আলমডাঙ্গার ভোগাইল বগাদি গ্রামে কৃষকের ৩ বিঘা জমির পান বরজ তছরুপ, ৮ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি
- আপলোড তারিখঃ
২৫-০১-২০২০
ইং
আলমডাঙ্গা অফিস:
আলমডাঙ্গার ভাংবাড়িয়া ইউনিয়নের ভোগাইল বগাদি গ্রামে কৃষকদের তিন বিঘা জমির পান বরজ নষ্ট করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়িয়া ইউনিয়নের ভোগাইল বগাদি পূর্বপাড়া মাঠে গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, ভোগাইল বগাদি গ্রামের ওই জমি নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে কোর্টে মামলা চলছিল। মামলার এক পক্ষ মৃত জব্বার মন্ডল ও ভাদু মণ্ডল। জাব্বার মণ্ডলের ছেলে আব্দুল খালেক বলেন, ‘এ জমি আমার বাবার জমি, পরে মৃত আব্দুল গনি মণ্ডলের নামে এই জমি রেকর্ড হয়। এতে দুই পরিবার থেকেই কোর্টে মামলা দায়ের করা হয় এবং আদালতের রায় বের হওয়ার পরে এই জমিতে আমাদের যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গতকাল সকাল সাড়ে আটটার দিকে মৃত গনি মণ্ডলের ছেলে আব্দুর রহিম ও বশির আলী, ভোগাইল বগাদি গ্রামের গাংপাড়ার মৃত শমসের আলীর ছেলে হাসিবুল ইসলাম, আইয়ুব আলীর ছেলে আরিফুল ইসলাম, রোডপাড়ার মৃত মোকছেদ আলীর ছেলে মোকাদ্দেস হোসেন, ভাঙতে পাড়ার মৃত ওয়াজেদ আলীর ছেলে আশরাফুল আলম মঞ্জিল, মৃত আব্দুলের ছেলে রকিবুল ইসলাম, জহির উদ্দিনের ছেলে টোকন হোসেন, বিশুর ছেলে মনোয়ার হোসেন, রেজালের ছেলে বোরহান আলী, পার্শ্ববর্তী শালিকা গ্রামের মহিবুল ইসলাম ও অনুপ নগর গ্রামের রেজাল হকসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন আমাদের জমির ওপরের পান বরজ কেটে প্রায় ৮ লক্ষ টাকার পান তসরুপ করে দিয়েছে।’
এ বিষয়ে কথা হয় পানচাষিদের সঙ্গে। পানচাষি মৃত নবীরউদ্দীন মণ্ডলের ছেলে মিনাল হোসেন বলেন, ‘আমি লিজ নিয়ে এখানে ১০ কাঠা জমিতে পান চাষ করছি। জামি নিয়ে মামলা চলছে। এ মামলার একপক্ষ আমার পান বরজ কেটে তসরুপ করে দিয়েছে।’ নবীরউদ্দীন মণ্ডলের ছেলে মহিবুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ঋণ করে ১০ কাঠা জমি লিজ নিয়ে পান চাষ করছি। পান বরজই আমার একমাত্র সম্বল ছিল, সেটা আজকে কেটে সাবাড় করে দিয়েছে। এখন আমাকে সংসার চালানোর জন্য সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে।’ এ জমিতে পান চাষ করা আরেক জন হলেন পান্না হোসেনের ছেলে কলেজছাত্র মামুনুর রশীদ। কলেজছাত্র মামুনুর রশীদ জানান, ‘এখানে লিজ নেওয়া ১০ কাঠা জমিতে পান চাষ করছিলাম, এই বরজ থেকে পান বিক্রয় করে আমি সংসার ও আমার লেখাপড়ার খরচ চালাই। এখন আমি ছাত্র, আমি তো অন্য কোনো পেশায় জড়াতে পারি না। আজ আমার পান বরজ তারা কেটে দিয়েছে। কীভাবে আমি আমার সংসার চালাব?’ একই রকম অভিযোগ করেন মৃত আলী হোসেনের ছেলে পানচাষি তোসার আলীসহ অনেকে।
এদিকে, মৃত আব্দুলের ছেলে রকিবুল ইসলামের কাছে পান বরজ নষ্ট করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কোনো পানখেত কাটতে যাইনি। আমাকে মৃত আবদুল গনির ছেলে আব্দুর রহিম ডেকে বলেছিল যে তারা পান বরজ কেটে দিচ্ছে। আমি এসে যেন নিয়ে যায়। তাই আমি সেখানে গিয়েছিলাম।’ মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। আমি জোন খেটে আমার সংসার চালাই। গত বৃহস্পতিবার রাতে এসে গনি মণ্ডলের ছেলে আব্দুর রহিম আমাদের জোন হিসেবে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, কাল শুক্রবার সকালে আমার পান বরজ ভাঙতে হবে। তাই আমরা কয়েকজন তার পান বরজ ভাঙার জন্য গিয়েছিলাম। পরে আমরা দেখি, সেখানে গোলযোগ হবার সম্ভাবনা আছে। তাই আমরা সেখানে একসঙ্গে যে কয়জন কাজ করছিলাম, সবাই চলে এসেছি।’
এ বিষয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন আলমডাঙ্গা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আশিকুর রহমান। তিনি বলেন, এই জমি নিয়ে দুপক্ষের বিরোধ চলছে এবং কোর্টে মামলা রয়েছে। এ জমির পান বরজ দখল করতে হলে কোর্ট থেকেই আপস-মীমাংসা করতে হবে। এর আগ পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি ওই জমি দাবি করে জমিতে যেতে পারবে না।’
কমেন্ট বক্স