মেহেরপুরে যৌতুকের দাবিতে গৃবধূকে হত্যার অভিযোগ
- আপলোড তারিখঃ
১৫-০৬-২০২০
ইং
মেহেরপুর অফিস:
মেহেরপুরে যৌতুকের দাবিতে ফাতিমা খাতুন (২৭) নামের এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রোববার সকাল ৭টার দিকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, গত ১২ তারিখ দিবাগত রাত ৩টার দিকে ফাতিমা খাতুনকে জোরপূর্বক বিষপান করান তাঁর স্বামী বকুল হোসেন ও দেবর পল্টু। নিহত ফাতিমা খাতুন সদর উপজেলার সুবিদপুর গ্রামের আসাদুল ইসলামের মেয়ে। তাঁর ৮ বছরের এক কন্যাসন্তান রয়েছে। নিহতরে লাশ ময়নাতদন্ত শেষ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহতের খালাতো ভাই কামাল হোসেন জানান, ‘প্রায় ১০ বছর আগে মেহেরপুর সদর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের রাইন হোসেনের ছেলে বকুল হোসেনের সঙ্গে ফাতিমা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করতেন ফাতিমার স্বামী বকুল ও তাঁর পরিবারের লোকজন। এর মধ্যে কয়েক দফা বেশ কিছু টাকা বকুলকে দেওয়া হয়। সম্প্রতি আবারও টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন বকুল। টাকা দিতে না পারায় গত ১২ জুন ফাতিমাকে বকুল ও তাঁর ভাই পল্টু জোর করে বিষপান করিয়ে দেন। পরে তাঁরায় হাসপাতালে নিয়ে এসে আমাদের খবর দেন। আমরা হাসপাতালে আসার পর তাঁরা পালিয়ে যান। ফাতিমা যখন বেঁচেছিল, তাঁর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। সে বলেছে আমাকে জোর করে বিষ খাইয়ে দিয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি করার পর থেকে তাঁর স্বামী ও পরিবারের লোকজন আত্মগোপনে রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, এর আগেও বেশ কয়েকবার ফাতিমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য চাপ দিয়েছে। এ জন্য ফাতিমা তার বাপের বাড়ি সুবিদপুর চলে আসে। কিন্তু পরে তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন ফুঁসলিয়ে আবার নিয়ে যায়।
নিহতের চাচাতো ভাই রানা বলেন, ‘আমার বোনকে যৌতুকের দাবিতে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করত। তার গায়ে একটি পোড়ার দাগও আছে।’ মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা মোখলেসুর রহমান জানান, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফাতিমা খাতুন মারা গেছেন। যখন তাঁকে ভর্তি করা হয়, তখন বিষপান করে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছেন বলে পরিবার থেকে বলা হয়েছিল। মেহেরপুর সদর থানার ওসি শাহ দারা খান বলেন, ‘আমরা লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে আসল ঘটনা জানা যাবে।’ এদিকে দুপুরের পর ময়নাতদন্ত শেষে পিতার গ্রামের বাড়ি সুবিদপুরে লাশ দাফন করা হয়েছে।
কমেন্ট বক্স