‘কালের সাক্ষী মহীরুহের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত’
- আপলোড তারিখঃ
২৬-০৬-২০২০
ইং
প্রতিবেদক, কালীগঞ্জ:
প্রায় পাঁচ শ বছরের পুরাতন বিশাল গাছের ছায়ায় প্রতিবছর বৈশাখী মেলা বসে। গরমের দিনে গাছটির সুশীতল ছায়াতলে বসে পথিকসহ এলাকার পরিশ্রান্ত মানুষ নিজেদের শরীর শীতল করে নেন। প্রতিবছর এই গাছে প্রচুর তেঁতুল উৎপাদন হয়। যার বিক্রিত অর্থ বাজারের একমাত্র মসজিদের উন্নয়নকাজে জমা হয়। মৌসুমে পাকা তেঁতুল কুড়িয়ে রসনা তৃপ্ত করে না, এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর। এছাড়া এই বিশাল গাছটি এ অঞ্চলের বিভিন্ন প্রজাতির পাখিদের আশ্রয়স্থল। গাছটির অবস্থান ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা বাজারের মাঝখানে। শ্রীবৃদ্ধি করে দাঁড়িয়ে থাকা কালের সাক্ষী পরম ভালোবাসার এই মহীরুহকে কাটতে এলাকার কিছু লোক উঠেপড়ে লেগেছে।
গত ২২ জুন গাছটিকে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে ও নতুন হাট চাঁদনি নির্মাণের কথা বলে এই গাছ কেটে ফেলার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেওয়া আবেদনে স্থানীয় ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ছানা জোর সুপারিশ করে স্বাক্ষর করে দিয়েছেন। আবেদনটি করেন ইউনিয়নের ৭ নম্বর ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন ও ৮ নম্বর ইউপি সদস্য কে এম শামছুল হক। গাছটি কাটা হচ্ছে ঘটনা জানাজানির পর এলাকার মানুষ ওই গাছখেকো চক্রের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল মান্নান (৬০) নামের এক বৃদ্ধ জানান, ‘সম্প্রতি আম্পান ঝড়ে বাজারের তেঁতুল গাছটির একটি ছোট ডালও ভেঙে পড়েনি। গাছের কোনো শুকনো ডালও নেই। এই গাছের ডাল ভেঙে পড়ে কোনো ব্যক্তির হতাহতের ঘটনাও কখনো ঘটেনি। কিন্তু এরই মধ্যে এই গাছটিকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে কাটার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই গাছের জন্য আমরা জীবন দিতে প্রস্তুত আছি।’ তিনি জানান, ‘বালিয়াডাঙ্গা বাজারের এই তেঁতুলগাছটি আমাদের ঐতিহ্য। বাজারের সবকিছু এই গাছকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। গাছের তলায় সপ্তাহে দুদিন বাজার বসে। এছাড়াও প্রচণ্ড খরায় এই গাছই আমাদের ছায়া দিয়ে বাঁচিয়ে রাখে। এই গাছের নিচেই আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন ধরে দোকানদারি করছি। এই তেঁতুল গাছের দ্বারা কোনোদিন ক্ষতি হয়নিঅ।’
স্থানীয়রা জানায়, বাজারের হাট-চান্দি নির্মাণের জন্য তাঁদের কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। গাছ কাটার ব্যাপারে কিছই তাঁদেরু জানানো হয়নি। তাঁরা সবাই গাছটি না কাটার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে অনুরোধ করেন।
বালিয়াডাঙ্গা বাজারের পল্লী চিকিৎসক ডা. সিদ্দিকুর রহমান (৬৫) জানান, গ্রামবাসী ও বাজারের শতকরা ৯৫ মানুষ গাছটি না কাটার পক্ষে। এই গাছটির দ্বারা কেউ কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। বাজারে সরকারি জমিতে অনেক দোকান আছে, সেগুলো উচ্ছেদ করলেই বড় হাট চান্নি নির্মাণ করা সম্ভব। সুলতান আহমেদ নামের এক যুবক জানান, এই গাছটি বাজারের ঐতিহ্য। গাছটি বাঁচাতে জীবন দিতে রাজি আছি। গাছ না কাটার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
এ বিষয়ে ৬ নম্বর ত্রিলোচনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সানা বলেন, বালিয়াডাঙ্গা বাজারের পুরাতন তেঁতুলগাছটি কাটার ব্যাপারে একটি দরখাস্ত ইউএনওকে দেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসী যদি না চায়, তাহলে গাছ কাটা হবে না।
এ প্রসঙ্গে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুবর্ণা রাণী সাহা বলেন, বালিয়াডাঙ্গা বাজারের গাছটি কাটার ব্যাপারে এখনো কোনো আবেদন তিনি পাননি। আবেদন এলে বিষয়টি সুবিবেচনা করা হবে।
কমেন্ট বক্স