বহুতল ভবন ও মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ, এলাকাবাসীর বাধা
- আপলোড তারিখঃ
২৬-০৬-২০২০
ইং
চুয়াডাঙ্গা জাফরপুর বাজারে জেলা পরিষদ ও পার্শ্ববর্তী জমি মালিকের জমি দখল করে
সমীকরণ প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা জাফরপুর বাজারে জেলা পরিষদের জায়গা এবং পার্শ্ববর্তী জমি মালিকের জমি দখল করে বহুতল ভবন ও মার্কেট (মোল্লা কমপ্লেক্স) নির্মাণ করায় ফুঁসে উঠেছেন এলাকাবাসী ও পার্শ্ববতী জমির মালিকগণ।
এলাকাবাসী ও প্রতিবেশী জমি মালিকদের অভিযোগ, ভবন নির্মাণের কোনো নিয়ম-নীতি বা বিল্ডিং কোড না মেনেই প্রভাব খাটিয়ে জেলা পরিষদের ৫ ফুট জায়গা ও পার্শ্ববর্তী জমির মালিক নাজমুল হুদার ৩ ফুট (পূর্ব-পশ্চিমে ৬৭ ফুট) জমি দখল করে ৭ তলা বিশিষ্ট ভবন ও মাল্টি মার্কেট নির্মাণ করছেন জাফরপুরের আহাসানুজ্জামান উকিল। ভবন নির্মাণের শুরুতে প্রতিবেশী জমির মালিক নাজমুল হুদা ও বরকত আলীসহ এলাকাবাসী কয়েক দফা সশরীরে উপস্থিত হয়ে মৌখিকভাবে নিয়ম মেনে ভিত করতে বলেন। কিন্তু সে কথা আমলে না নিয়ে ব্লিডিং মালিক আহাসানুজ্জামান ও শামীমা খাতুন প্রভাব খাটিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের কোনো অনুমতি ছাড়ায় জেলা পরিষদের ও পার্শ্ববতী জমি মালিকের জমি দখল করে ভবন নির্মাণ করছেন। ইতিমধ্যেই আন্ডারগ্রাউন্ড ফ্লোরসহ চারতলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়ে গেছে। ভবন নির্মাণের সময় দেড় থেকে তিন ফুট জমি বাদ রেখে নির্মাণ কাজ করার যে বিধি-বিধান আছে, তা মানাতো হয়নি বরং অন্যের জায়গা দখল করে ব্লিডিং নির্মাণ করা হচ্ছে। এ অবস্থায় পার্শ্ববর্তী জমির মালিক নাজমুল হুদা শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত টিম করে ঘটনাস্থলে পাঠান। গতকাল দু-পক্ষের আমিন জমি পরিমাপ করেন।
অভিযোগকারী ও এলাকাবাসী জানান, সার্ভেয়ার/আমিনদের মাপে দেখা গেছে ওই ভবন জেলা পরিষদের জায়গার ৫ ফুট ভেতরে ও (অভিযোগকারী) নাজমুল হুদার জমির ৩ ফুট ভেতরে স্থাপনা চলে গেছে। অভিযোগকারী তাঁর লিখিত অভিযোগে আরও বলেন, ‘জমি দখল করে বিল্ডিংয় তো করছেই, তার ওপর ব্লিডিংয়ের সিমেন্ট, বালি-খোয়া ফেলে আমার জিনিসপত্র ভেঙে দিচ্ছে। নিষেধ করলে মারমুখী আচরণ করে থানা-পুলিশ ও প্রভাবশালীদের হুমকি দেখাচ্ছে।’
এ ব্যাপারে বিল্ডিংয়ের মালিক আহাসানুজ্জামান উকিলের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি জমি যথাযথভাবে জমি পরিমাপ করে নির্মাণ কাজ শুরু করেছিলাম। আমি কাউকে হুমকি দিইনি বা প্রভাবও খাটায়নি।’ জেলা পরিষদের জমি দখলের বিষয়টি তিনি স্বীকার করে নিয়ে বলেন, ‘জেলা পরিষদের নিকট থেকে আমি ওই জমি কিছু দিনের মধ্যেই লিজ নিব।’ অভিযোগকারীর তিন ফুট জায়গা দখলের ব্যাপারে বলেন, ‘আমি আমার এরিয়ার মধ্যেই ভবন নির্মাণ করছি। ভবনের সামনে ৭ তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণের ছবি টাঙিয়ে বিল্ডিং নির্মাণ করা হচ্ছে।’ অনুমোদন আছে কি না, জানতে চাইলে বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে গিয়ে আহসানুজ্জামান বলেন, ইউনিয়ন এরিয়ায় ভবন নির্মাণের আবার অনুমোদন লাগে নাকি।
এ বিষয়ে শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান বলেন, ‘ভবন নির্মাণের কোনো লিখিত আবদেন আমার ইউনিয়ন বরাবর করা হয়নি। তবে পার্শ্ববতী জমির মালিক নাজমুল হুদা বিল্ডিং নির্মাণে অনিয়মের ব্যাপারে অভিযোগ করেছেন। তাঁর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইউনিয়ন প্যানেল চেয়ারম্যান শওকত আলী, স্থানীয় সদস্য জিল্লুর রহমান ও রোজিনা খাতুনকে নিয়ে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। তাঁদের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
এদিকে বরকত আলী নামের অপর প্রতিবেশী বলেন, ‘আমার পরিবারসহ জাফরপুর মিয়া পাড়ার শতাধিক মানুষ যে পথ দিয়ে বাড়িতে ঢুকত, এখন আমরা পায়ে হেঁটেও বাড়িতে ঢুকতে পারব না। তাই আমরা চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহোদয়ের নিকট সুবিচার পাওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’
কমেন্ট বক্স