মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

বিলুপ্তির পথে গ্রামবাংলার তালের ডোঙ্গা

  • আপলোড তারিখঃ ০২-১০-২০১৯ ইং
বিলুপ্তির পথে গ্রামবাংলার তালের ডোঙ্গা
আশিকুর রহমান সোহাগ, কালীগঞ্জ: কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী তালের ডোঙ্গা। নতুন প্রজন্মের কাছে এটি অদ্ভুত নাম। নাম শুনতেই বোঝা যায়, তালগাছ বা তালের সঙ্গে এর কোনো না কোনো সম্পর্ক রয়েছে। তালের ডোঙ্গা হলো তালগাছ থেকে তৈরি ছোট নৌকা বিশেষ। ডোঙ্গা শব্দের মূল উৎপত্তি হয়েছে ডিঙ্গি থেকে। ডিঙ্গি অর্থ ছোট। তালের ডোঙ্গা মূলত নির্মাণ করা হয় তালগাছ থেকে। মাত্র এক প্রজন্ম আগেও দেশের অধিকাংশ বিল ও হাওর এলাকায় প্রচুর তালের ডোঙ্গা দেখা যেত। কিন্তু কালের ¯্রােতে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে তালের ডোঙ্গা আজ বিলুপ্তির পথে। একসময় বাংলাদেশের প্রায় সব কটি জেলার প্রতিটা গ্রামের মানুষদের দেখা যেত তালের ডোঙ্গা ব্যবহার করতে। ঝিনাইদহ, মাগুরা, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরিশাল, চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা, সিরাজগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নওগাঁ, রাজশাহীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচুর তালের ডোঙ্গার ব্যবহার ছিল। মূলত তালের ডোঙ্গা ব্যবহার করা হতো মাছ ধরা, শাপলা তোলা, শামুক সংগ্রহ অথবা ¯্রােতহীন কোনো বিল পার হওয়ার জন্য। বিশেষ করে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জসহ এ জেলার বিভিন্ন উপজেলার নদী, বাঁওড়, খাল-বিলে এখনো তালের ডোঙ্গা দেখা যায়। ঝিনাইদহ জেলার বয়স্ক মানুষদের কাছ থেকে জানা যায়, তালের ডোঙ্গা ¯্রােতের ভেতর দিয়ে চলতে পারে না। তাই ছোটখাটো কাজ যেমন মাছ ধরা, শামুক সংগ্রহ, এসবের জন্য তালের ডোঙ্গা প্রসিদ্ধ ছিল। বিনোদনের জন্য নদী ও খাল-বিল এলাকায় আয়োজন করা হতো ডোঙ্গার বাইচ। সর্বোচ্চ দুজন মানুষ একসঙ্গে ডোঙ্গায় চলাচল করতে পারে, এর বেশি হলে ডুবে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বর্ষা মৌসুমে চলাচলের জন্য তালের ডোঙ্গা বহুল ব্যবহৃত হতো। এ বিষয়ে কথা হয় ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার তৈলকূপী গ্রামের মৎস্যজীবী আব্দুল কুদ্দুস খন্দকারের সঙ্গে। তিনি নিজে ডোঙ্গা তৈরি করেন এবং ডোঙ্গা দিয়ে সারা বছর বেগবতি নদী থেকে মাছ ধরে কালীগঞ্জ ও নলডাঙ্গা বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ডোঙ্গা নির্মাতা হওয়ায় এলাকার মানুষ তাঁর কাছে ডোঙ্গা তৈরির বায়না দিয়ে থাকেন। আব্দুল কুদ্দুস খন্দকারের কাছ থেকে জানা যায়, তালগাছের অধিক্যতার কারণে এ এলাকায় ডোঙ্গা নির্মাণ সহজ ছিল, ডোঙ্গা তৈরির কাজ করে অনেকে জীবিকা নির্বাহ করত। নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে তালের ডোঙ্গা নির্মাতারা হারিয়ে গেছে। সেই সঙ্গে ডোঙ্গাও প্রায় হারিয়ে গেছে। বর্তমানে দেশের খুব কম জায়গায় ডোঙ্গা নির্মাণ হয়। তালের ডোঙ্গা নির্মাণ সম্পর্কে বলতে গিয়ে কুদ্দুস বলেন, ১০-২০ বছর বয়সী একটা তালগাছ থেকে দুটো তালের ডোঙ্গা নির্মাণ করা যায়। তালের ডোঙ্গার সামনের দিকটা অনেকটা বড় এবং পেছন দিকটা আনুপাতিক হারে অনেকটা গোল ও কারুকাজসম্পন্ন হয়। তিনি আরও বলেন, তৎকালীন সময় একটা ডোঙ্গার দাম ছিল ১ শ টাকা সর্বোচ্চ আর পুরো একটি তালগাছ কেনা যেত সর্বোচ্চ ৮০ টাকায়। আর এখন একটি তালের ডোঙ্গা তৈরি করতে সব মিলিয়ে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা খরচ হয়। ভালো গাছের ডোঙ্গা ৮-১০ বছর অনায়াসে ব্যবহার করা যায়। বর্ষা চলে গেলে ডোঙ্গা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়।


কমেন্ট বক্স
notebook

মেহেরপুরে গুড নেইবারস বাংলাদেশের উদ্যোগে শিশু অধিকার বিষয়ক প্রচারাভিযান