নতুন ইমাম নিয়োগের দাবিতে গণস্বাক্ষর
- আপলোড তারিখঃ
০৬-০৩-২০১৯
ইং
দর্শনা রেলবাজার জামে মসজিদের ইমামের বেতন বন্ধ ও
দর্শনা অফিস:
দর্শনার ঐতিহ্যবাহী ও কেন্দীয় জামে মসজিদ নামে পরিচিত দর্শনা রেলবাজার জামে মসজিদ। এই মসজিদের ইমাম মুফতি গোলাম কিবরিয়া তার ঈমান বিরোধী বিভিন্ন কার্যকালাপ ও বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্যে ইতোমধ্যে আলোচিত হয়ে উঠেছে ইমাম ও মুসল্লী সমাজে। বেশ কিছুদিন আগে থেকে মুসল্লীগণের মাঝে বিভক্তি সৃষ্টি হয়েছে। তাই এ আলোচিত ইমামের বেতন বন্ধ ও নতুন ইমাম নিয়োগের দাবিতে স্থানীয় মুসল্লীগণ এবং ব্যবসায়ীরাসহ সুধীমহল গণসাক্ষর করেছেন।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন যাবত চলছে দর্শনা রেলবাজার জামে মসজিদের ইমাম মুফতি গোলাম কিবরিয়াকে নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা সমালোচনা। এরই ধারবাহিকতায় ২০১৭ সালের জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে অবৈধভাবে সৌদি রিয়ালের ব্যবসা করতে যেয়ে আলোচনার পাত্র হন এবং ২ লক্ষাধিক টাকা খোয়া যায়। এরপর দর্শনা ডিএস মাদরাসার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফতুয়া দিয়ে সেখানে মার্কেট করার কথা বলে অনেক মানুষের সমালোচনার পাত্র হন তিনি। পরে স্থানীয় মেয়রের সুপরামর্শে বিষয়টি সমাধান হয়। এরপর নিজ স্বার্থে মসজিদের মেম্বরে বসে তিনি বিভিন্ন ফতুয়া দেন, বিভিন্ন হজ্জ্ব যাত্রীদেরকে নিয়ে তিনি ব্যবসা করেন এবং সর্বশেষ কিছুদিন আগে মসজিদের ভিতরে তার মনগড়া কিছু বিভ্রান্তিমূলক কথা বলে মুসল্লীগনের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে দুই পক্ষে হট্টোগোল করাতে বাধ্য করে মসজিদ থেকে জনগনের তোপের মুখে পড়ে পালিয়ে তিনি নিজ ঘরে যেয়ে দরজা বন্ধ করে বসে থাকেন। তার এই কার্যকালাপে মুসল্লীরা ক্ষিপ্ত হয়ে মারমুখি হয়, কিন্তু স্থানীয় আর একটি পক্ষ সেটা সামাল দেয়। তার এ সকল কার্যকালাপে মানুষের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হওয়ার ফলে মসজিদে দিনে দিনে মুসল্লীর সংখ্যা কমতে থাকে। পরে মুসল্লীগণ তার পিছনে নামাজ না পড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে দর্শনা পৌরসভার মেয়র মতিয়ার রহমান এ বিষয়ে বসে পরিস্থিতি সামাল দিতে সাময়িকভাবে ইমাম মুফতি গোলাম কিবরিয়াকে নামাজ পড়ানো থেকে বিরত থাকতে বলেন এবং মুয়াজ্জিনকে ইমামের দায়িত্ব পালন করতে বলেন।
এদিকে, মসজিদের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত নতুন কমিটি গঠন না হওয়ায় মুসল্লীগণের মাঝে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ। আবার ইমাম মুফতি গোলাম কিবরিয়া দক্ষিণ চাঁদপুরে মাদরাসার নামে খুলেছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। যার কমিটি হিসাবে রয়েছে পকেট কমিটি। তার নিজের আত্মীয় স্বজনদের দিয়ে নাম মাত্র কমিটি করে চালাচ্ছেন। শুধু তাই নয় তার মাদরাসার কোন গরীব শিক্ষার্থীদের জন্য বেতন কম করার কথা বললে সে মসজিদের তহবিল থেকে এতিমদের নামে দরিদ্র তহবিলের টাকা নিয়ে মাদরাসার টাকা পূরণ করেন। তার এ সকল কার্যকলাপে মুসল্লীগণ ক্ষিপ্ত হয়ে তার বেতন বন্ধের দাবিতে গণস্বাক্ষর করে বিভিন্ন দপ্তরে জমা দেন। সেই সাথে এই ইমাম প্রত্যাহার ও নতুন ইমাম নিয়োগ এবং মসজিদের নতুন কমিট গঠনের দাবি জানান।
কমেন্ট বক্স