শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

ঝিনাইদহে ট্রাক্টর-আলমসাধু ও পাখিভ্যান আতঙ্ক!

  • আপলোড তারিখঃ ১০-১২-২০১৮ ইং
ঝিনাইদহে ট্রাক্টর-আলমসাধু ও পাখিভ্যান আতঙ্ক!
ডাকবাংলা প্রতিনিধি: কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে দ্রুত জমি চাষের মাধ্যম হিসাবে ট্রাক্টর বা লাঙ্গল অতি পরিচিত একটি কৃষিযান। যেটার পরিবর্তে অতীতে জমিচাষে ব্যবহার করা হত গরুর লাঙ্গল। কিন্তু সেই কৃষিকাজে ব্যবহারের ট্রাক্টর এখন জমিচাষ বাদ দিয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ডাকবাংলা ত্রিমহনীসহ ডহরপুকুরিয়া, বাদপুকুরিয়া, বাজার গোপালপুর, মামুনশিয়া, মধুহাটি, বড়বাড়ি, ডুগডুগি ও শ্যামনগরের মানুষ এখন জনজীবনে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ট্রাক্টর। চাষাবাদের জন্য আমদানিকৃত ট্রাক্টর এখন অবৈধ পরিবহন হয়ে গ্রামীণ জনপদে সর্বনাশ ঘটাতে শুরু করেছে। এর প্রভাবে এখন আতঙ্কিত ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ডাকবাংলা ত্রিমহনীসহ ডহরপুকুরিয়া, বাদপুকুরিয়া, বাজার গোপালপুর, মামুনশিয়া, মধুহাটি, বড়বাড়ি, ডুগডুগি ও শ্যামনগরের জনপদ ও জনসাধারণ। কৃষির উন্নয়নে এসব ট্রাক্টর আমদানি করা হলেও মালিকরা এখন এগুলোকে ব্যবহার করছে ইট, বালু, মাটি, তরিতরকারি, ফার্নিছচার, গাছের কাঁচা গুড়ি ইত্যাদি মালামাল পরিবহনের কাজে। ট্রাক্টরের বেপরোয়া চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ন রাস্তা-ঘাট ভেঙ্গে চুরমার করে ধুলায় পরিণত করে দিচ্ছে। কৃষি জমির উপরিভাগের মাটি কাটাসহ চাষের উপযোগি জমি অচল করে আবাদি জমিতে পুকুর কেটে ওই যন্ত্রের দ্বারা তৈরীকৃত পরিবহন দিয়ে সেই মাটি ইটভাটায় ও বিভিন্ন কাজে সরবরাহ করছে। প্রতিনিয়ত জমি খুড়ে মাঠ থেকে বালু এবং মাটি বহন করে নিয়ে যাচ্ছে এলাকার বিভিন্ন ইট ভাটায়। শুধু এই অবৈধ ট্রাক্টরই নয় বর্তমানে আলমসাধু ও পাখিভ্যানের বিরামহীন চলাচলে গ্রাম ও ডাকবাংলার মিনি শহরের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এলাকা সূত্রে জানা গেছে, মাঝে মাঝে স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ পথচারীদের এই ট্রাক্টরের কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হয়। আর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে স্কুলগামী কোমলমতি ছোট ছোট শিশুদের পথচলা। এই ট্রাক্টর বিশালাকৃতির চাকাওয়ালা সনদবিহীন চালকেরা বেপরোয়া গতিতে চালিয়ে যায়। ফলে চলাচলকারী মানুষ সার্বক্ষণিক ভয়ের মধ্যে দিয়ে চলাচল করছে। জানা যায়, দেশের কৃষি উন্নয়ন তথা চাষাবাদের কাজে ব্যবহার করার জন্য এসব ট্রাক্টর বিদেশ থেকে আমদানির সুযোগ দেয় সরকার। এসব ট্রাক্টর ইটভাটার মালিক, মাটি ও বালি ব্যবসায়ী, কাঠ ব্যবসায়ী, লোহা ব্যবসায়ী, শিল্প মালিকসহ সাধারণ পরিবহন ব্যবসায়ীরা ক্রয় করে এটি কৃষি কাজে ব্যবহার না করে তাদের ইচ্ছা মতো কাজে ব্যবহার করছে। বর্তমানে ডাকবাংলাসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে এই ট্রাক্টরের সংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া ট্রাকের চেয়ে ট্রাক্টরের ভাড়া কম হওয়ায় এর চাহিদাও বেড়েছে বহু গুণ। ড্রাইভিং লাইসেন্সের প্রয়োজন না হওয়ায় ১২ থেকে ১৫ বছরের শিশু-কিশোরেরাও অদক্ষভাবে এসব ট্রাক্টর অবাধে চলাবার সুযোগ পাচ্ছে। বেপরোয়া গতি ও কানফাঁটা আওয়াজে চলাচলকারী এসব ট্রাক্টরের কারণে ব্যাপকভাবে পরিবেশ দূষণ দেখা দিয়েছে। সনদবিহীন ট্রাক্টর ড্রাইভারদের ভয়ে সচেতন মানুষ সার্বক্ষণিক আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে চলাচল করছে। বিশাল চাকার এই কৃষিযান রাস্তায় চলাচলের সময় কার উপর গিয়ে উঠে তা বলা মুশকিল। এ ব্যাপারে কেউ কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করছেন না বলে দাবি করেছেন এলাকার সচেতন মহলসহ স্কুল-কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। তাই এলাকার সচেতন মহলের মানুষসহ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের দাবি, ওই সমস্ত কৃষিযান ট্রাক্টর কৃষি জমি চাষাবাদের কাজে আবদ্ধ রেখে জনসাধারণকে নিশ্চিন্ত চলাচলের ব্যবস্থা করা হোক। এ ব্যাপারে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ এলাকার সুধিজনেরা প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ রাজনৈতিক জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


কমেন্ট বক্স