মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

ঝিনাইদহে রাজাকারের ফাঁসির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

  • আপলোড তারিখঃ ০৭-১১-২০১৯ ইং
ঝিনাইদহে রাজাকারের ফাঁসির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
ঝিনাইদহ অফিস: যুদ্ধাপরাধী মামলা করায় ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী এলাকার রাজাকার আব্দুর রশিদের পরিবার কর্তৃক মামলার বাদীসহ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদ ও আসামিদের ফাঁসির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান মোশররফ হোসেন। এ সময় ১৯৭১ সালে রাজাকার কর্তৃক নিহত শহীদ আজিবর ম-লের ছেলে ও যুদ্ধপরাধী মামলার বাদী আনোয়ার হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা আজিবরের স্ত্রী নবিরণ নেছা, যুদ্ধাপরাধী মামলার সাক্ষী হাজিরণ নেছা, বাদীর চাচা হাজি মহিউদ্দীন ম-ল, চাচী হাজেরা খাতুন, জহুরা খঅতুন, বাদীর বোন সুফিয়া বেগম, শাহারণ নেছা, মোমেনা খাতুন, সাবেক ইউপি মেম্বর আলমগীর হোসেন ম-লসহ শালিয়া, হলিধানী, রামচন্দ্রপুর, প্রতাপপুর, গ্যাড়ামারা, নাটাবাড়িয়া, বিনোদপুর, রাধাকান্তপুর, রতনপুর, সোনারদাইড়, সাগান্না বেড়াদি, গাগান্না, কাশিপুর, রাজনগর ও বাঁশেরদাইড় গ্রামের শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১৯৭১ সালে রাজাকার কর্তৃক হলিধানী ইউনিয়নের কোলা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আশির উদ্দীনের পরিবার নির্যাতনের শিকার হয়। তাঁরা ওই পরিবারের তিন সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আজিবর ম-ল, হবিবার ম-ল ও আনসার ম-লকে ধরে নিয়ে নির্মম ও নির্দয়ভাবে হত্যা করেন। নিহত স্বজনদের লাশও খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরিবারটির পক্ষ থেকে আর্ন্তজাতিক ট্রাইব্যুনালে মামলা করায় গত ২১ অক্টোবর তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান রাজাকার আব্দুর রশিদ মিয়া ও রাজাকার সাহেব আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০০৯ সালের ২৫ মার্চ সদর উপজেলার কোলা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ও সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য মরহুম আশির উদ্দীন রাজাকারদের বিরুদ্ধে ঝিনাইদহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। যার নম্বর ঝি/সি ৭৯/০৯। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি প্রাথমিক অনুসন্ধান করে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসিকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। কিন্ত সে মামলা রাজনৈতিক চাপে তুলে নিতে বাধ্য হয়। ওই পরিবারের সন্তান আনোয়ার হোসেন পিতৃ হত্যার বিচার পেতে ঢাকার যুদ্ধাপরাধী ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করেন। মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাজ্জাক খান (বিপিএম সেবা পিপিএম) তদন্ত করে খবরের সত্যতা নিশ্চিত হন। এরপর গ্রেপ্তার হন রাজাকার রশিদ ও সাহেব আলী। চিহ্নিত দুই রাজাকার গ্রেপ্তারের পর মামলার বাদীসহ পরিবারের লোকজন নিরাপত্তহীনতায় ভুগছেন। ইতিমধ্যে তাঁদের বাড়ির আশপাশে অপরিচিত লোকজন চলাচল করছেন। রাজাকারের সন্তানেরা দল বেধে মোটরসাইকেল মহড়া দিচ্ছেন। মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। মামলা তুলে না নিলে খুন জখমের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তহীনতার অভাবে ঝিনাইদহ সদর থানায় জিডি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থাকায় আজ আমাদের জীবন ও সম্পদ হুমকির মুখে। ৭১ সালের মতো রাজাকাররা আবারো হলিধানী ইউনিয়নে হত্যার নেশায় মেতে উঠতে পারে। তাই আমরা গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে গ্রেপ্তার হওয়া রাজাকারদের দ্রুত ফাঁসি ও রাজাকার পরিবারের সন্ত্রাসী সন্তানদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।’


কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় নতুন ওসি মনিরুজ্জামানের যোগদান