কাবিখার ১২৬৬ বস্তা চাল বিক্রিতে অনিয়ম মেলেনি : তদন্ত কমিটি
- আপলোড তারিখঃ
১৫-০৬-২০২০
ইং
চুয়াডাঙ্গায় উদ্ধার হওয়া মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার জন্য বরাদ্দকৃত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় উদ্ধার হওয়া মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার জন্য বরাদ্দকৃত কাবিখার ১২৬৬ বস্তা (৩৭ হাজার ৯৮০ কেজি) সরকারি চাল জব্দের ঘটনায় তদন্ত সম্পূর্ণ হয়েছে। গত ৮ জুলাই থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি অভিযুক্তদের নিয়ে শুনানি করে। শুনানি শেষে আজ সোমবার তদন্ত কমিটি চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকারের নিকট রিপোর্ট জমা দিয়েছে। রির্পোটে বলা হয়েছে এ ঘটনায় কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, কাবিখার নীতিমালা অনুযায়ী কাবিখা প্রজেক্টে সরকারি কাজের জন্য নগদ টাকার প্রয়োজন হলে চালের ৬০-৭০ শতাংশ বিক্রয় করা যায়। সে হিসেবে ওই চাল বিক্রি শেষে ক্যাশ টাকা প্রজেক্টের সরকারি কাজেই ব্যবহার করা হয়েছে। তাই কোনো অনিয়ম পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
চুয়াডঙ্গা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানাগেছে, চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি অভিযুক্তদের নিয়ে গত বুধবার থেকে শুনানি করছে। শুনানি শেষে আজ তদন্তের রিপোর্ট জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নজরুল ইসলাম সরকারের নিকট জমা দিয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, চুয়াডাঙ্গায় উদ্ধারকৃত মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার জন্য বরাদ্দকৃত কাবিখার ১২৬৬ বস্তা বা ৩৭ হাজার ৯৮০ কেজি সরকারি চাল জব্দে চুয়াডাঙ্গার দুই ব্যবসায়ী গৌতম শাহা, অশোক শাহা, গোডাউন মালিক নজরুল ইসলাম, মেহেরপুরের মঈনুল হকসহ সংশ্লিষ্ট্য সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও কমিটির সভাপতিদের বক্তব্য নেওয়ার জন্য নোটিশ করা হয়। পরে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ে কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে শুনানি করা হয়। শুনানিতে বেরিয়ে আসে, কাবিখার নীতিমালা অনুযায়ী কাবিখা প্রজেক্টে সরকারি কাজের জন্য নগদ টাকার প্রয়োজন হলে চালের ৬০-৭০ শতাংশ বিক্রয় করা যায়। সেই বিধান অীনুযায়ী বিক্রিত চালের সমপরিমাণ অর্থ নিদিষ্ট প্রকল্পেই ব্যয় করা হয়েছে মর্মে প্রতিয়মান হয়। সুতরাং, এই তদন্তে সর্ম্পূর্ণরুপে কোনো প্রকার অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়নি।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেয়েছি। সেখানে বলা হয়েছে, কাবিখার নীতিমালা অনুযায়ী পাকা কাজ করার জন্য নিদিষ্ট পরিমাণ বিক্রি করা যেতে পারে। রিপোর্ট অনুযায়ী তাঁরা নীতিমালা মেনেই চাল বিক্রি করেছেন এবং সরকারি কাজেই সেই নগদ অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। কোনো অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়নি।
উল্লেখ্য, গত রোববার গভীর রাতে চুয়াডাঙ্গা শহরের সাতগাড়ী এলাকার দুটি গোডাউনে সরকারি চাল ট্রাকযোগে আনলোড করা হয়। এর মধ্যে একটি গোডাউনে ৬০০ বস্তা ও অপরটিতে ৬৬৬ বস্তা মজুদ করে রাখা হয়। খাদ্য অধিদফতরের প্রতিটি ৩০ কেজি ওজনের চালের বস্তার বাহ্যিক অংশে লেখা রয়েছে ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ।’ সোমবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে জেলা প্রশাসন ও খাদ্য অধিদফতরের একটি টিম গোডাউন দুটিতে অভিযান চালায়। এ সময় জেলা প্রশাসন ও খাদ্য অধিদফতরের যৌথ টিমটি সরকারি ১২৬৬ বস্তা চাল জব্দ করেন। একই সাথে দুটি গোডাউন সিলগালা করে। তাৎক্ষণিক তদন্তে রেরিয়ে আসে, এই চাল মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার জন্য বরাদ্দকৃত কাবিখার ১২৬৬ বস্তা বা ৩৭ হাজার ৯৮০ কেজি। এ ঘটনা অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মনিরা পারভীনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে চুয়াডঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার।
কমেন্ট বক্স