একটি ফোন কল, ঘর পোড়া মানুষের বাড়ি ইউএনও
- আপলোড তারিখঃ
০৫-০৪-২০২০
ইং
মাহাবুব আলম:
গত কয়েকদিনে যখন কুড়িগ্রামের ডিসি রাতের আধারে সাংবাদিক জেল-নির্যাতনে জড়িত ছিলেন, যশোরের মনিরামপুরে নারী ম্যাজিস্ট্রেট যখন বয়স্কদের কান ধরালেন, আরেক নারী এসিল্যান্ডকে যখন এক মাছ ব্যবসায়ী তাঁকে আপু বলায় তিনি লাথি মেরে মাছের হাড়ি ফেলে দেন, এসব নিয়ে নারী কর্মকর্তারা যখন সমালোচনার মুখে পড়েছেন, ঠিক সেই সময়ে দেবদূতের মতো সরকারের সুনাম কুড়ালেন গাংনীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলারা রহমান। একটি ফোনকলের খবরই বদলে গেলে কান্নামাখা দিনমজুরের মুখ। দিনমজুরের বাড়িতে আগুনে পুড়ে সব শেষ হয়ে গেছে। মুঠোফোনে এমন কল এলে ইউএনও বলেন, ‘আচ্ছা ঠিকানাটা বলুন। মিনিট ২০ পর গাংনী থেকে ১১ কিলোমিটার নিভৃত পল্লী গ্রাম ঢেপাতে অসহায় দিনমজুর নুর ইসলামের বাড়িতে হাজির হন ইউএনও দিলারা রহমান। তিনি আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘরগুলো পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি দরিদ্র দিনমজুর নুর ইসলামকে আর্থিক ও খাদ্যসামগ্রী সাহায্য করেন। পাশাপাশি মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে আরও ১০ হাজার টাকার অনুদানের ব্যবস্থা করেন। এছাড়াও দেশের সমসাময়িক সমস্যার সমাধান হলে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে নতুন করে ঘর তৈরি করে দেবেন বলে তিনি নিশ্চিত করেন। তাঁর এই মহানুভতা স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা সাধুবাদ জানান।
জানা যায়, মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ধানখোলা ইউনিয়নের ঢেপা গ্রামের দিনমজুর নুর ইসলামের বসতবাড়িতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় লোকজন জানান, গতকাল শনিবার দুপুর বেলা নুর ইসলামের বাড়িতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন ধরে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ক্ষতিগ্রস্ত দিনমজুর নুর ইসলাম জানান, ‘প্রতিদিনের ন্যায় আমি আজকেও (শনিবার) মাঠে লেবারের কাজ করতে গিয়েছিলাম। এ সময় শুনতে পায়, বাড়িতে আগুন ধরেছে। বাড়িতে গিয়ে দেখি আমার সব শেষ, কিছুই নেই। আমার দুই সন্তান নিয়ে একদম পথে বসে গেলাম। আমার আর কিছুই রইল না। ঘরে থাকা আমার সব আসবাব, ধান, গম, চাল, পাটসহ কাগজপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এমন সময়ে আমার মতো ঘরপোড়া নিঃস্ব পরিবারের পাশে গাংনীর ইউএনও, এ যেন নতুন-পুরাতন করে দেওয়ার মতো ঘটে। তিনি আমার জন্য নতুন জামা, স্ত্রীর জন্য নতুন শাড়ী, ছেলেদের জন্য তিন সেট করে নতুন পোশাক, এক মাসের চাল, ডাল, ময়দাসহ নগদ ৫ হাজার টাকা দেন এবং জেলা প্রশাসকের নিকট আরও ১০ হাজার আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি কয়েকদিনের মধ্যে সরকারি ছুটি শেষ হলেই পাওয়া যাবে সরকারি ঘর। তাই আমার মনে আর কষ্ট নেই। কারণ, পোড়ার চেয়ে একটু বেশি পেয়ে গেলাম। শুধু পুরোনো আর নতুন হয়েছে। সঙ্গে একজন আপা পেয়েছি।
গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলারা রহমান জানান, ধানখোলা ইউনিয়নের ঢেপা গ্রামের নুর ইসলামের বাড়ি আগুনে পুড়েছে সব। এমন খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক তাঁদের বাড়িতে যান তিনি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ২৫ কেজি চাল, ৫ কেজি ডাল, ৫ কেজি আলু, ৩ কেজি তেল, ১টি পাঞ্জাবি, শাড়ি, ছোট মেয়ের জন্য ৩ সেট জামা ও নগদ পাঁচ হাজার টাকা প্রদান করেন। সর্বোপরি, খুব দ্রুত তাঁদেরকে সরকারি ঘর প্রদানের ব্যবস্থার ঘোসণা দেন তিনি।
কমেন্ট বক্স