্বার মণ্ডলের ছেলে দেলোয়ার হোসেন দলু মণ্ডল যত্রতত্র পুকুর কাটছেন। ফলে গোটা বিলে জলাবদ্ধার সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামবাসীর ভাষ্যমতে, পায়রাডাঙ্গা গ্রামের হাতিশুড়ো, মুচেইখালী, ট্যাবার মাঠ ও সঞ্জেরখালী মাঠ এখন পানির নিচে। সঞ্জেরখালী মাঠে সরকারি জমি ছিল দেড় বিঘা। সেখানে বিল ও খালের সংযোগ স্থানে ছিল একটি ব্রিজ। সেখানে পুকুর কাটায় ব্রিজের মুখ বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি রাস্তায় কেউ চলাচল করতে পারছেন না। সরকারিভাবে নির্মিত যাত্রী ছাউনিটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সরকারি জমি দখল, সরকারি রাস্তা ও ব্রিজ বন্ধ, সরকারি যাত্রী ছাউনি পরিত্যক্ত ও সরকারি খাল নষ্ট করার পরও কেন ঝিনাইদহের প্রশাসন দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না, এ নিয়ে গ্রামবাসী প্রশ্ন তুলেছে। তাঁদের ভাষ্যে বেআইনীভাবে জমির শ্রেণি পরিবর্ত করে ডালিম ও দলু আইন ভঙ্গ করেছেন। সেই সঙ্গে তারা হাজারো মানুষের পেটে লাথি মারতে বিলের মধ্যে পুকুর কেটে চরম ঔদ্ধত্য দেখিয়েছেন। এরপরও যদি তাঁদের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ না হয়, তবে পায়ারাডাঙ্গা-ভালকী গ্রামে এই পুকুর কাটা নিয়ে দাঙ্গা-ফ্যাসাদ শুরু হতে পারে বলে গ্রামবাসী আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। পুকুরের মালিক ডালিম ও দলু জানান, তাঁরা তাঁদের জমিতে পুকুর কাটছেন। পুকুর কাটার কারণে কোনো কৃষকের ক্ষতি হলে তাঁরা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে দিবেন। এ ব্যাপারে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা নাফিজ সুলতানা জানান, ‘আমি অসুস্থ থাকার কারণে অভিযোগটি পায়নি। তবে জেলা প্রশাসন থেকে আমাকে অবহিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেছেন। আমি সরেজমিন তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’ তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করারও পরামর্শ দেন।


কমেন্ট বক্স
notebook

জীবননগর সীমান্তে ৫৮ বিজিবির অভিযানে ভারতীয় সিরাপ ও কীটনাশক জব্দ