ব্রেস্ট ক্যানসার প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে
- আপলোড তারিখঃ
১৬-১২-২০১৯
ইং
দর্শনায় ব্রেস্ট ক্যানসারের লক্ষণ, করণীয়, প্রতিরোধ ও প্রতিকার শীর্ষক কর্মশালায় এমপি টগর
ওয়াসিম রয়েল, দর্শনা:
দর্শনায় ব্রেস্ট ক্যানসারের লক্ষণ, করণীয়, প্রতিরোধ ও প্রতিকার শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ১০টায় দর্শনা ডাকবাংলো অডিটরিয়াম কাম কমিউনিটি সেন্টারে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হাজি আলী আজগর টগরের আয়োজনে ও ভারতের কলকাতার রুবি জেনারেল হাসপাতালের সহযোগিতায় জেলার স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্নপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৭ শ নারী এ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আলোচনা করেন কলকাতার রুবি হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড রেডিয়েশন অঙ্কলজিস্ট ডা. অমিতাভ রায় ও নার্সিং ডিরেক্টর ডা. পারুল সমাদ্দার।
ডা. অমিতাভ রায় বলেন, ভারত-বাংলাদেশের অধিকাংশ ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী মারা যান অসচেতনতার কারণে। বাংলাদেশ থেকে ভারতে ব্রেস্ট ক্যানসারের চিকিৎসাসেবা নিতে যাচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে দেখা যায় তাঁরা ক্যানসারের শেষ পর্যায়ে ডাক্তারের স্মরণাপন্ন হন। কিন্তু এ পর্যায়ে একজন ডাক্তারের কিছুই করার থাকে না, তাঁকে পেলিয়েটিভ কেয়ার করা ছাড়া। তবে এ বিষয়ে যদি সচেতন থাকা যায় এবং প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যানসার ধরা পড়ে, তবে এটা সম্পূর্ণরূপে কোনো সমস্যা ছাড়াই নির্মূল করা সম্ভব। ব্রেস্ট ক্যানসার প্রতিরোধে তিনি তিনটি পদক্ষেপের কথা জানান। প্রথমত, জনসচেতনতা তৈরি, দ্বিতীয়ত প্রতিমাসে নিজে নিজেই চেকআপ এবং তৃতীয়ত প্রতি এক বছর অন্তর অন্তর বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করা।
অনুষ্ঠানের আয়োজক এমপি টগর বলেন, ‘দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র সংগ্রাম, ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত আর ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে জন্ম হয়েছিল বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের দিয়ে গেছেন একটি স্বাধীন দেশ। আমরা পেয়েছি একটি রাষ্ট্র, লাল-সবুজের পতাকা। কিন্তু তাঁর একটি স্বপ্ন ছিল ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত এবং ধর্মনিরপেক্ষ সোনার বাংলাদেশ গড়ার। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করে ঘাতকরা।’ তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান আমাদের দেশে ব্রেস্ট ক্যানসার আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। নারীদের ক্যানসারের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ ভাগই ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত এবং তাঁদের অধিকাংশই এক পর্যায়ে মারা যান। কিন্তু বর্তমান চিকিৎসা পদ্ধতিতে ব্রেস্ট ক্যানসার সম্পূর্ণরূপে সারিয়ে তোলা সম্ভব, যদি প্রাথমিক পর্যায়ে তা ধরা পড়ে। তাই আমাদের ব্রেস্ট ক্যানসার প্রতিরোধে অধিক সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।’
কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক ও দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মনজু, দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী মুনছুর বাবু, দর্শনা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান, দর্শনা নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব গোলাম ফারুক আরিফ, দর্শনা পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল ইসলাম, সিনিয়র সহসভাপতি আমির হোসেন, আওয়ামী লীগের নেতা আতিয়ার রহমান হাবু, দামুড়হুদা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল হান্নান ছোট প্রমুখ।
কমেন্ট বক্স