ঝিনাইদহে এক রাখাল রাজার দাম ১৫ লাখ টাকা
- আপলোড তারিখঃ
২১-০৭-২০১৯
ইং
প্রতিবেদক, ঝিনাইদহ:
এক রাখাল রাজার দাম ১৫ লাখ টাকা। এ রাখার রাজা ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি জন্ম নেয় এক ব্যবসায়ীর ঘরে। ছোট থেকেই সুষম ও সুস্থ দেহের অধিকারী ছিল রাখাল রাজা। জন্ম নেওয়ার কয়েক মাস শুধু মায়ের দুধ ছিল তার প্রধান খাদ্য। দুই-তিন মাস পর থেকে মায়ের দুধের পাশাপাশি ছোলা, ভাত, কলাসহ পুষ্টিকর খাবার খেত সে। এরপর ছয়-সাত মাস থেকেই তার খাবের যোগ হয় কাঁচা ঘাষ, বিচালি, খৈল, পলিশ, ভূষি ইত্যাদি। এখন তার বর্তমান বসয় দুই বছর ছয় মাস, এর মধ্যে তার খাবারের জন্যই খরচ হয়েছে পাঁচ লাখ টাকারও বেশি। এখন আগামী কোরবানির ঈদ সামনে করে তার দাম উঠানো হয়েছে ১৫ লাখ টাকা। এমনি এক রাখাল রাজার গল্প শুনছিলাম ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী বাজারের আলম হোটেলর মালিক শরিফুল আলমের নিকট থেকে। এ গরুটির আনুমানিক ওজন ধরা হয়েছে প্রায় ২৫ মণের অধিক। তার ওজনের তুলনায় দাম বেশি চাওয়া হয়নি বলে মনে করেন বাজারের মাংস ব্যবসায়ীরা।
জানা যায়, শখের বসে পরিকল্পিতভাবে নিজ বাড়িতে গরুর খামার গড়ে তোলেন আলম। ইচ্ছা ছিল বড় একটি ষাঁড় পালন করবেন নিজের খামারে। সে ইচ্ছাকে পোষণ করেই তিনি এ রাখাল রাজাকে (গরু) পালন করেন। একদিকে নিজের নিরলস প্রচেষ্টা, আর অন্যদিকে তাঁর স্ত্রীর পরিশ্রমে বর্তমানে এ রাখাল রাজা এত বড় হয়েছে। খামারে দেখা মিলেছে এ ২৫ মণ ওজনের গরুটির। প্রতিদিন গরুটি দেখতে খামারে ভিড় করছে উৎসুক জনতা। তাঁর এ খামারে কাজ করে অনেকেই জীবিকা নির্বাহ করেন।
গত শুক্রবার গরুটি স্থানীয় হলিধানী বাজারে আনা হয় জনতাকে দেখানোর উদ্দেশ্যে। সেখানে শত শত মানুষ ভিড় জমায় রাখাল রাজাকে একনজর দেখার জন্য। আবার অনেকেই আলমের খামারের বড় গরু দেখে সাধারণ খামার তৈরির পাশাপাশি বড় গরুর খামার করতেও উদ্বুদ্ধ হয়েছেন।
শরিফুল আলম বলেন, ‘আমার স্বপ্ন ছিল বড় গরু লালন-পালন করার। সে স্বপ্ন আজ সফল হয়েছে। আমার এ সফলতার পেছনে আমার পরিবারের অবদান রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের উৎসাহ পেয়ে আমি আজ গরুটি বড় করতে পেরেছি। এখন আমার এ রাখাল রাজাকে ন্যায্য দামে বিক্রয় করতে পারব কি না, সে চিন্তাই আছি। তবে আশা করি, বাজার দামেই গরুটি বিক্রয় করতে পারব।’
কমেন্ট বক্স