পাখিদের অকৃত্রিম বন্ধু সার্জেন্ট মৃত্যুঞ্জয়
- আপলোড তারিখঃ
৩১-০৫-২০২০
ইং
এস এম শাফায়েত:
চুয়াডাঙ্গার বড় বাজারের শহীদ হাসান চত্বরে ডিউটি করছিলেন ট্রাফিক পুলিশ সার্জেন্ট মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস। হঠাৎ এক দল শালিক এসে তাঁর চারপাশে কিচিরমিচির শুরু করে। আশপাশের হোটেল ও দোকানপাট বন্ধ থাকায় চরম খাবার সংকটে পড়েছে পাখিগুলো। বিষয়টি বুঝতে পেরে পাশের মুদি দোকান থেকে চাল ও চানাচুর এনে পাখিদের খেতে দেন তিনি। এসময় আশপাশ থেকে আরো কয়েক শত পাখি এসে ঘিরে ধরে তাকে। পরে সব পাখিকে খাবার দেন মৃত্যুঞ্জয় নিজেই। ঘটনাটি করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে লকডাউনের শুরুতে হলেও চলমান আছে এখনও। আর যতদিন হোটেল-রেস্তোরা, দোকান-পাট খুলে পাখিগুলোর খাবারের বন্দোবস্ত না হয় ততদিন এ কার্যক্রম চলবে বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
মূলত, গত মাসের শনিবার (২৫ এপ্রিল) থেকে তিনি পাখিগুলোর খাবারের ব্যবস্থা করছেন। সকালে যখন খাবার নিয়ে হাজির হন ঠিক তখন পাখিগুলো গাছ, বাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছাদ থেকে উড়ে এসে তাকে ঘিরে ধরে খাবারের জন্য। তিনি নিজ হাতে খাবার গুলো ছিটিয়ে দেন রাস্তায়। তখন পাখিগুলো উড়ে এসে খুটে খায় খাবারগুলো। প্রয়োজন মতো খাবার খেয়ে পাখিগুলো আবারও ফিরে যায় নিজেদের ঠিকানায়। এখনও পর্যন্ত দিনে দুই বার সকাল ও বিকালে খাবার দেয়া হয় পাখিগুলোকে। শালিক, চড়ুই, ঘুঘু, দোয়েলসহ বেশ কয়েক প্রজাতির পাখি দেখা যায় তার খাবারের আসরে। খাবার দিতে একটু দেরি হলেই পাখিগুলো কিচিরমিচির করতে শুরু করে। পাখির কাছে তিনি ধীরে ধীরে হেটে যেতে শুরু করলেই পাখিগুলো শান্ত হয়ে যায়। পথচারী অনেকেই দাঁড়িয়ে তা উপভোগ করেন। অবশ্য ছোটবেলা থেকেই বাসায় পাখি পালেন তিনি। তার অন্যরকম সেই মায়ার জায়গা থেকে তাই সহজেই বুঝতে পেরেছেন পাখিদের আবদারের ভাষা। গতকাল শনিবার বিকেলে কথা হয় সার্জেন্ট মৃত্যুঞ্জয়ের সঙ্গে।
তিনি বলেন, ‘চলমান মহামারী করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকিতে লকডাউনের কারণে সব খাবার হোটেল ও দোকান পাট বন্ধ রয়েছে। যে কারণে তাদের খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। যতদিন করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হবে ততদিন আমি ওদের খাবার খাওয়াবো। মানুষের ঘরে খাবার না থাকলে সে বলতে পারে। কিন্তু পাখিরা তো তাদের ক্ষুধার কথা বলতেও পারে না।’ তাই হৃদয়বান ব্যক্তিদের এসব পশু-পাখিদের খাবার দিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
কমেন্ট বক্স