একজন পাখি প্রেমী নিরঞ্জন শিকদার
- আপলোড তারিখঃ
২৫-১১-২০১৮
ইং
জীবননগর অফিস: জীবননগরে পাখিদের খাওয়ানোয় যার কাজ। ঠিক সকাল ৭টা পুরো জীবননগর শহরটা যখন থমথমে বিরাজ করে, সকালে সবাই যখন শরীরটাকে সুস্থ রাখার জন্য রাস্তা দিয়ে হাটায় ব্যস্ত। তখন জীবননগর শহরের মেইন বাসস্ট্র্যান্ডে সকালেই চোখে পড়লো একটু ব্যতিক্রমী দৃশ্য। দোকানের কারিগররা সকালে আগর বাতি, ধুপধুনু আর দোকানে রকমারী খাবার সাজানোয় ব্যস্ত ছিল। তখন পাখি প্রেমী আদি বাঘাট মিষ্টান্ন ভান্ডারের সত্বাধিকারী নিরঞ্জন শিকদার পাখিদের খাওয়নোয় ব্যস্ত ছিলেন। হাতে খাবারের প্যাকেট, মুখে পাখির ডাক এ জন্য একটু চোখ জোড়ানোর মত ঘটনা। পাখিদের ডাকতেই মিনিট দু’য়ের মধ্যেই আকাশ থেকে নেমে এলো শালিক পাখির একটি ঝাঁক। মনে হচ্ছিল পাখিগুলো যেন তার হাতেয় পোষা। প্রায় ২০ মিনিট দাঁড়িয়ে থেকে পাখিদের এই দৃশ্য দেখে মনটা জুড়িয়ে গেল। ইচ্ছে হলো পাখি প্রেমী নিরঞ্জন শিকদারের সাথে কথার বলার। তার সাথে কথা বলতেই তিনি বলেন, আমি দীর্ঘ ৭ বছর যাবত এই কাজটি করে আসছি। প্রতিদিন ভোরে হেটে এসে দোকানের সামনে দাঁড়াতেই পাখিগুলো আমার হোটেলের সামনে হাজির হয়। তাদের খাবার দিলে খাবার খেয়ে আবার চলে যায়। আমি যদি একদিন দেরি করে আসি, আমি যতক্ষন আসবো না ততক্ষন পর্যন্ত সমস্ত শালিক পাখিগুলো আমার দোকানের উপরে বসে থাকে। আমি দোকানে এসে ডাক দিলেই তারা আমার দোকানের সামনে হাজির হয় এবং খাবার খেয়ে চলে যায়। পাখিদের এই দৃশ্য আমার কাছে অনেক ভালো লাগে। বিশেষ করে বর্তমান সময় পাখি দেখা যায় না বললেই চলে। আগে গ্রামের বাড়িতে বাঁশ গাছে শালিক পাখির ডাকে সকালে সবার ঘুম ভাঙতো। কিন্তু এখন বাঁশ গাছও তেমন নেয় এবং শালিক পাখিও প্রায় বিলিন হওয়ার পথে। এই পাখিগুলো যদি আবার ফিরে আসে সে জন্য এ উদ্দ্যোগ নেয়া। তা ছাড়া পাখিদের খাবার দেওয়া এখন আমার কাছে একটা নেশায় পরিণত হয়ে গেছে। একদিন তাদের নিজ হাতে খাবার দিতে না পারলে সারাদিনটা আমার ভালো লাগে না। তাই শত ব্যস্ত থাকলেও আমি সকালে তাদের নিজ হাতে খাবার দিয়ে যায়। এদিকে নিরঞ্জন শিকদারের পাখিদের খাবার দেওয়ার দৃশ্য দেখতে অনেকে সকালে তার দোকানের সামনে ভিড় জমায়। কথা হয় বশির উদ্দিনের সাথে তিনি বলেন, নিরঞ্জন শিকদার প্রতিদিন সকালে শালিক পাখিদের খাবার দেয় এবং দলবেধে পাখিগুলো সব তার দোকানের সামনে হাজির হয়। এই দৃশ্য দেখার জন্য প্রতিদিন সকালে হাটার পর তার দোকানের সামনে আমরা ছুটে আসি। তবে তার এ উদ্দ্যোগটি আসলেই ভালো উদ্দ্যোগ। নিরঞ্জন শিকদারের মত যদি সবাই পাখিদের না মেরে ভালোবাসতো তাদের সংরক্ষনের জন্য ব্যবস্থা করতো, তা হলে নতুন প্রজন্ম পাখিদের সম্বন্ধে আরো জানতে পারতো।
কমেন্ট বক্স