প্রতিবেদক, তিতুদহ:
চুয়াডাঙ্গার তিতুদহ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি খবির উদ্দীন বিশ্বাসের বাড়িতে রাতের আঁধারে ভাঙচুর চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় খবির উদ্দীনের বাড়ির বৈদ্যুতিক তারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন, মাঠের স্যালোমেশিন ভাঙচুর ও আমবাগানের গাছ কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা। গত রোববার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। গতকাল সোমবার এ ঘটনায় দর্শনা থানায় একটি অভিযোগ করেছে খবির উদ্দীন বিশ্বাসের পরিবার।
জানা গেছে, কয়েক মাস পূর্বে খবির উদ্দীনের পরিবারের সঙ্গে জমি-সংক্রান্ত বিরোধে সংঘর্ষ হয় পার্শ্ববর্তী বাহার আলীর পুত্র সাইদুরের পরিবারের। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ১২ জন গুরুতর আহত হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল থেকে রাজশাহীতেও রেফার্ড করা হয়। কয়েক দিন পর উভয়পক্ষের প্রায় সাবাই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। তবে বাড়ি আসার কয়েক দিন পর সাইদুর অসুস্থ হয়ে মারা যান। তারপর থেকেই শুরু হয় দুই পক্ষের সহিংসতা। খবির উদ্দীনের বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনায় সাইদুরের পরিবারের সদস্যরা জড়িত বলে মানে করে খবির উদ্দীনের পরিবার। বর্তমানে খবির উদ্দীনের পরিবারের সদস্যরা অতঙ্কের মধ্যে জীবন যাপন করছেন বলে জানান খবির উদ্দীনের ছেলের স্ত্রী।
সরোজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মাঠে থাকা ৩টি স্যালোমেশিন ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে, বাগানের ১৭টি আমগাছের প্রতিটি মাঝ বরাবর কাটা। এ ছাড়া বাড়ির বৈদ্যুতিক তারও কাটা রয়েছে। খবির উদ্দীনের পরিবারের সদস্যরা বলেন, ‘সাইদুর সুস্থ অবস্থায় বাড়িতে ফিরেছিল। তবে সে ১০ মার্চ পক্স হয়ে মারা গেছে। তার মারা যাওয়ার পেছনে আমাদের পরিবারের হাত আছে বলে মনে করে তারা। এ জন্য তারা নানা দিক দিয়ে আমাদের সমস্যা সৃষ্টি করছে।’ খবির উদ্দীনের পরিবারের সদস্যরা আরও বলেন, ‘আমরা মনে করি, এসব ভাঙচুরের পেছনে মৃত সাইদুরের পরিবারের হাত আছে।’ এ বিষয়ে জানার জন্য মৃত সাইদুরের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি।
বৈদ্যুতিক তার বিচ্ছিন্নের বিষয়ে পল্লী বিদুৎ সংযোগকারীদের সঙ্গে কথা বললে তাঁরা জানান, ‘আমরা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করি নি। কে বা কারা এটা রাতের আঁধারে করেছে, তা আমরা জানি না।’
এ বিষয়ে তিতুদহ ক্যাম্প ইনচার্জ মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।’
সমীকরণ প্রতিবেদন