জীবননগর চলছে খেজুর গাছ তোলার ধুম
- আপলোড তারিখঃ
১০-১০-২০১৮
ইং
জাহিদ বাবু/মিঠুন মাহমুদ/এ আর ডাবলু: বাংলার প্রকৃতি থেকে আশ্বিন মাস বিদায় নিয়ে আসছে কার্তিক মাস। তবে এবার আশ্বিনের শেষ দিক থেকেই চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগরসহ আশপাশের অঞ্চল জুড়ে শীতের আবহ বিরাজ করছে। জীবননগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস সংগ্রহের পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে আগাম গাছ ঝুড়ার কাজ শুরু করেছেন গাছীরা। যদিও এই মধু বৃক্ষের রস ও গুড় তৈরি হয়ে থাকে শীতকালে। তবুও আগাম এই মধু বৃক্ষের রস ও গুড় তৈরি করতে ও অধিক দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে অনেক কৃষকই আগাম খেজুরের গাছ ঝুড়তে শুরু করেছেন।
গতকাল সকালে চুয়াডাঙ্গা জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা জীবননগরের মনোহরপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রাম সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, অনেক গাছী খেজুরের গাছ ঝুড়ছেন। এ সময় তাদের ব্যস্ততা দেখেও কথা বলতে চাইলে মনোহরপুর গ্রামের গাছী আব্দুস সামাদ, ধোপাখালী গ্রামের আনিচুর রহমান ও খালিদ হাসান বলেন, ‘সময় না হলেও আমরা একটু আগামই গাছ ঝুড়ছি। কারণ এ বছর আবহাওয়া টা অনুক‚লেই রয়েছে। তাছাড়াও আগাম রস নামাতে পারলে বাজারে চাহিদা ও দাম ভালো পাওয়া যাবে। গাছীরা মনে করেন গ্রাম-বাংলার সম্ভাবনাময় লাভজনক এই খাতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় দিনে দিনে খাত টি বিলুপ্তির পথে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অবহেলায় বেড়ে উঠা খেজুরের গাছের কদর এখন অনেক বেশি। সকাল থেকে শুরু হয় মধু বৃক্ষ খেজুরের গাছ ঝুড়ার কাজ। কয়েকদিন পরেই এ সকল গাছ থেকে শুরু হবে রস সংগ্রহ। এই মধু বৃক্ষকে ঘিরে গ্রামীণ জীবনে শুরু হয়েছে কর্মচাঞ্চল্য। খেজুরের রস ও গুড় দিয়ে তৈরি করা হয় হরেক রকমের পিঠা-পুলি, ক্ষির ও পায়েস। আর কিছুদিন পর থেকে উপজেলার বাজারগুলোতে উঠতে শুরু করবে সুস্বাদু খেজুরের পাটালি, গুড়, মধু বৃক্ষ খেজুরের রস, গুড় ও পাটালি উৎপাদনে সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন মনোহরপুর, সীমান্ত, আনন্দুলবাড়ীয়া, উথলী, রায়পুর, কেডিকে ও হাসাদহ ইউনিয়ন প্রসিদ্ধ। এ অঞ্চলের খেজুর গুড়ের পাটালি রাজশাহী, ঢাকা, চাঁপাই, টাঙ্গাইল, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ হয়ে থাকে। কিছু অসাধু মুনাফালোভী গুড় উৎপাদনকারীর কারণে উপজেলার এই ঐতিহ্য ¤øান হতে চলেছে। বর্তমানে উপজেলার কয়েক হাজার পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে খেজুর গাছের ওপর নির্ভরশীল। সরকারের সুদৃষ্টির মাধ্যমে এই খাতের উন্নয়ন আশা করেন স্থানীয়রা।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম রেজা সময়ের সমীকরণ’ কে বলেন, উপজেলায় কোনো অসাধু ব্যবসায়ী ভেজাল খেজুরের গুড় উৎপাদন করতে না পারে সে ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে আছে। পাশাপাশি ভেজাল গুড় উৎপাদন রোধে প্রয়োজনীয় মোবাইল কোর্ট পরিচাল করা হবে বলেও জানান তিনি।
জীবননগর উপজেলার কৃষি অফিসার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, খেজুরের গাছ এই উপজেলায় অন্যতম সম্পদ যা রক্ষার্তে কৃষি অফিস থেকে কৃষক পর্যায়ে বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
কমেন্ট বক্স