২২ জনের নাম উল্লেখপূর্বক মামলা : আনারসের ৩ সমর্থক আটক
ঘটনাস্থল থেকে ঘুরে রোকনুজ্জামান রোকন:
আলমডাঙ্গার চিৎলা ইউনিয়নের হাপানিয়ায় নৌকা সমর্থকদের ১১টি বাড়ি, একটি দোকান ও হাপানিয়া গ্রামের ইনতাদুল মেম্বারের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। একাধিক মামলার আসামী হাপানিয়া গ্রামের মৃত ইসমাঈলের ছেলে মন্টুর নেতৃত্বে তার ভাই ঠান্ডুসহ প্রায় শতাধিক নেতাকর্মীকে সাথে নিয়ে গত রোববার রাতে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানায় গ্রামবাসী। হাপানিয়ার ইউপি সদস্য ইনতাদুল হক বাদি হয়ে রাতেই আলমডাঙ্গা থানায় মন্টু ও তার ভাই ঠান্ডুসহ আরও ২২ জনের নামে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় গতকাল রাতে অভিযান চালিয়ে তিনজন আনারস সমর্থককে আটক করেছে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ। আটককৃতরা হলো- হাপানিয়া গ্রামের মৃত আজাহারের ছেলে হাইদার আলী ও একই গ্রামের মৃত সাদেক আলীর ছেলে বদর উদ্দিন বদু। এর আগে চুয়াডাঙ্গা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কলিমুল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
জানা যায়, গত ২৪ মার্চ আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাচনের ফলাফল শেষে আইয়ুব হোসেনের আনারস মার্কার সমর্থক মন্টুর নেতৃত্বে তার ভাই ঠান্ডুসহ প্রায় শতাধিক নেতাকর্মীকে সাথে নিয়ে একটি আনন্দ মিছিল বের করে। মিছিলটি প্রথমে হাপানিয়া গ্রামের ইনতাদুল মেম্বারের দলীয় কার্যালয়ের সামনে পৌছালে পর পর দুটি বোমার বিষ্ফোরণ ঘটায়। কার্যালয়ে ভাঙচুরসহ ছবি ব্যানার ছিড়ে ফেলা হয়।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য ইনতাদুল জানায়, গত ২৪ মার্চের নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই আইয়ুব হোসনের আনারস মার্কার সমর্থক মন্টু ও তার বাহিনী বোমা হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি বলেন, এই গ্রামের নৌকার পক্ষে সাধারণ ভোটারের কাছে ভোট চেয়েছেন যারা, তাদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর বাড়িতে থাকা মা বোনদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি পর্যন্ত দিয়েছেন একাধিক মামলার আসামি মন্টু। এই ইউপি সদস্য আরও জানান, মন্টুর ভাই আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান দেলোয়ারের উস্কানিতে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তার ধারণা। ইনতাদুলের কার্যালয় ভাঙচুর শেষে একের পর এক ঘরবাড়ি ভাঙচুর করতে থাকে মন্টু ও তার লোকেরা।

এক বৃদ্ধা মা জানান, ওই মন্টু শুধু ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেই থামেনি, বাড়ির মেয়েদেরকে গালিগালাজ করে। এই বৃদ্ধা বলেন, আমাদের একটাই অপরাধ আমরা নৌকায় ভোট দিয়েছি।
এ ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ হলো- ইউনুস আলীর ছেলে ইনতাদুল হকের দলীয় কার্যালয়, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মৃত হযরত মন্ডলের ছেলে আব্দুর রহিমের বাড়ি, মৃত নবীছদ্দিনের ছেলে আরশেদ আলীর চায়ের দোকান, নুর উদ্দিন ও তার ভাই জাহিরের বাড়ি ও দেকান, মৃত খেদের আলীর ছেলে মনির উদ্দিনের বাড়ি, আশাবুল হকের ছেলে সোহাগ আলীর বাড়ি, মৃত হাবারত মন্ডলের ছেলে ইয়াছদ্দিনের বাড়ি, মৃত চেতন মন্ডলের ছেলে আজিজুল হকের বাড়ি, মোহাব্বাতের ছেলে লুৎফরের বাড়ি, মৃত কাওছারের ছেলে আতিয়ারের বাড়ি, চেতন মন্ডলের ছেলে হাবিবুর রহমান।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী জিল্লুর রহমানের সাথে বলার চেষ্টা করা হলে, তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান মুন্সি জানান, এ ঘটনায় ২২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ পর্যন্ত এ মামলায় মোট ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। আসামীদের আটক করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।