মহেশপুরে চাষ হচ্ছে দার্জিলিংয়ের কমলা
- আপলোড তারিখঃ
১০-০১-২০২০
ইং
ঝিনাইদহ অফিস:
‘কোথায় থাক কমলা ফুলি, সিলেট আমার ঘর/টিয়ে বলে দেখতে যাব, পাখায় দিয়ে ভর।’ না কমলা লেবুর চাষ এখন আর সিলেটে সীমাবদ্ধ নেই। ঝিনাইদহের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলেই এখন সুস্বাদু ও দৃষ্টিনন্দন কমলা চাষ হচ্ছে। এই কমলা চাষে দেশব্যাপী সাড়া ফেলে দিয়েছেন রফিকুল ইসলাম নামের এক কৃষক। তাঁর বাগানের গাছে গাছে ঝুলছে কমলা লেবু। হলুদ দৃষ্টিনন্দন এ কমলা বেশ সুস্বাদু। সমতলভূমিতে এই উন্নতমানের দার্জিলিং কমলা চাষ করে সফল্য এনেছেন মহেশপুর উপজেলার চাপাতলা গ্রামের আইনুদ্দীন মন্ডলের ছেলে কৃষক রফিকুল ইসলাম। তাঁর এ দৃষ্টিনন্দন কমলার খেতটি ঝিনাইদহ জেলা শহর থেকে ৬৪ কিলোমিটার দূরে ভারতের সীমান্তবর্তী মহেশপুর উপজেলার স্বরূপপুর ইউনিয়নের চাপাতলা গ্রামে অবস্থিত। ইতিমধ্যে এ খেতের কমলা বিক্রি করা শুরু করেছেন তিনি। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ আসছেন তাঁর এ কমলার খেত দেখতে।
রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি ২০০২ সাল থেকে নার্সারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সেই সুবাদে ২০১৫ সালে তিনি দুই বিঘা জমি লিজ নিয়ে মাল্টা চাষ করেন। পরের বছর ২০১৬ সালে চার বিঘা জমিতে তিনি কমলার চাষ শুরু করেন। ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে চারা রোপন করেন তিনি। তিন বছর পর ২০১৯ সালের আগস্ট মাস থেকে তিনি কমলা বিক্রি শুরু করেছেন।
রফিকুল ইসলাম আরও জানান, ২০১৬ সালের মাঝামাঝি ভারতে বেড়াতে যান তিনি। সেখানে গিয়ে কমলার খেত দেখেন এবং ওই দেশের কৃষকদের সঙ্গে কমলা চাষের বিষয়ে আলোচনা করেন। একপর্যায়ে ওই কৃষকদের কাছ থেকে তিনি ২০০ পিচ চারা নিয়ে আসেন। ভারতের কৃষকেরা প্রতিটি চারার মূল্য নেন ১ শ টাকা। এই চারা রোপণের তিন বছর পর ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁর গাছে কমলা আসতে শুরু করে। আগস্ট মাস থেকে বিক্রি করছেন, এখনো কিছুদিন বিক্রি করতে পারবেন। এরপর আগামী মার্চ মাসের দিকে আবারও নতুন ফল দেখা দেবে।
রফিকুল ইসলামের ভাষ্যমতে, কমলার বাগান করতে তেমন কষ্ট হয় না। তবে জমির চারপাশে ভালো করে বেড়া তৈরি করতে হয়। ৩ বছর পর একটি গাছ ফল ধরার জন্য পরিপূর্ণতা লাভ করে। প্রতিটি গাছ থেকে ১২ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত ভালোভাবে ফল পাওয়া যায়। অনাবৃষ্টির সময়ে গাছে সেচের ব্যবস্থা করতে হয়। দার্জিলিংয়ের কমলা কেজিপ্রতি ১২০ টাকা দরে বিক্রি হয়।
এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসান আলী রফিকুলের চাষ করা কমলার স্বাদ ভালো উল্লেখ করে জানান, ‘আমরা চেষ্টা করছি সম্ভাবনাময় এ চাষকে সম্প্রসারণ করতে। ইতিমধ্যে অনেক কৃষক এই কমলা চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। আমরা তাঁদের সাধ্যমতো সহযোগিতার চেষ্টা করছি।’
কমেন্ট বক্স