বাজারজাত হচ্ছে চাল কুমড়ার বড়ি
- আপলোড তারিখঃ
২১-০১-২০২০
ইং
মিঠুন মাহমুদ:
মাঘের শুরুর এই মধ্যশীতে জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের গৃহবধূরা সুস্বাদু চাল কুমড়ার বড়ি তৈরিতে পার করছেন ব্যস্ততম দিন। প্রতি বছর এ সময় গৃহবধূরা চাল কুমড়ার বড়ি তৈরি করে থাকেন। তা ছাড়া বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এ বড়ি তৈরি করে জীবননগর শহরসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি বাজারে বাজারজাত করা হচ্ছে। বাণিজ্যিক ভিত্তিতেও বাড়ির মহিলারাই মূলত চাল কুমড়ার বড়ি তৈরি করেন এবং পুরুষেরা করেন বাজারজাত। বাজার থেকে মাষকলাই ও অ্যাঙ্কর ডাল কিনে বাড়িতে এনে পানিতে ভিজিয়ে নরম করার পর পাটায় বেটে তাতে পাকা চাল কুমড়া মিশিয়ে গৃহবধূরা হাতের সাহায্যে ঘুনির ওপরে তৈরি করেন এ বড়ি। বড়ি তৈরি শেষে সেগুলো বাড়ির ছাদে অথবা টিনের চালে শুকাতে দেওয়া হয়। বড়িগুলো রোদে শুকিয়ে গেলে সেগুলোকে রান্না করে খাবার জন্য ঘরে টিনের কৌটায় রাখেন গৃহবধূরা আবার কেউবা সেগুলো বাজারে বিক্রি করে থাকেন। মূলত, বাজারে কুমড়ার বড়ির চাহিদা থাকায় অনেক পরিবারের সদস্যরা এ সময় এই বড়ি বিক্রি করে বাড়তি আয় করেন।
জীবননগর পৌর এলাকার রাজনগরপাড়ায় কুমড়ার বড়ি তৈরি করে থাকেন কোহিনুর, রওশনারা, নুসরাত, ফারহানা, সালমা, হানিফা, বেবী ও সুমি। তাঁরা জানান, এই বড়ি তৈরিতে চাল কুমড়া আর মাষকলাইয়ের ডাল লাগে। তবে অন্য ডালেও বড়ি তৈরি করা যায়। কিন্তু মাষকলাইয়ের ডাল দিয়ে তৈরি বড়ির স্বাদ অনেক বেশি হয়ে থাকে। তারা আরও জানান, কুমড়া দিয়ে বেশ কয়েক ধরনের বড়ি বানানো যায়। যেমন: মিষ্টি কুমড়ার বীজ দিয়ে এক ধরনের বড়ি বানানো যায়। এটিকে বীজ বড়ি বলা হয়ে থাকে। রোদে মচমচে করে শুকালে এর ভালো স্বাদও পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে জীবননগর বাজারের মুদি দোকানদার সখের আলী বলেন, ‘প্রতিবছরই শীতের শুরুতে আমার বাড়িতে কুমড়ার বড়ি দেওয়া হয়। সেগুলো শুকানোর পর জীবননগর বাজারসহ গ্রামের বাজারেও বিক্রি করি। কুমড়ার বড়ি কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দরে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করি। দিনে ১০ থেকে ১২ কেজি বড়ি বিক্রি করলে তৈরি খরচ বাদে ৩ শ থেকে ৪ শ টাকা আয় হয়ে থাকে।’
জীবননগর বাজারে কুমড়ার বড়ি ক্রয় করতে আসা জীবননগর পৌর শহরের বাসিন্দা আব্দুস সবুর জানান, ‘কুমড়ার বড়ি খেতে খুব ভালো লাগে। বড়ির দাম একটু বেশিই হয়, তারপরও এর স্বাদের জন্য প্রতিবছরই আমি বড়ি কিনে থাকি।’
কমেন্ট বক্স