শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

শীতের আগমনে কুমড়ো বড়ি দিতে ব্যস্ত গ্রামীণ নারীরা!

  • আপলোড তারিখঃ ২৮-১০-২০১৮ ইং
শীতের আগমনে কুমড়ো বড়ি দিতে ব্যস্ত গ্রামীণ নারীরা!
আকিমুল ইসলাম: ভোজ বিলাসী বাংলাদেশের গ্রাম থেকে শহর; সব সমাজের মানুষ চাই একটু তৃপ্তিপুরে খাবার খেতে। গ্রামের মিঠা পানির মাছ, ডিম, আলু কিংবা ফুলকপি যে কোন তরকারির একটা বাড়তি স্বাদ আনতে যেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কুঁমড়া আর কলাই ডালের বড়ি। বলা হচ্ছে, শীতের আগমনে গ্রামীণ সমাজের ঐতিহ্যবাহী কুঁমড়া বড়ির কথা। শীতের আগমনে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের গৃহবধূরা কুঁমড়া আর কলাই ডালের তৈরি বড়ি বানাতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। শীতকে স্বাগত জানিয়ে প্রত্যেকটি গ্রামের ঘরে ঘরে চলছে কলাই আর চালকুঁমড়া দিয়ে বড়ি বানানোর মহোৎসব। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় তাদের বড়ি তৈরির রাঙা উৎসব। শীতের শুরুতেই পাড়া মহল্লার গৃহিণীরা একত্রিত হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হাতে তৈরি এ মজাদার খাবার তৈরিতে বেশ ব্যস্ত। ভোরে উঠে কেউ ছুটছেন ঢেঁকির কাছে, কেউ শীলপাটা কেউবা আবার বড়ি শুকানো নেট/জালির কাছে। আবার অনেকে যাচ্ছেন বৈদ্যুতিক মেশিনের কাছে। সবার উদ্দেশ্য খাবার টেবিলের বাড়তি স্বাদের জন্য বড়ি তৈরির মূল উপাদান বানানো। জানা যায়, গ্রাম বাংলার যতগুলো ঐতিহ্য প্রবহমান তার মধ্যে অন্যতম একটি চালকুঁমড়ার তৈরি বড়ি। শীত মৌসুম মানেই গ্রাম বাংলার মানুষের নতুন নতুন খাবার তৈরির মৌসুম। শীতের পিঠা, ক্ষির, পায়েশের পাশাপাশি চালকুঁমড়া আর ডালের তৈরি বড়িও একটি সুস্বাদু খাবার বলে পরিচিত। শীতের দিনে গৃহিণীর রান্না করা প্রতিটি তরকারির সঙ্গে যদি বড়ি না থাকে তাহলে খাবার যেন অপূরণীয় থেকে যায়। সেই বড়ি বানানোর কাজে তিতুদহের প্রতিটি গ্রামের গৃহবধূরা ব্যস্ত সময় পার করছে। বড়ি তৈরির উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, কালো কলাই ও চাল-কুঁমড়া। কুঁমড়ার অবর্তমানে অনেকে মূলা অথবা পেঁপেকে ব্যবহার করেন। কলাই পাথরের যাতাই মাড়াই করে ভালোভাবে পরিষ্কার করে পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়। এর সঙ্গে যোগ হয় পাকা চাল কুঁমড়া অথবা মুলা কিংবা পেঁপে। গৃহিণীরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে চাল কুঁমড়ার ভেতর থেকে তার মুল উপাদান বের করেন। এরপর উভয় উপাদান মিশিয়ে ঢেঁকি বা যাতায় পিষে পেস্টের মতো একটি উপাদান তৈরি করেন। এই উপাদান তৈরিতে গ্রাম্য বধূদের খুব পরিশ্রম করতে হয়। এক সময় বড়ির এ উপাদান তৈরি করতে কেবলমাত্র ঢেঁকি ব্যবহার করা হলেও বর্তমান ডিজিটাল যুগে বেশ পরির্বতন এসেছে। কালের বিবর্তনে ঢেঁকি যখন বিলুপ্তির পথে তখন এর জায়গা দখল করে নিয়েছে ইঞ্জিনচালিত মেশিন। খাড়াগোদা গ্রামের এক গৃহবধূ জানান, শীত এলেই তাদের গ্রাম অঞ্চলের লোকজন বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। পাড়ার অনেক পরিবার একত্রিত হয়ে তারা বড়ি বানান। ধনী-গরিব সবাই এ বড়ির প্রতি দুর্বল। কেননা বড়ি প্রতিটি তরকারিতে বাড়তি স্বাদ এনে দেয়। বড়ি ভেঙে পিঁয়াজ, রসুন, কাঁচা মরিচ দিয়ে ভাজি করলে এক চমৎকার খাবার তৈরি হয়। এছাড়া বড়ি দিয়ে রান্না করা বেগুন, লাউ, ফুলকপি, আলু ইত্যাদি তরকারির যেন স্বাদই আলাদা। বড়ি হচ্ছে মধ্যবিত্ত ও নি¤œ মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য মাছ মাংসের সমান।


কমেন্ট বক্স
notebook

কার্পাসডাঙ্গায় কাচামাল ব্যবসায়ীর ছু*রিকাঘা*তে ফল ব্যবসায়ী মধু নি*হ*ত