জীবননগরে জমে উঠেছে পানের বাজার
- আপলোড তারিখঃ
০৬-১২-২০১৮
ইং
জীবননগর অফিস: জীবননগরে জমে উঠেছে সর্ববৃহৎ পাইকারি পানের বাজার। অল্প খরচে সল্প সময়ে পান চাষ ও বিক্রি করে এখন অনেক পরিবার স্বাবলম্বী হয়েছে। এসব পান বিক্রি হয় জীবননগর পৌরসভার আম বাজারে। প্রতিদিন পান কিনতে চুয়াডাঙ্গা জেলাসহ পার্শ¦বর্তী জেলা ও উপজেলা থেকে ক্রেতারা এখানে ভিড় জমান। ভোর হতে না হতেই প্রতিদিন জমে উঠে পান বাজার। চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা যশোরসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত ব্যবসায়ীরা এখানে পান কিনতে আসে। এ অঞ্চলের পানের চেহারাটা ভালো, খেতে সুস্বাদু ও পানের গুণগতমান উন্নত হওয়ায় বাইরে এ অঞ্চলের পানের চাহিদা বেশি হওয়ার ফলে এখান থেকে ব্যবসায়ীরা পান ক্রয় করে অন্য বাজারে বিক্রি করে অথিক লাভবান হচ্ছেন। এ বাজারে দুই ধরনের পান বিক্রি হয়ে থাকে। বর্ষা মৌসুম এলেই বেড়ে যায় পানের দাম ও চাহিদা। এ উপজেলার বিভিন্ন পানচাষি ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বাজারটিতে অস্থায়ীভাবে কয়েক বছর যাবত পান বিক্রি হয়ে আসছে। বর্তমানে এ বাজারে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে পান কিনে তা মিনি ট্রাক, নসিমন, করিমন ও ভ্যানযোগে বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জের হাট বাজারে বিক্রি করছেন। জীবননগর থেকে স্বল্পমূল্যে পান ক্রয় করে অন্য বাজারে নিয়ে অধিক মূল্যে বিক্রি করে তারা লাভবান হচ্ছেন অনেক বিক্রেতা। পান চাষী উপজেলার রায়পুর গ্রামের শওকত আলী বলেন, গত ১০ বছর যাবত তিনি পান চাষ করে আসছে। বর্তমান সার, কীটনাশক ও লেবার খরচ বেশি হওয়ায় গত বছরের তুলনায় এ বছর পান চাষে লাভ হচ্ছে কম। তারপরও পান চাষ করতে হবে। সপ্তাহে ৪দিন বাজারে পান আনলে পান বিক্রি টাকা দিয়ে অন্যসব চাষে খরচ করা যায় এ জন্য পান চাষ করতে হচ্ছে।
পান ব্যবসায়ী যশোর চৌগাছার সুকুমার বলেন, গত ৬বছর যাবত তিনি এই বাজারে পান কিনতে আসে। এ অঞ্চলের পান বাইরে ব্যাপক চাহিদা থাকায় এখান থেকে পান ক্রয় করে যশোরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি করা হয়। তাছাড়া প্রতিদিন উপজেলার দুই শতাধিক পানের বরজ মালিক এ বাজারে পান নিয়ে আসে। গোবিন্দপুর গ্রামের পাইকারি পান ব্যবসায়ী ফয়েজ হোসেন বলেন, গত ২ বছর ধরে এই বাজার থেকে পান ক্রয় করে ময়মনসিংহে বিক্রি করি। এ অঞ্চলে পানের চাহিদা মিটানোর পর দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় এ উপজেলার পান সরবরাহ করা হচ্ছে। পান চাষি উপজেলার খয়েরহুদা গ্রামের মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, এ বাজারটি এখন পান বিক্রির একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসাবে বিভিন্ন জেলায় পরিচিত লাভ করেছে। এ বাজারে প্রতিনিয়ত চুয়াডাঙ্গা সদর, মহেশপুর, দামুড়হুদা, কোঁটচাঁদপুর, খালিশপুর, কালীগঞ্জ, যশোর চৌগাছাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন মিনি ট্রাক, ভ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন নিয়ে পান কিনতে আসেন। প্রতিদিন সকাল সকালে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার পান বিক্রি হয়ে থাকে বলে ব্যবসায়ী সূত্রে জানা যায়। এ বাজারে পান বিক্রি করে উপজেলার অনেক কৃষি পরিবার স্বাবলম্বী হলেও স্থায়ীভাবে পানের বাজার না থাকায় পানচাষিরা হতাশ। তাই এলাকার পানচাষিসহ সুশীল সমাজের সবাই জীবননগর বাজারে একটি স্থায়ীভাবে পানের বাজারের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
কমেন্ট বক্স