ছাত্রলীগ নেতার ক্ষোভ ফেসবুকে ভাইরাল
- আপলোড তারিখঃ
০৫-১১-২০১৯
ইং
গাংনী শহরের ব্যস্ততম সড়কে তোরণ নির্মাণে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা
বিশেষ প্রতিনিধি (গাংনী):
গাংনী উপজেলা শহরের বিভিন্ন ব্যস্ততম সড়কে কয়েক সপ্তাহ ধরে শোভা পাচ্ছে তোরণ। চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী বড় বড় ব্যানার-সংবলিত এসব তোরণ নির্মাণ করে নেতাদের নিজেদের প্রচার চালানোর কৌশলের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গাংনী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব হোসেন।
উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কোনো মানুষ দিনের পর দিন সড়কের ওপর তোরণ নির্মাণ করে নিজেদের প্রচার চালাতে পারেন না। এ ছাড়া জেল হত্যা দিবসের কোনো তোরণ নির্মাণ না করে নেতা-কর্মীদের নিজেদের ছবি দিয়ে বড় বড় ব্যানার-সংবলিত সাংসদের সংবর্ধনার তোরণ নির্মাণ করায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি প্রতিবাদ জানান। এমন কর্মক- থেকে আওয়ামী লীগের নামধারী নেতাদের বেরিয়ে আসার আহ্বানও জানান তিনি।
গাংনী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব হোসেনের ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো ‘এই হলো আমাদের গাংনী থানার প্রধান সড়ক, গাংনী বাসস্ট্যান্ড। ব্যস্ততম সড়ক হওয়া সত্ত্বেও গত এক মাস ধরে এভাবেই দাঁড়িয়ে আছে তোরণ নামক বাধা। এখানে ব্যবহার করা হয়েছে আমার আদর্শ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি। আমার প্রিয় নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি, যিনি মানুষকে সুখি করার জন্য নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আমি লক্ষ করছি, এই তোরণটি মেহেরপুর-২ গাংনী আসনের মাননীয় সংসদ সদস্যকে সংর্বধনা দেওয়ার জন্য। এই তোরণগুলো এত দিন রাখা হয়েছে। আপনি জনগণের প্রতিনিধি, তাই এই তোরণগুলো সরাতে বলেন। আর মেয়র সাহেব, আপনি পৌরসভার সেবক, আপনিই কিনা নিজের ছবি দিয়ে যানচলাচলে এত বাধা সৃষ্টি করে রেখেছেন। এভাবে নিজেকে বড় আওয়ামী লীগার বানাতে চাইছেন? ৩ নভেম্বর জেল হত্যা দিবস গেল, কয় টাকা খরচ করেছেন? কত লোক নিয়ে মিলাদ মাহফিল করেছেন? জেল হত্যা দিবস পালনে খরচ করলে আওয়ামী লীগ শক্তিশালী হবে। আর মাননীয় এমপি সাহেবের সংবর্ধনায় টাকা খরচে আপনি নিজে শক্তিশালী হবেন। শেষ হিসাব তো এটাই দাঁড়াই। আর সূধিজন ও সাংবাদিক ভাইয়েরা, আপনাদের চোখে কি বিষয়টি এখনো পড়েনি, নাকি অন্য কিছু? রিকশা-ভ্যান-মোটরসাইকেল-বাস-ট্রাক যাঁরা চালান, তারা কি এই সমাজের কেউ নন?’
এ বিষয়ে পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান হাবিব জানান, ‘মেহেরপুর-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কটি ব্যস্ততম সড়ক। আর গাংনী বাজার আরও ব্যস্ত এলাকা। এ এলাকায় বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে দেখছি, তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে।’ সংসদ সদস্যের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষ হলেও এ তোরণ না নামানোয় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাজনীতি মানুষের সেবার জন্য, কিন্তু এখন যেন প্রচারের জন্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজেদের প্রচারের জন্য যানচলাচলে প্রতিবন্ধকতাসহ সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে।
কমেন্ট বক্স