মুজিবনগর থানা যখন ফল-ফুলের বাগান
- আপলোড তারিখঃ
১০-০২-২০২০
ইং
শের খান:
বয়ছে যখন শীতের হাওয়া, চরদিকে শুষ্ক পরিবেশ আর রুক্ষতা, ঠিক এ সময়েই ফল-ফুলের গন্ধে ও ভ্রমরের গুঞ্জনে মুখরিত মুজিবনগর থানা। থানা চত্বরের যে দিকেই তাকাই, সে দিকেই বিচিত্র সব বর্ণাঢ্য ফুলের সমারোহ। কোনটা রেখে কোনটা দেখি। ফুলের গন্ধে মাতোয়ারা থানা চত্বর, যা এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে থানার পরিবেশে। এ ছাড়া থানার বাইরে গেটের দুপাশেও দৃষ্টি নন্দন বাউন্ডারি দিয়ে করা হয়েছে ফুল ও সবজিবাগান। সেখানে চাষ করা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফুলসহ মুলা, পালং শাক, লাল শাকসহ নানান রকমের সবজি, যা দিয়ে থানার সব সদস্যসহ এলাকার বিভিন্ন মানুষের মেটানো হচ্ছে প্রয়োজনীয় চাহিদা। অনেকেই থানায় যেয়ে তরকারি রান্না করার জন্য তুলে নিয়ে আসছেন সবজি। মুজিবনগর থানার পক্ষ থেকে এসব সবজি এলাকার হতদরিদ্র মানুষের খাওয়ার জন্যে উন্মুক্ত করে দেওয়া আছে। এ ছাড়া থানার ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে বিশাল ফুলের বাগান। থানার প্রাকৃতিক শোভার আকর্ষণে স্থানীয় জনগণসহ এলাকার বাইরে থেকেও মুজিবনগরে ঘুরতে আসেন বিভিন্ন বয়সের মানুষেরা। মুগ্ধ হন এ নয়নাভিরাম দৃশ্যে।
মুজিবনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাশেমের নিজস্ব উদ্যেগে থানা চত্বরের বিভিন্ন স্থানে গড়ে তোলা হয়েছে নানা ধরনের ফুলের বাগান। এই বাগানে ফুটেছে নানান প্রকৃতির ফুল। তার মধ্যে রয়েছে গাঁদা, ডালিয়া, জিনিয়া, গোলাপ, জবা, চেরিফুল, রেডবল, পয়েনচেটিয়া, রঙ্গন, ছেলেসিয়াসহ নানা জাতের ফুল। এ ছাড়া লাগানো হয়েছে চায়না লেবু, পেঁপে, কদবেল, পেয়ারা, বাতাবি লেবু, কাগজি লেবু, কাঠাল, মিষ্টি আমড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলের চারাও। জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই ওসি আব্দুল হাশেম মুজিবনগর থানায় যোগদান করেন। তারপর থেকেই নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও ফলের গাছ লাগিয়ে থানা প্রাঙ্গণের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা শুরু করেন তিনি। আর প্রতিদিন মুজিবনগরে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা এ ফুলের বাগান দেখতে যায় থানা প্রাঙ্গণে। এখন ফুলের গন্ধে মৌ মৌ করে মুজিবনগর থানা।
স্থানীয়রা বলেন, ‘মানুষ মনে করত, পুলিশ সারা দিন শুধু চোর-ডাকাত-আসামির পেছনেই ছোটে। থানার প্রতি তাদের আলাদা একটা ভীতি ছিল। এ থানা দেখে মানুষের থানার প্রতি ভীতি দূর হচ্ছে। এ থানার পরিবেশ দেখে মানুষ এখন বুঝতে পারে, সারা দিন আসামি ধরার কর্মব্যস্ততার পরও পুলিশের একটা সুন্দর মনও থাকে। থানার ভেতরে এত সুন্দর একটা ফুলের বাগান তৈরি করে মুজিবনগরের মানুষের মনে জমা পুরোনো ধারনাটির পরিবর্তন করে দিয়েছেন আমাদের ওসি স্যার। তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন, পুলিশও সাধারণ মানুষের মতো। আমাদের অনেক ভালো লেগেছে ওসি স্যারের এমন মহৎ উদ্যোগ।’
মুজিবনগরে ঘুরতে আসা কয়েকজন দর্শনার্থী জানান, ‘মুজিবনগরে ঘুরতে এসে এত সুন্দরভাবে সাজানো-গোছানো একটি থানা দেখতে পেয়ে আমাদের খুব ভালো লাগছে। এমন দৃশ্য সাধারণত চোখে পড়ে না।’ এ বিষয়ে মুজিবনগর থানার ওসি আব্দুল হাশেমের কাছে এমন একটি মহৎ উদ্যোগ ও তাঁর অনুভূতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি সময়ের সমীকরণকে জানান, ‘আমি মুজিবনগরে যোগদানের পর চিন্তা করলাম, এ স্থানে বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠন হয়েছিল এবং এ জায়গাটি দেখতে প্রতিনিয়ত অনেক দর্শনার্থী আসে আর এ সময় ঐতিহাসিক মুজিবনগরে ঢুকতে থানাটি সবার চোখে পড়ে। এমন একটি ঐতিহাসিক জায়গায় অবস্থিত থানাটি যদি অপরিষ্কার থাকে, তাহলে মুজিবনগরের দুর্নাম হবে। এরপর থেকে আমি থানার সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে কাজ শুরু করি। মুজিববর্ষকে সামনে রেখে ঐতিহাসিক মুজিবনগরের সম্মান ও পুলিশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে পুলিশ সুপার স্যারের অনুপ্রেরণায় থানা প্রাঙ্গণের আরও শ্রী বৃদ্ধিতে কাজ শুরু হয়েছে। এ উদ্যোগ গ্রহণ করতে পেরে আমি নিজেও আনন্দিত।’
কমেন্ট বক্স