জীবননগরে থাই পেয়ারা চাষে চাষীর ভাগ্য পরিবর্তন
- আপলোড তারিখঃ
০৫-০১-২০১৯
ইং
জাহিদ বাবু/মিঠুন মাহমুদ: চুয়াডাঙ্গা জেলার বেশীর ভাগ মানুষ কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল। আর কিছু সংখ্যক চাকরিজীবি, ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত। তবে সব চেয়ে কৃষি কাজই এ জেলার মানুষের মূল আয়ের উৎস। চুয়াডাঙ্গা জেলা শহর থেকে মাত্র ৩০কি.মি. দুরে অবস্থিত জীবননগর যা সীমান্ত থেকে মাত্র হাফ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বন্ধু রাষ্ট্র ভারত। এ উপজেলায় সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ দিনরাত বিভিন্ন চাষাবাদ নিয়ে নিজেদের সময় কাটান। যখন যেই চাষটিতে লাভবান হন তখন সেই চাষটি বেশি করেন। সে রকম একটি লাভবান চাষ হিসাবে বর্তমান সবচেয়ে জনপ্রিয় চাষে চাষীরা লাভবান হচ্ছে থাই পেয়ারা। থাই পেয়ারা চাষে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করেছে জীবননগর উপজেলার সুবোলপুর গ্রামের মুনতাজ মিয়া, জীবননগর শহরের নাজমুল আলম মানিক, প্রতাবপুর গ্রামের জমসেদ আলী, চাষী রমজানসহ আরো অনেকে। তারা দীর্ঘদিন ধান, পাট, মুগসহ বিভিন্ন ধরনের কৃষি চাষাবাদ করে তেমন লাভবান হতে না পারায় হতাশা হয়ে পড়েছিলেন। পরবর্তীতে তারা নিজের কিছু জমি আর লোকের জমি বর্গা নিয়ে ৭০ বিঘা জমিতে থাই পেয়ারার চারা রোপন করেছেন। ইতোমধ্যে তারা পেয়ারা বাগান থেকে কিছু পেয়ারা বিক্রি করা শুরু করেছেন। এই চাষে তারা লাভবান হবেন বলে আশা করছেন।
এ ব্যাপারে পেয়ারা চাষী মুনতাজের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, অনেক দিনের আশা ছিল এলাকায় একটি ভিন্ন ধরনের চাষ করে এলাকায় তাক লাগাবো। সেই লক্ষ্য নিয়ে আমি আমার নিজের জমিসহ অন্যের জমি বর্গা নিয়ে থাই পেয়ারার চারা লাগাই তাতে প্রথম বছরেই আমার একটু বেশি খরচ হয়েছিল। তবে সমস্ত খরচ খরচা প্রথম চালানেই উঠে গেছে। এবার যা বিক্রি করব সব টাকায় আমার লাভ থাকবে। বর্তমান প্রতিটি থাই পেয়ারা গাছে ৫০ থেকে ৬০টি করে পেয়ারা আছে। সে জন্য যেভাবে আমার গাছে পেয়ারা আছে তাতে করে পেয়ারা চাষে আমার মনের আশা পূরণ হবে। একই কথা বলেন চাষী রমজান। তার কাছে পেয়ারা চাষের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যখন পেয়ারা গাছ লাগাবে তখন জমিটিা যাতে সুন্দর থাকে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। পেয়ারা যখন গাছে ধরা আরম্ভ করবে তখন পাখির হাত থেকে রক্ষা করতে এবং পেয়ারার গায়ের রঙটি সুন্দর করতে কাগজ দিয়ে পেয়ারা মুড়িয়ে রাখতে হবে। যাতে পাখি পেয়ারাটা যাতে নষ্ঠ না করতে পারে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে তার এ পেয়ারা বাগান দেখতে বিভিন্ন উপজেলা থেকে বেকার যুবকসহ সাধারণ মানুষ দেখতে ভিড় জমাচ্ছে।
এ ব্যাপারে জীবননগর উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, জীবননগর উপজেলায় অনেকে থাই পেয়ারা চাষ করছে। এ চাষে খরচ কম হওয়ায় চাষীরা এ পেয়ারা চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছে। তিনি আরও বলেন, গত দু’বছর আগে এ এলাকায় বেশ কুলের চাষ হত এবং এই চাষে এ উপজেলার বেকার যুবকরা এ চাষ করে অনেকে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছিল। বর্তমানে কুলের চাষটি এখন নেই বললেই চলে তবে এখন প্রায় এ উপজেলার অনেক গ্রামে থাই পেয়ারা নামে একটি জাত চাষ করছে এটি এলাকায় ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। এ চাষে খরচ খরচাও অনেক কম হচ্ছে তাই এলাকার চাষীরা এ চাষে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।
কমেন্ট বক্স