সাপ নিয়ে ঝাপান-গান, মাতল দর্শনার্থী
- আপলোড তারিখঃ
০৯-০৯-২০১৯
ইং
আকিমুল ইসলাম:
বাদ্যের তালে তালে হাঁড়ি থেকে বেরিয়ে আসছে বিষধর গোখরা সাপ। আর সাপুড়ে সেই সাপের সর্বোচ্চ ফনা তোলাতে দেখাচ্ছেন নানা অঙ্গভঙ্গি। সেই সঙ্গে পরিবেশন করা হচ্ছে মনসামঙ্গলের পালাগান। অন্য সাপুড়ে সাপের ফনা নামাতে দিচ্ছেন ঝাড়ফুঁক। এমনই ঝাপান খেলার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে গেল চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের কালুপোল গ্রামে। গতকাল রোববার গ্রামের পশ্চিমপাড়ার ছমির হোসেনের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়। সেখানে সকাল থেকেই আসতে শুরু করে শত শত নারী-পুরুষ। সবার একটাই উদ্দেশ্য, ঝাপান খেলা দেখা। সাপুড়ের ইশারায় সাপের এই অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন মানুষকে দেয় অনাবিল আনন্দ।
বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ, শিশুরা উপস্থিত থেকে নিবিড় দৃষ্টিতে উপভোগ করেন এ খেলা। আর খেলাকে ঘিরে এখানে সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ। দুই সাপুড়ে দলের অর্ধশতাধিক সাপের মধ্যে নিজেকে সেরা প্রমাণ করতে প্রতিটি সাপ প্রদর্শন করে নিজেদের আকর্ষণীয় কসরত। আর এ দুর্লভ দৃশ্য দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছে দর্শনার্থীরা।
ডিঙ্গেদাহ থেকে আসা সাগর হোসেন বলেন, ‘আমি ঝাপান খেলার কথা শুনেছি, কিন্তু কোনো দিন দেখিনি। আজ দেখতে পেরে বুঝলাম, বাংলার ঐতিহ্য কত অপরূপ।’ সরোজগঞ্জ থেকে আসা সাহেব উদ্দিন বলেন, ‘ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে গ্রামে একবার দেখেছিলাম ঝাপান খেলা। অনেক দিন পর ঝাপান খেলা দেখে আবার ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেল।’ গড়াটুপি এলাকার পরাগ হোসেন বলেন, ‘বাংলার ঐতিহ্য যে এত মনোমুগ্ধকর, তা না দেখলে বোঝা যাবে না। ঝাপান খেলা দেখে আজ তা বুঝতে পারছি।’
এ ব্যাপারে ঝাপান খেলার আয়োজক ছমির হোসেন বলেন, চিরায়ত বাংলার ঐহিত্যবাহী এ খেলা ধরে রাখতেই আজকের এ আয়োজন। প্রতিবছর এ ধরনের আয়োজন করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। প্রতিযোগিতামূলক এ খেলায় সবাইকে হারিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেন শুকুর আলী সাপুড়ে।
কমেন্ট বক্স