সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চার ভাগ হচ্ছে ঢাকা

  • আপলোড তারিখঃ ১৯-১২-২০১৯ ইং
চার ভাগ হচ্ছে ঢাকা
সমীকরণ প্রতিবেদন: মানসম্মত নাগরিক সেবা নিশ্চিতে ঢাকা জেলা প্রশাসনকে চারভাগে বিভক্ত করার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। নিয়োগ পেতে পারেন চারজন জেলা প্রশাসক (ডিসি)। পর্যায়ক্রমে অধিক জনসংখ্যা অধ্যুষিত জেলাও ভাগ করা হবে। এ বিষয়ে একটি ধারণাপত্র তৈরি করে তা সেবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামতসহ রূপরেখা প্রণয়ন করছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন ধারণাপত্রে বদলে দেয়া হয়েছে ঢাকার প্রশাসনিক অবয়ব। সাধারণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে ঢাকা জেলা প্রশাসনকে চারভাগে ভাগ করা হচ্ছে। ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব এবং পশ্চিম এই চারটি জোনে ভাগ করে নগরবাসীকে সেবা প্রদান করা হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল (এসডিজি) এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পৌঁছার লক্ষ্যে মানসম্মত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে এই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ভূমিসহ নাগরিক সেবা প্রদানের জন্য একটি ১৫ থেকে ২০ তলা ভবন স্থাপনের চিন্তা করা হচ্ছে। ওই সেন্টার থেকে ওয়ানস্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে দেয়া হবে নাগরিক সেবাসমূহ। ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে যেসব কাজ করা হয় তার মধ্যে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বিতরণ, তাদের সনদ যাচাই বাছাই, বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মৃত্যুজনিত অনুদান, বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবেলা, সারের ডিলার নিয়োগ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সনদ প্রদান, প্রবাসীদের বৈবাহিক তথ্য ও অভিযোগ নিষ্পত্তি করা, এম ক্যাটাগরির ভিসা তদন্ত, আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক পদার্থের সনদ দেয়া, যাবতীয় সরকারী আধাসরকারী বেসরকারী ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অনাদায়ি রাজস্ব আদায়, অধিগ্রহণ করা ভূমির এ্যাওয়ার্ড তৈরি এবং ক্ষতিপূরণ প্রদান, ইট পোড়ানোর লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন, আবাসিক হোটেল ও রেস্তরাঁর নিবন্ধন এবং লাইসেন্স ইস্যু ইত্যাদি। এ ছাড়া সিনেমা হলের অনাপত্তিপত্র ও লাইসেন্স প্রদান, এসিড ব্যবহার ও বিক্রয় লাইসেন্স, জুয়েলারি ডিলারের লাইসেন্স প্রদানসহ বিভিন্ন ধরনের লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনসহ বিভিন্ন পরীক্ষা পরিচালনা, কৃষি, অকৃষি, অর্পিত, পরিত্যক্ত, বিনিময় জমিসহ বিভিন্ন সায়রাতমহলের দেখভাল, ট্রেজারি ও রাজস্ব সংক্রান্ত কাজ, প্রকাশনা সংক্রান্ত কাজ, দলিল অবমূল্যায়ন ও সার্টিফিকেট মামলার কাজ, স্থানীয় সরকার ও এনজিও সংক্রান্ত কাজ, আইন শৃঙ্খলা ও প্রটোকল সংক্রান্ত কাজসহ বিভিন্ন প্রকৃতির কর্ম সম্পাদন হয়ে থাকে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তৈরি করা ধারণাপত্রে বলা হয়েছে, কাজের পরিধি বিবেচনায় দেশের অন্য যে কোন জেলার চেয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কাজের পরিধি অনেক বেশি। তাই যথাযথ নাগরিক সেবা প্রদানের জন্য অন্য যে কোন জেলার চেয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসনের জনবল ও অবকাঠামো বেশি দরকার। ঢাকা মহানগরীর জনসংখ্যা দেড় কোটিরও বেশি। তবে ভাসমান বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষসহ ঢাকা জেলার জনসংখ্যা প্রায় পৌনে দুই কোটি। এই জনসংখ্যা দেশের সবচেয়ে ছোট জেলা মেহেরপুরের জনসংখ্যার তুলনায় প্রায় ২৫ গুণ। গাজীপুর জেলার তুলনায় সাতগুণ। কুমিল্লা জেলার তুলনায় চারগুণ, চট্টগ্রাম জেলার তুলনায় প্রায় তিনগুণ এবং ময়মনসিংহ জেলার তুলনায় চারগুণ। শুধু তাই নয় কোন কোন জেলার তুলনায় ১০ থেকে ১৫ গুণ জনসংখ্যা রয়েছে। অথচ মেহেরপুরসহ উল্লিখিত জেলাসমূহের জনগণকে সরকারী সেবা প্রদানে যে সব প্রাতিষ্ঠানিক ও অবকাঠামোগত সুবিধা রয়েছে তার চাইতে ঢাকা জেলায় তার চাইতে কিছুটা বেশি সুযোগ সুবিধা থাকলেও জনসংখ্যা অনুপাতে তা কোনভাবেই যথেষ্ট নয়। ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের পর্যায়ে পৌঁছানোর লক্ষ্যে যেমন মানসম্মত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে। তেমনি কাজের জন্য ঢাকামুখী জনস্রোত থামানোর জন্য ঢাকার মতো বিভাগীয় শহরগুলোতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। ঢাকার যানজট নিরসনে বিভাগীয় শহরগুলো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা কার্যকরে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। জনসংখ্যার ঘনত্বের দিক থেকে ঢাকায় প্রতি কিলোমিটারে সব চেয়ে বেশি। উল্লিখিত পরিস্থিতিতে, এক কোটি পঞ্চাশ লাখ জনগোষ্ঠীকে সেবাসহ অন্যান্য নির্ধারিত অনির্ধারিত সেবা দিতে গিয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসনকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। একই সময় জনসেবার দিক বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ বিভাগের জনবল ও অবকাঠামো যথেষ্ট পরিমাণে বাড়ানো হয়েছে। সেই ক্ষেত্রে বিপুল জনগোষ্ঠীর ঢাকায় জনসেবা নিশ্চিত করা, ভূমি রাজস্ব আদায়, অন্যান্য সরকারী সেবা প্রদানের জন্য জনবল ও অবকাঠামো বৃদ্ধি করা একান্তই সময়ের দাবি। সেই ক্ষেত্রে ঢাকার উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম পয়েন্টে উপসচিব/ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক/ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের চারটি পদসহ অন্যান্য জনবলের পদ সৃষ্টি করতে হবে। পৃথকভাবে ভূমি সার্কেল, তহসিল, রেজিস্ট্রেশন ও জরিপ কমপ্লেক্সসহ সেবা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সকল বিভাগ, দফতরের পর্যাপ্ত কর্মচারী নিয়ে ১৫ থেকে ২০ তলা বিশিষ্ট প্রশাসন/ওয়ানস্টপ কমপ্লেক্স স্থাপন করা যেতে পারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পাঠানোপত্রে আরও বলা হয় এটি একটি ধারণাপত্র। ভূমি মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ঢাকাকে তাদের চাহিদা মোতাবেক সে বিষয়ে নির্দিষ্ট প্রস্তাব তৈরি করতে বলা হয়েছে। ভূমিসহ সেবাসংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের রূপরেখা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ণের ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।


কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় নতুন ওসি মনিরুজ্জামানের যোগদান