‘বেশি বুঝলে মোটেও পাবেন না’
- আপলোড তারিখঃ
১৪-০৫-২০২০
ইং
ঝিনাইদহ অফিস:
বিধবা ভাতার টাকা কম দেওয়ার প্রতিবাদ করে নাজেহাল হচ্ছেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার হতদরিদ্র মহিলারা। এ নিয়ে কালীগঞ্জে হৈ চৈ শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, গৃহপরিচারিকা আখিরন নেছা গত সোমবার সোনালী ব্যাংক কালীগঞ্জ শাখায় গিয়েছিলেন বিধবা ভাতার টাকা উত্তোলন করতে। তাঁর পাওনা ছিল ৪ হাজার ৫ শ টাকা। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ভাতার বইতে ৪ হাজার ৫ শ টাকা প্রদান লিখলেও তাঁর হাতে ধরিয়ে দিচ্ছিলেন ৩ হাজার টাকা। বাকি টাকার কথা জানতে চাইলে বলা হয়েছে ‘বেশি বুঝলে মোটেও পাবেন না’। একইভাবে কদবানু নামে আরেক মহিলার হাতেও ৪ হাজার ৫ শ টাকার পরিবর্তে দেওয়া হয় ৩ হাজার টাকা। তাকেও ‘এই টাকা নিলে নেন, না নিলে চলে যান’ বলে হুমকি দেন ব্যাংক কর্মকর্তা। আখিরন নেছা, কদবানু শুধু নয়, এ রকম অসংখ্য বিধবা নারীর টাকা কম দিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। যা স্থানীয় এমপি আনোয়ারুল আজিম আনারের হস্তক্ষেপে ফেরত পেয়েছেন। সাংসদ আনারের ভাষ্যে, অসহায় দরিদ্র মানুষের জন্য সরকারের দেওয়া এই টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাঁদের হাতে কম টাকা তুলে দিচ্ছিলেন। পরে তাঁর উপস্থিতিতে ১৫ জনের টাকা ফেরৎ দেওয়া হয়। এমপি আরও জানান, আরও অসংখ্য মানুষের সঙ্গে এটা করা হয়েছে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. কৌশিক খান জানান, প্রতিমাসে অত্র উপজেলায় বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও বিধবা ভাতা হিসেবে ৭৮ লাখ ৩৭ হাজার ২৫০ টাকা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৪ হাজার ৯ জন বিধবা ভাতা, ৮ হাজার ৪ শ জন বয়ষ্ক ভাতা ও ২ হাজার ১৭৭ জন প্রতিবন্ধী ভাতা পেয়ে থাকেন। গত মঙ্গলবার সরেজমিনে সোনালী ব্যাংকের কালীগঞ্জ শাখায় গিয়ে দেখা যায়, সোমবার যাদের টাকা কম দেওয়া হয়েছিল, তাদের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। সমাজসেবা অফিসের ইউনিয়ন সমাজকর্মী রবিউল ইসলাম জানান, তাঁরা খোঁজখবর নিয়ে আরও ১৪ জনের সন্ধান পেয়েছেন। তাঁদের বাকি ১ হাজার ৫ শ টাকা পাওয়ার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ব্যাংকে এসেছেন এবং ইতিমধ্যে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাঁদের সেই টাকাও পরিশোধ করেছেন। আরও কেউ টাকা কম পেয়ে থাকলে তার টাকা পাওয়ার ব্যবস্থাও নিবেন। এ সময় নার্গিস বেগম জানান, তিনি ১ হাজার ৫ শ টাকা কম দেওয়ার কারণ জানতে চাওয়ায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাঁকে তাড়িয়ে দিয়েছেন।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. কৌশিক খাঁন জানান, টাকা কেটে রাখার বিষয়টি কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। ভাতাপ্রাপ্তদের যে বই আছে, সেখানে ৪ হাজার ৫ শ টাকা লিখে ৩ হাজার দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এটা দুর্নীতি। এ বিষয়ে ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক শামীম রেজা জানান, অনেক কাজের মধ্যে এই কাজটি করতে গিয়ে তাঁর কর্মকর্তারা ভুল করেছেন। পরে সমাধান করে ফেলা হয়েছে। তারপরও বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
কমেন্ট বক্স