শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জীবননগরের দৌলৎগঞ্জে স্থলবন্দর চালুর বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

  • আপলোড তারিখঃ ২৭-১১-২০১৮ ইং
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জীবননগরের দৌলৎগঞ্জে স্থলবন্দর চালুর বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার দৌলৎগঞ্জে স্থলবন্দর চালুর বিষয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিরাজুল ইসলাম ও জীবননগর-দামুড়হুদা সার্কেলের এএসপি আবু রাসেলসহ আরো অনেকে। জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিরাজুল ইসলাম বলেন, এটা আসলে দুই দেশের সিদ্ধান্তের বিষয়। বাংলাদেশ পরারাষ্ট্রমন্ত্রনালয় থেকে ভারতের পরারাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের সাথে পত্র যোগাযোগ হয়েছে। এবিষয়ে আমরা রেজ্যুলেশন নিয়ে এসে পরারাষ্ট্রমন্ত্রনালয়কে অনুরোধ করবো কাজটি তরান্বিত করার জন্য। দৌলতগঞ্জ-মাঝদিয়া স্থলবন্দরে উদ্বোধনের পাঁচ বছরেও শুরু হয়নি আমদানি রফতানি কার্যক্রম। এতে অনেকটাই হতাশ এলাকাবাসী। দৌলতগঞ্জ-মাঝদিয়া স্থলবন্দরটির ১৯৫৪ সাল থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত শুল্ক স্টেশনের কার্যক্রম চালু ছিল। তবে ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের সময় শুল্ক স্টেশনটি বন্ধ হয়ে যায়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে শুল্ক স্টেশনটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশে পুনরায় চালু হয়। ১৯৯৪ সালের ৩ নভেম্বর এস.আর.ও. ১৩৬-আইন/৯৪/১৫৬৮ শুল্ক নম্বর প্রজ্ঞাপন মোতাবেক সকল প্রকার পণ্য আমদানি-রফতানির আদেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ১৯৯৫ সালে শুল্ক স্টেশনটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। ২০০৯ সালের ১১ জুন প্রজ্ঞাপন নম্বর-২৬২/২০৮/শুল্কের মাধ্যমে সকল প্রকার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে ১৯টি পণ্যের আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত ২০০৯ সালের শুল্ক এস.আর.ও. বুকলেট মোতাবেক দৌলতগঞ্জ-মাঝদিয়া স্থলবন্দর দেশের মধ্যে ১৪তম। বাংলাদেশ সরকার ২০১৩ সালে ৩১ জুলাই দৌলতগঞ্জ-মাঝদিয়া পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে। কিন্তু বর্তমানে স্থলবন্দরটি উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণের সিদ্ধান্তের অপেক্ষাধীন থাকায় বন্দরটি এখন পর্যন্ত চালু হয়নি। দৌলতগঞ্জ-মাঝদিয়া স্থলবন্দর বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক ও জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু মো. আব্দুল লতিফ অমল বলেন, ‘স্থলবন্দর চালুর জন্য যে সমস্ত অবকাঠামো প্রয়োজন তার সবকিছু দৌলতগঞ্জ মাঝদিয়া স্থলবন্দরে আছে। এখন শুধু বন্দর কর্তৃপক্ষ চেষ্টা করলে এটি চালু হবে। জীবননগর পৌরসভার মেয়র জাহাঙ্গীর আলম আশাবাদী বন্দরটি চালুর বিষয়ে। তিনি বলেন, জীবননগরবাসীর প্রাণের দাবি এই স্থলবন্দরটি চালু হওয়া এই বন্দরটি চালু হলে জীবননগর উপজেলার বেকার কমে যাবে পাশাপাশি যে ব্যবসায়ীরা আছে যারা ভারত থেকে মালামাল আমদানি রপ্তানি করে তাদের জন্য অনেক রাস্তা কম হবে এবং খরচ কমবে।' জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মর্তুজা বলেন, 'দৌলদগঞ্জ-মাঝদিয়া স্থলবন্দরটি গত পাঁচ বছরেও কার্যক্রম চালু না হওয়ায় এলাকার সাধারণ মানুষ হতাশ।' উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে ২৪ আগস্ট নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান আনুষ্ঠানিকভাবে দৌলতগঞ্জ-মাজদিয়া স্থলবন্দরটির উদ্বোধন করেন।


কমেন্ট বক্স