রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

কালীগঞ্জে বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভক্তের বিরল ভালোবাসা

  • আপলোড তারিখঃ ২৩-০২-২০২০ ইং
কালীগঞ্জে বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভক্তের বিরল ভালোবাসা
প্রতিবেদক, কালীগঞ্জ: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহরে ‘শিল্পী আর্ট’ নামে ছোট একটি দোকান। সাইনবোর্ড, ব্যানার লিখে যা আয় হয়, সেটা দিয়েই চলে সংসার। বাম চোখের সমস্যা হওয়ায় এখন আর তেমন একটা কাজ করতে পারেন না। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে একের পর এক শিল্পকর্ম করে যাচ্ছেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার আড়পাড়া এলাকার এক মুজিব ভক্ত সুভাস দাস। বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে কখনো নিজ হাতে ছবি আঁকেন, কখনো আবার মুজিবকে নিয়ে নিজের লেখা গান, নিজের সুরে নিজেই কণ্ঠ দেন আবার বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে কাদা মাটি দিয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য তৈরি করেছেন। সরেজমিনে সুভাষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সুভাষ দাস নিজে বঙ্গবন্ধুকে রংতুলিতে এঁকেছেন। যার দৈর্ঘ্য ৪৮ ফুট ও প্রস্থ ৩০ ফুট। বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মদিন উপলক্ষে দেশ যেখানে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত, তখন এই মুজিব ভক্ত কাদা-মাটি দিয়ে বঙ্গবন্ধুর চিত্রকর্ম তৈরি করতে ব্যস্ত। তিনি বিভিন্ন সাইজের মোট চারটি ভাস্কর্য তৈরি করেছেন। সব থেকে বড় ভাস্কর্যটি লম্বায় ৭ ফুট ও প্রস্থে ৫ ফুট। বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসা আর মহত্বের কারণেই সুভাষ দাস এসব কাজ করে থাকেন। তিনি কোনো প্রতিদান চান না। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে চোখে দেখেননি। কিন্তু দেশের প্রতি তাঁর মমত্ববোধের কথা শুনে তাঁকে ভালোবেসে ফেলেছেন সুভাষ দাস। মুজিব ভক্ত এই মানুষটি আরও বলেন, ‘মুজিবকে ভালোবেসে আমি শুধু একবেলা দুপুরের খাবার খেয়েছি। আমার বাম চোখটা হারিয়েছি। কিন্তু তাতে আমার কোনো আপেক্ষ নেই। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আমার সব কর্ম প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিতে চাই।’ সুভাষ দাস জানান, সম্প্রতি ‘ও মুজিব তুমি মিশে আছো বাঙালির প্রাণে প্রাণে’ শিরোনামে নিজের লেখা ও সুরে কণ্ঠ দিয়ে একটি মিউজিক ভিডিও তৈরি করেছেন শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীকে দেখানোর জন্য। মিউজিক ভিডিওটির চিত্রায়ন করা হয়েছে নিজের হাতে আঁকা শেখ মুজিবের ছবি দিয়ে। তিনি বলেন, ‘ভিডিওর জন্য ৩০ ফুট উচ্চতা ও ২৫ ফুট প্রস্থবিশিষ্ট বঙ্গবন্ধুর তিনটি ছবি আঁকি। এই ছবি আঁকতে গিয়ে ডান চোখে রঙ পড়ে। এরপর চোখে যন্ত্রণা শুরু হয়। ভারতে গিয়ে চোখের অপারেশন করি। ডান চোখ ভালো হওয়ার পর এবার বাম চোখে সব কিছু ঝাপসা দেখি।’ তিনি বলেন, ‘শিল্পী আর্ট’ নামে নিজের একটি অঙ্কনের দোকান আছে। সেখানে থেকে যা আয় হয়, তাই দিয়ে সংসার চালাই। অবশিষ্ট টাকা দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিভিন্ন কাজ করি। চোখে কম দেখি তাই এখন আর কাজ করতে পারি না। বাড়িতে ছবি আঁকা শেখাই। এছাড়া রোজগারের অন্য কোনো পথ আমার নেই। এই গানের পেছনে প্রায় ১ লাক ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এ জন্য অনেক ধার-দেনা করতে হয়েছে।’ মুজিব ভক্ত সুভাষ দাস বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে মাটির তৈরি ভাস্কর্য তৈরি করে বিভিন্ন মানুষকে দিয়েছি। বিনিময়ে কোনো টাকা নিয়নি। এখন পর্যন্ত কেউ আমাকে সহযোগিতাও করেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার এই কর্মগুলো একটু দেখলে আমার ইচ্ছা পূরণ হতো।’ সুভাষ দাসের স্ত্রী রেখা রানী দাস বলেন, ‘শেখ মুজিবকে ভালোবেসে এখন আমরা পথে বসার প্রহর গুনছি। দোকানের কাজ বন্ধ রেখে সে শেখ মুজিবের ছবি আঁকতো। এ নিয়ে প্রায়ই সংসারে গণ্ডগোল হতো। তারপরেও তাঁকে থামানো যায়নি। এখন কোনো কাজ নেই। খুব কষ্টেই চলছে আমাদের। এভাবে চলতে থাকলে পথে বসতে হবে।’ এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার বলেন, ‘আমি সুভাষ দাসকে ভালোভাবে চিনি। আমি তাঁর চিত্রকর্মও দেখেছি। সময় ও সুযোগ বুঝে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব।’


কমেন্ট বক্স