মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

সফলতা দেখে সবাই এখন আশ্চর্য!

  • আপলোড তারিখঃ ১৮-১০-২০১৯ ইং
সফলতা দেখে সবাই এখন আশ্চর্য!
বাংলাদেশে এই প্রথম ৪২ বিঘা জমিতে মাল্টা চাষ তৌহিদ তুহিন: আমরা কম-বেশি সবাই চাই জীবনে সফল হতে। রাতে ঘুমোতে যাই কীভাবে সফল হওয়া যায়, তা ভেবে। নিজ নিজ ক্ষেত্রে নিজের যোগ্যতা দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হতে চাই সবাই। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার ভাবনা থেকেই চেষ্টা, শ্রম ও মেধা কাজে লাগিয়ে একই দাগে ৪২ বিঘা জমিতে মাল্টা চাষ করেছেন সরকারি চাকরিজীবী সাখাওয়াত হোসেন বাবুল। অসম্ভবকে সম্ভব করে এখন সফল তিনি। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও মাল্টা চাষ করে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার মাল্টা বিক্রির সম্ভাবনা তৈরি করেছেন তিনি। দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রথম দিকে কোনো সহযোগিতা না করলেও বর্তমানে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে তারা। দামুড়হুদা উপজেলার নতিপোতা ইউনিয়নের ভগিরথপুর গ্রামের পুরাতন পাড়ার শিক্ষক আব্দুর রহিম মাস্টারের ছেলে সাখাওয়াত হোসেন বাবুল। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে বড় তিনি। তিনি ২০১৩ সালের প্রথম দিকে খুলনা কৃষি গবেষণা ইনিস্টিটিউট থেকে দুই হাজার টাকা দিয়ে ২০টি বারি মাল্টা-১ জাতের গাছ কেনেন। গাছগুলো তিনি প্রথমে নিজ গ্রামের মাঠের ১৪ কাঠা জমিতে রোপন করেন। গাছ লাগানোর এক বছর পর তিনি গাছগুলো কলম করে চারা তৈরি করেন। কয়েক বছর পর আরও ৩৪ বিঘা জমি লিজ নিয়ে প্রায় ৪ হাজার কলম মাল্টার চারাগাছ রোপণ করেন। বর্তমানে একই দাগে ৪২ বিঘা মাল্টাগাছ আছে তাঁর। গাছ লাগানোর দুই বছর পর ফুল আসতে শুরু করে। বর্তমানে গাছের ডালে ডালে মাল্টা ধরেছে। প্রতি বিঘা জমিতে বছরে ৫৫-৭০ মণ মাল্টা ফল পাওয়া যাবে বলে ধারণা বরছেন তিনি। প্রতি কেজি মাল্টা ৮০-১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাল্টাবাগান করতে ৫ বছরে এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে ৩২ লাখ টাকা। উচুঁ জমিতে মাল্টাগাছ রোপণ করতে হয়। বাগানে রাসায়নিক সারের চেয়ে জৈব সার বেশি ব্যবহার করা হয়। একটি মাল্টাগাছ থেকে বছরে ৩২০-৩৮০টি ফল পাওয়া যায়। মাল্টা ফল খেতে সুস্বাদু। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। মাল্টা বাগানে ৬ জন শ্রমিক ২৫০ টাকা দিন হাজিরায় কাজ করছেন। সাখাওয়াত হোসেন বাবুল বলেন, ‘যখন গ্রামে মাল্টাবাগান করি, তখন গ্রামের মুরব্বিরা বলতেন, বাবুল গাছপাগল। কারণ ধান, পাট ও গম চাষ করাই যেখানে কঠিন, সেখানে মাল্টা চাষ পাগলামি। এখন সফলতা দেখে সবাই আশ্চর্য! কাছে ডেকে শুনতে চান, এ পাগলের গল্প। তা ছাড়াও গাছ লাগানো এখন আমার নেশাই পরিণিত হয়েছে।’ নতিপোতা ইউপি চেয়ারম্যান জানান, বাবুলের সফলতা দেখে গ্রামের অন্য বেকার শিক্ষিত যুবকেরা মাল্টাবাগান তৈরি করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। যুবকেরা মাল্টা চাষ করলে গ্রামে বেকারত্বের সংখ্যা কমে যাবে বলে মনে করেন তিনি।


কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় নতুন ওসি মনিরুজ্জামানের যোগদান