মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

ভারতীয় সজিনা ডাঁটার চাষ শুরু, পাওয়া যাবে ১২ মাস

  • আপলোড তারিখঃ ২৭-০৭-২০১৯ ইং
ভারতীয় সজিনা ডাঁটার চাষ শুরু, পাওয়া যাবে ১২ মাস
আওয়াল হোসেন: দামুড়হুদা উপজেলায় প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে সজিনা ডাঁটা ও পাতার চাষ শুরু হয়েছে। ফাল্গুন-চৈত্র মাসের মৌসুমি সবজি সজিনা ডাঁটা এখন সারা বছরই পাওয়া যাবে। সজিনার ডাঁটা ছাড়াও এর সবুজ ডাল ও পাতা গোখাদ্য হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। সজিনার ডাঁটা, পাতা, বাকল, শেকড়, ফুল, বীজ ও গাছের আঠাতেও মানবদেহের জন্য রয়েছে ঔষধি গুণাগুণ। চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার হাউলি গ্রামের মাঠে পাঁচজন চাষি এ সজিনার চাষ করেছেন। দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি অফিসার কৃষিবিদ কাজী ইয়াছির আরাফাত লিমন জানান, হাউলি গ্রামের সফল সবজিচাষি রমজান আলী, বিল্লাল হোসেন, বয়রা গ্রামের সিরাজুল ইসলাম ও আসাদুজ্জামান পরীক্ষামূলকভাবে সাত বিঘা জমিতে সজিনা চাষ শুরু করেছেন। কাজী ইয়াছির আরাফাত লিমন উপজেলার হাউলি গ্রামের মাঠে ৩ বিঘা জমি ৭২ হাজার টাকায় ২ বছরের জন্য লিজ নিয়ে সজিনা চাষ শুরু করেন। রমজান আলী সজিনা ডাঁটার চাহিদা ও গুণাগুণের বিষয় কৃষি অফিসারের নিকট থেকে জানতে পেরে উদ্ধুদ্ধ হন এবং তাঁর পরামর্শে একই গ্রামের মাঠে তিনিও চাষ শুরু করেন। রমজান আলী মাঠে সবজিসহ কাশ্মিরী কুল, থাই পেয়ারা, থাই সিডলেস (বীজবিহীন) লেবুসহ বিভিন্ন ধরনের মৌসুমি ফলের চাষ করে থাকেন। কাজী ইয়াছির আরাফাত লিমন আরও জানান, তাঁর বন্ধু ডা. আমিনুল ইসলামের মাধ্যমে পরিচয় হয় কুষ্টিয়ার সজিনা গবেষক রাজিব পারভেজের সঙ্গে। তাঁর মাধ্যমে ভারতের তামিলনাড়– রাজ্য থেকে বীজ সংগ্রহ করেন তিনি। পরে তিনিসহ কয়েকজন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে খেতখামারে এই সজিনা চাষ শুরু করেন। এ সজিনা ডাঁটার বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ সজিনা ডাঁটা দুটি জাতের হয়ে থাকে। এর মধ্যে পিকে এম-২ জাতের সজিনা রয়েছে। এ জাতের গাছে ১২ মাস ডাঁটা পাওয়া যায়। পিকে এম-১ জাতের গাছের পাতা চা, পাউডার ও ঔষধি ট্যাবলেট হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে। এ ছাড়াও এ গাছের পাতা ও ডাল গোখাদ্য হিসেবেও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে এ জাত থেকে বছরে একবার ডাঁটা পাওয়া যায়। গরু মোটাতাজাকরণের ক্ষেত্রে অন্যান্য খাবারের পাশাপশি এর সবুজ ডালসহ পাতা ৭ কেজি করে প্রতি দিন খাওয়ালে এক থেকে দেড় কেজি ওজন বৃদ্ধি পাবে ও গাভির ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ দুধ বৃদ্ধি পাবে। পিকে এম-২ জাতের সজিনা চারা লাগানোর ছয় মাসেই গাছে ডাঁটা ফলবে এবং সারা বছরই তা পাওয়া যাবে। একটি পূর্ণবয়ষ্ক গাছ থেকে বছরে ৩০০ থেকে ৪০০টি পর্যন্ত সজিনার ডাটা পাওয়া যাবে। সাধারণত ২০টি ডাঁটায় ১ কেজি হয়। এ হিসাবে একটি গাছে ৪০ থেকে ৫০ কেজি ডাটার ফলন পাওয়া সম্ভব। একটি গাছ থেকে ৪-৫ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে এক বিঘা জমিতে ৪০০টি গাছ রোপণ করে বছরে ৪-৫ লাখ টাকা আয় করা যাবে। সজিনাগাছের তেমন একটা পরিচর্যার প্রয়োজন নেই। শুধু গরু-ছাগলের উপদ্রব ঠেকানো সম্ভব হলেই গাছগুলো বেড়ে ওঠে এবং তাতে ভালো ফলনও হয়। সার ও কীটনাশক ব্যবহারেরও প্রয়োজন হয় না। এই চাষে সফল হলে আগামীতে এলাকায় ব্যাপকভাবে এর আবাদ বৃদ্ধি পাবে, এমনটা আশা করছে কৃষি বিভাগ। দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু হেনা মোহাম্মদ জামাল জানান, মানবদেহে হৃদ্রোগ, রক্তের প্রবাহবৃদ্ধি, টাইফয়েড, প্যারালাইসিস, বাতজ্বর ও লিভারের জন্য সজিনা অনেক উপকারী। এ ছাড়াও পোকামাকড়ের কামড়ে অ্যান্টিসেপটিকের কাজ করে সজিনা পাতার রস। সজিনার বাকল, শেকড়, ফুল, বীজ ও গাছের আঠাতেও ঔষধি গুণ রয়েছে। তিনি জানান, ‘সজিনার পাতায় প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন থাকায় গবাদিপশু মোটাতাজাকরণে সামান্য পরিমাণ দেশীয় দানা খাবারের সঙ্গে এর সবুজ ডালসহ পাতা খাওয়ালে দ্রুত ওজন বাড়ে। এ সব কারণে আমরা খামারিসহ সবাইকে এ সজিনা আবাদ বৃদ্ধি করে নিজেদের আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য পরামর্শ দিচ্ছি।’


কমেন্ট বক্স
notebook

মেহেরপুরে গুড নেইবারস বাংলাদেশের উদ্যোগে শিশু অধিকার বিষয়ক প্রচারাভিযান