শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

পরিবেশের প্রয়োজনে গড়তে হবে ছাদবাগান

  • আপলোড তারিখঃ ০৫-০৬-২০২০ ইং
পরিবেশের প্রয়োজনে গড়তে হবে ছাদবাগান
গৃহিনী কেয়ার বাড়ির আঙিনা ও ছাদে নান্দনিক বাগান এস এম শাফায়েত: ইট-কাঠের নাগরিক সভ্যতার শহরগুলো থেকে দ্রুতই হারিয়ে যাচ্ছে সবুজ। কিন্তু মানুষ তার শিকড়কে সহজেই ভুলতে পারে না। সবুজে ভরা গ্রাম-বাংলায় বেড়ে ওঠা নাগরিক সমাজের একটা অংশ সবুজকে ধরে রাখতে চায় সবস্থলে। শৌখিন মানুষ তাদের ঘরবাড়িতে সবুজকে ধরে রাখার জন্য একান্ত নিজস্ব ভাবনা আর প্রচেষ্টায় আপন বাড়ির ছাদে ও আঙিনায় তৈরি করছেন বাগান। এমন নান্দনিক বাগানের দেখা মিলল চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের ঈদগাহ রোডের ‘কেয়া’ ভবনের আঙিনা ও ছাদে। যেখানে নিজস্ব পরিকল্পনায় বাগান ও মৌসুমী ফলের চাষ করছেন গৃহিনী কাবেরী সুলতানা কেয়া। বছর দশেক আগে এখানে বাড়ি নির্মাণের পর সামনের অংশে বাগান তৈরি শুরু করেন তিনি। দেশী-বিদেশী লেবু, কমলা, মাল্টা, নারিকেল, করমচা, চেরিফল, জামরুল, জাম, ডালিম, আম, লিচু, আপেল, পেয়ারা, সফেদা, শরীফা, মিষ্টি তেঁতুল, মিষ্টি জলপাই, লটকন, মিষ্টি কামরাঙা, জাম্বুরা, ড্রাগন ফল, কদবেল, বেল, ক্যাপসিকাম ও আমড়াসহ ফলদ বিভিন্ন প্রজাতির শতাধিক গাছ এখন তাঁর সংগ্রহে রয়েছে। ইটপাথরের বিশাল অট্টালিকার সামনে সবুজে ছেয়ে থাকা এই বাগান দেখলে চোখ জুড়ায় যে কারো। শখের বশে বাগান করে তিনি যেমন মনে আনন্দ পাচ্ছেন, তেমনি শাক-সবজি ও ফল পাচ্ছেন বিষমুক্ত। বাগানে কিছু ফলগাছ আছে যেগুলোতে সারা বছরই ফল ধরে আর সেসব ফল দিয়ে করা যায় অতিথি আপ্যায়ন। গৃহিনী কাবেরী সুলতানা কেয়া বলেন, ‘ছোট বেলা থেকেই আমার গাছপালা ভালো লাগে। ভালো লাগা থেকে ভালোবাসা আর ভালোবাসার টানে বাড়ির আঙিনায় কিছু ফুল ও ফলের গাছ লাগিয়ে বাগান পরিচর্যার কাজ শুরু করি। ফুল ক্ষণস্থায়ী হওয়ায় ফুলগাছ লাগাতে খুব একটা ভালো লাগে না। সবুজ ও সুন্দর হওয়ায় ফল এবং পাতাবাহার জাতীয় গাছ বেশি ভালো লাগে। সবমিলিয়ে গাছ আমার প্রিয় বন্ধু। যে কারণে তার পরিচর্যা আমি নিজ হাতেই করি।’ এদিকে, বাড়িটিতে তিনজন কেয়ারটেকার ও চারজন গৃহপরিচারিকা থাকলেও বাগান পরিচর্যায় কাজ নিজ হাতে করেন কেয়া। স্বামী এনামুল হক লোটাস ব্যবসায়িক কাজে প্রায় সবসময়ই ব্যস্ত থাকেন। বড় ছেলে কামরুল হাসান কপোত তার স্ত্রী সুস্মি তানজিম ও শিশু সন্তান তাহারাতকে নিয়ে থাকেন রাজধানী ঢাকাতে। পড়াশোনার সুবাদে সেখানে তাদের সঙ্গেই থাকেন ছোট ছেলে ইশতিয়াক আহমেদ রাহাত। বছরে কয়েকটি উৎসবে বাড়িতে আসেন সবাই। তা ছাড়া বাকীটা সময় পরিবারের সদস্যদের ছাড়াই থাকতে হয় তাকে। অবসর সময়টা তাই বাগানের গাছপালাদের সঙ্গেই কাটে। বাড়ির আঙিনায় আছে আরও একটি চৌবাচ্চা। সেখানে স্বচ্ছ পানিতে লাল শাপলার সঙ্গে দেশীয় প্রজাতির মাছের চাষাবাদ করেন তিনি। এছাড়া নিজ হাতে গৃহস্থালির কাজকর্মসহ ঘর সাজানোর কাজেও বেশ পটু কাবেরী সুলতানা। বিশেষজ্ঞদের মতে, কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে খোলামেলা জায়গা। আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে ছেয়ে যাচ্ছে শহর। ইট-কাঠের বদলে দ্রুতই বৃদ্ধি পাচ্ছে ইস্পাতের কাঠামো ও কাচে মোড়ানো বহুতল ভবন। কাচে মোড়ানো দরজা-জানালায় ও বাণিজ্যিক ভবনের টেকসই স্থাপনার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে হালকা, কিন্তু শক্তিশালী ধাতব পাত, ফাইবার ও গ্লাস। এতে তাপমাত্রা আরো বাড়ছে, কারণ, সূর্য থেকে তাপ ও আলো ধাতব ও কাচের কাঠামোর একটিতে পড়ে অপরটিতে প্রতিফলিত হয়। বারংবার প্রতিফলনের কারণে কিছু নির্দিষ্ট এলাকার তাপমাত্রা আশপাশের এলাকার তুলনায় সামান্য বেড়ে যায় এবং শহরজুড়ে তৈরি হয় অসংখ্য হিট আইল্যান্ড বা তাপ দ্বীপ। তবে এসব ভবনের ছাদে কিংবা এর কাঠামোতে বাগান করা গেলে বাগানের গাছ এ তাপ শুষে নেয় এবং গাছের দেহ থেকে যে পানি জলীয়বাষ্প আকারে প্রস্বেদন প্রক্রিয়ায় বেরিয়ে যায়, তা সেই স্থানের তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি কমিয়ে আনে। অসংখ্য ছাদবাগান বা শহুরে গাছপালা এ প্রক্রিয়ায় শহরের উচ্চ তাপমাত্রাকে কমিয়ে আনে। যেহেতু সমতলে গাছ লাগানোর জায়গা তেমন নেই, সেহেতু বাড়ির ছাদে কিংবা ব্যালকনিতে সুষ্ঠুভাবে বাগান করা হলে তাপমাত্রা অনেকাংশেই কমানো সম্ভব।


কমেন্ট বক্স